ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২১
সর্বশেষ:

কাতারে দিল্লি-তালেবান বৈঠক, ভারতের বিরুদ্ধে মদত না দেয়ার আশ্বাস 

নিউজওয়ান২৪ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪০, ৩১ আগস্ট ২০২১  

তালেবান শীর্ষ নেতা শের মহম্মদ আব্বাস স্টানিকজাই    ছবি: সংগৃহীত

তালেবান শীর্ষ নেতা শের মহম্মদ আব্বাস স্টানিকজাই ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় কূটনীতিকরা মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে আফগান তালেবানদের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান শের মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। আজ মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) কাতারস্থ ভারতীয় দূতাবাসে দেশটির রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তালের অনুরোধে আলোচিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

তালেবানদের অন্যতম শীর্ষ নেতা শের মহম্মদ আব্বাস স্টানিকজাই কাতারের রাজধানী দোহা থেকে সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে কোনও রকম সহযোগিতা করবে না আফগান তালেবানরা৷ শুধু তাই নয়, ভারতের সঙ্গে উল্টো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তেই আগ্রহী তালিবানরা- এমন জানান স্টানিকজাই৷

তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানকে ঘিরে থাকা প্রতিবেশী সব দেশসহ গোটা বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলাই তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রাধিকার পাবে৷ এমন কি, সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর আমেরিকা এবং ন্যাটো-র সদস্য দেশগুলির সঙ্গেও তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তালেবানদের অন্যতম শীর্ষ এই নেতা৷

কাতারে আফগান তালেবান রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান শের মোহাম্মদ বলেন, ‘আমার মতে ওদের ফিরে এসে আফগানিস্তানের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া উচিত৷ ভারতের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য৷ আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় আগ্রহী৷ শুধু ভারত নয়, তাজিকিস্তান, ইরান, পাকিস্তান- সবার সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলবো আমরা৷’

তার মতে, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে তালেবানরা ভারতের বিরুদ্ধে মদত দেবে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা অমূলক৷ এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা কখনোই এ রকম কিছু বলিনি বা এমন কোনো ইঙ্গিতও করা হয়নি আমাদের পক্ষ থেকে৷’

বিশ্লেষকদের মতে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে যাওয়া শের মোহাম্মদ  জানিয়েছেন, কাবুল বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের কোনো যোগ নেই৷ তার দাবি, ইরাকের আইসিস এবং লেভান্ত জঙ্গি গোষ্ঠী মিলে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে৷

ভারতীয় পক্ষকে নির্ভয় দিয়ে বলেন, যে আফগান এবং শিখরা এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে রয়েছেন তাদের আতঙ্কিত হয়ে দেশ ছাড়ার কোনো প্রয়োজন নেই৷ আফগানিস্তান তাদের নিজস্ব জায়গা৷ সবাই এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে৷ কেউ এদের কোনো ক্ষতি করবে না৷ তারা যেমন এতদিন আফগানিস্তানে ছিলেন, এখনও সেভাবেই বসবাস করতে পারেন৷

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন কুয়েত ও ১৫ জুন কেনিয়া সফর করা ভারতীয় পররাষ্টমন্ত্রী এস জয়শংকর এক ফাঁকে দোহায় গিয়ে কাতারের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সময় কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় জয়শংখরের। সেই বৈঠকের পরই তালেবানদের সঙ্গেও তার বৈঠকের তথ্য জা‌নায় কাতার সরকার। ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় তখন কিছুই বলা হয়নি।

গত জুন মাসের মেষদিকে ‘আরব সেন্টার ওয়াশিংটন ডিসি’ আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে ভারত-তালেবান বৈঠকের তথ্য জানিয়েছিলেন কাতার সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মুতলাক বিন মাজেদ অল কাহতানি। তখন কাহতানি বলেছিলেন, ‘তালেবানদের সঙ্গে গোপনে আলোচনা করতে ভারত থেকে প্রতিনিধি দল কাতারে গিয়েছিল। কেন? এই জন্য নয় যে, সবাই ধরেই নিয়েছে আফগানিস্তানে এবার তালেবানদেরই আধিপত্য হবে ও তারাই ক্ষমতা দখল করে নেবে। তবে তালেবানরা এখনই সেখানকার মুখ্য শক্তি হয়ে উঠেছে অথবা আগামী দিনে তারা মুখ্য শক্তি হয়ে উঠতে পারে এটা ভেবেই বৈঠকটি করা হয়।’

নিউজওয়ান২৪.কম/এসএ

আরও পড়ুন
বিশ্ব সংবাদ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত