ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২০
সর্বশেষ:
আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

এন্ড্রু কিশোর মারা গেছেন

শোবিজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২৪, ৬ জুলাই ২০২০  

এন্ড্রু কিশোর- ফাইল ফটো

এন্ড্রু কিশোর- ফাইল ফটো


কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর দীর্ঘ ১০ মাস ধরে ক‌্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা গেলেন। তিনি আটবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সেই জন্মভূমির মাটিতেই। মৃত্যুর আগে তার অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহীর একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন এ গায়ক। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।এন্ড্রু কিশোরের বড় বোনের স্বামী ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান এই সংগীতশিল্পী। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামক ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে তার চিকিৎসা শুরু হয়। সেখানে দীর্ঘ নয় মাস চিকিৎসা শেষে গত ১১ জুন দেশে ফেরেন তিনি। এরপর রাজধানীর মিরপুরের বাসায় কয়েকদিন থাকার পর নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে যান। 

জন্মের পর রাজশাহীতেই কেটেছেএন্ড্রু কিশোরের শৈশব ও কৈশোর। এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। একসময় গানের নেশায় রাজধানীতে ছুটে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতীজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানে প্রথম দর্শক তার গান শুনে এবং গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর আর চলচ্চিত্রের গানের জন্য পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেন বাংলা চলচ্চিডত্রের প্লেব্যাক সম্রাট।

এন্ড্রু কিশোরের খুব জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘পদ্মপাতার পানি’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আমি চিরকাল প্রেমের কাঙাল’ প্রভৃতি। 

এন্ড্রু কিশোর তার সংগীত ক্যারিয়ারে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পাঁচবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার, মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। এন্ড্রু কিশোরের দুটি সন্তান রয়েছে। প্রথম সন্তানের নাম সংজ্ঞা আর দ্বিতীয় জনের নাম সপ্তক।

নিউজওয়ান২৪.কম/এমজেড