ঢাকা, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ

আধমণের হরিণ গিলে খেল পনের ফুটের অজগর (ভিডিও)

জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ২৯ এপ্রিল ২০১৬   আপডেট: ১২:৪১, ২৩ মে ২০১৬

মৌলভীবাজার: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এক হরিণকে আস্ত গিলে খেয়েছে বিশাল আকৃতির এক অজগর।অজগরটি বিশাল, তবে যে হরিণটিকে সে গিলে খেয়েছে সেটিও কম বড় নয়- প্রায় ১৮ কেজি ওজন হবে তার।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতয়ি উদ্যানের কালাছড়ার চাউতলী বন বিটের ২ নম্বর সেক্টরে এ ঘটনা ঘটে। অজগরের হরিণ গিলে খাওয়ার চলমান ঘটনা জানাজানি হযে গেলে এ দৃশ্য দেখতে আশপাশের লোকালয় থেকে উৎসুক লোকজন ছুটে আসে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি তাদের নজরে আসে। প্রায় ১৫ ফুট লম্বা অজগরটি প্রায় ১৮ কেজি ওজনের হরিণটিকে গিলে খেতে সময় নেয় দুই ঘণ্টা। প্রথমে বাম পায়ে কামড় দিয়ে হরিণটিকে পাকড়াও করে অজগরটি। পরে মাটিতে ফেলে দিয়ে হরিণটির সারা শরীরে পেঁচিয়ে তাকে কব্জায নেয়। এভাবে ক্রমশ শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দ্রুত ছুটতে পারার জন্য খ্যাত

প্রাণীটিকে। এরপর হরিণটির মাথার দিক থেকে গিলতে শুরু করে অজগরটি। বনবিভাগের কর্মী ছাড়াও সেখানে তখন জড়ো হয় উৎসুক লোকজন।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান সংবাদ পেয়ে সহকর্মীদের নিয়ে ছুটে যান বনে। তিনি বলেন, এটি প্রকৃতির সাধারণ নিয়ম, একই সঙ্গে প্রাণীদের খাদ্যশৃংখলের উজ্জ্বল উদাহরণ। এমন দৃশ্য প্রকৃতিতে অনেক হয়, কিন্তু চোখে দেখার সুযোগ হয় না। এখন বলা যায়, লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষিত রয়েছে।

বনবিভাগে তার কর্মজীবনে এই প্রথম এরকম দৃশ্য তিনি দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি এটিকে ইতিবাচক দিক বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রায়ই অজগর খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ছুটে যায়। কিন্তু বর্তমানে এটি কমেছে। বলা যায় প্রাণীকূলের যে ইকো ব্যালান্স, তা এই বনে ফিরতে শুরু করেছে।

সাপটির খাবার শেষ হলেও দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘটনাস্থলেই অবস্থান করতে থাকে। তাই এটি যাতে বনের বাইরে না যায় এবং কেউ তাকে বিরক্ত না করে সেজন্য নজর রাখতে চাউতলী বিটের বনকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ খ্যাতিমান প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষনবিদ সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন, এক সময় এই বনের সকল জীবজন্তু তাদের ন্যাচারাল খাবার খেয়েই সেখানে বসবাস করতো। বর্তমানে বনে গাছপালা কমে যাওয়ায় সেখান থেকে তাদের খাবার যোগানও কমে গেছে।

তিনি জানান, অজগর সাধারণত ইঁদুর, খরগোশ, হরিণের বাচ্চা ধরে খায়। বনে এ জাতীয় খাবার না থাকায় প্রায়ই অজগর ছুটে আসে লোকালয়ে। ছাগল, মুরগি, হাঁস ধরে খায়। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে মানুষের হাত থেকে উদ্ধার করে এবং তার সেবা ফাউন্ডেশনে ডিম থেকে বাচ্চা ফেটানো শতাধিক অজগর লাউয়াছড়া, চাউতলী ও রেমা কালেঙ্গা বনে অবমুক্ত করেছেন তিনি।

নিউজওযান২৪.কম/এসআর

আরও পড়ুন
স্বদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত