ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ খুবই জরুরি

আগে ব্যবস্থা নিলে নুসরাত হত্যা এড়ানো যেত: মানবাধিকার কমিশন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৩:০৫, ১৩ এপ্রিল ২০১৯  

মৃত্যুশয্যায় নুসরাত (বামে) ও শিক্ষকরূপী দানব সিরাজ-উদ-দৌলা (যানে)    -ফাইল ফটো

মৃত্যুশয্যায় নুসরাত (বামে) ও শিক্ষকরূপী দানব সিরাজ-উদ-দৌলা (যানে) -ফাইল ফটো

আগে ব্যবস্থা নিলে নুসরাত হত্যা ঠেকানো যেত বলে মত প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক আল মাহমুদ ফয়েজুল কবির। 

শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে  অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ‘হোতা’ আখ্যায়িত করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক বলেন, “নুসরাতকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, যার মাস্টারমাইন্ড সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। এ ঘটনার সঙ্গে তার সহযোগী ও দোসররা জড়িত। 

ফয়েজুল কবির বলেন, “শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়ত নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা এড়ানো যেত।”

নিহত নুসরাতের পরিবার গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ্য সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তার পক্ষ থেকে নানাভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া শুরু হয়। স্থানীয় থানার ওসিও ভিকটিমের পাশে না দাঁড়িয়ে নানান ছল-চাতুরি শুরু করেন অধ্যক্ষের পক্ষে। এতকিছুর পরেও মামলা তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল সকালে পরীক্ষা দিতে যাওয়া নুসরাতকে ধোঁকা দিয়ে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগ পরিচালক ফয়েজুল কবির সাংবাদিকদের বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে ২৭ মার্চের ঘটনার সঙ্গে ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার যোগসূত্র রয়েছে।”

এর আগে ফয়জুল কবিরের নেতৃত্বে তদন্ত দলের ২০ সদস্য সোনাগাজী মাদ্রাসায় যান। পরে তারা নুসরাতের বাড়ি সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামে যান। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত দল।

ঘটনার দিন অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসাপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁপিূর্ণ ছিল। তাই তাকে আর সিঙ্গাপুরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। গত বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

নিউজওয়ান২৪.কম/এলএন

আইন আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত