সমুদ্র ও সমুদ্রের গভীরতা
নিউজ ডেস্ক
ফাইল ছবি
কথিত রয়েছে, পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টের গভীরতা এতো বেশি যে সেখানকার মাটি খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
ঠিক তেমনি গ্রামাঞ্চলেও বিভিন্ন পুকুর বা দীঘি নিয়েও এমন কথার প্রচলন রয়েছে। তাই যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে প্রশ্ন থেকে যায়, সাগর বা মহাসাগরের গভীরতা ঠিক কতটুকু?

সমুদ্রের সবচেয়ে গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। যেটি মারিয়ানা আইল্যান্ডের পাশে অবস্থিত। সমুদ্রের সবচেয়ে গভীরতম এই স্থান ভি আকৃতির। জায়গাটি এতোটাই গভীর যার ভেতর দিয়ে অনায়াসেই এভারেস্ট পর্বত শৃঙ্গকে প্রবেশ করানো যাবে! জায়গাটি ১ হাজার ৫০০ মিটার লম্বা এবং এর গভীরতা প্রায় ১১ হাজার মিটার। তবে গভীরতার সঠিক পরিমাপ আদেও হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে স্বয়ং বিজ্ঞানীরাই সন্দেহ পোষণ করেছেন। একটি সমুদ্রের গভীরতা সর্বোচ্চ ১১ হাজার থেকে ১৫ হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
সাগরের ৩০০ ফুট নিচে গেলে দেখা যাবে নীল তিমি। সাগরের ৭০০ ফুট নিচে সাবমেরিনগুলো চলাচল করে। বিশ্বে সর্বপ্রথম ৭০০ ফুট নিচে সাবমেরিন স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। সাগরের ৮৩১ ফুট নিচে এতো বেশি চাপ থাকে, যা মানুষের ফুসফুস চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারে। ৮৩১ ফুট নিচে যদি কেউ যেতে চায় তাহলে তাকে এমন কোনো পদ্ধতি আবিস্কার করতে হবে যাতে করে সে এই গভীরতায় নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। নীল তিমি তার খাবার সংগ্রহ অর্জনে ৬০০ মিটার পর্যন্ত গভীরে চলে যায়। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সমুদ্রের ২ হাজার ৪০০ ফুট নিচে যে সাবমেরিনগুলো রয়েছে সেগুলোর গঠনগত ক্ষতি হতে পারে যদি আরো বেশি নিচে সেগুলো নামানো হয়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এর নিচে সাবমেরিন নামানো সম্ভব নয়।

সমুদ্রের ২ জাজার ৭২২ ফুট নিচে যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নির্মাণ বুর্জ খলিফা অনায়াসেই প্রবেশ করানো যাবে। ৩ হাজার ২৮০ ফুট নিচে সমুদ্র এতোটাই ভয়ঙ্কর, সেখানে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না। এই গভীরতার সঙ্গে ভূ-পৃষ্ঠের উপরের প্রাকৃতিক জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। 'মিডনাইট জোন' খ্যাত সাগরের ৭ হাজার ৫০০ মিটার নিচে অনেক প্রাণী বসবাস করে তারা দেখতে পায় না। তবে সেখানে এক ধরনের চিংড়ি এখানে পাওয়া যায়। এখানে কিছু ক্ষেত্রে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি আবার কিছু ক্ষেত্রে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অবস্থান রয়েছে এবং এখানকার তাপমাত্রা গড়ে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে যেখানে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অবস্থান রয়েছে সেখানকার তাপমাত্রা ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে।

টাইটানিক জাহাজ যেখানে ডুবেছিল সেখানকার গভীরতা ছিল প্রায় ১২ হাজার ৫০০ ফুট। জায়গাটিতে আজ পর্যন্ত কেউ পৌঁছাতে পারেনি এমনকি এই গভীরতায় আজ পর্যন্ত কোরিয়ান তিমিও পৌঁছাতে পারেনি। এখানকার চাপ ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৭৮ গুণ বেশি। এত চাপ থাকা সত্ত্বেও এখানে অনেক প্রাণী বসবাস করে। যেমন হাগফিশ ও ডাম্বো অক্টোপাস।সমুদ্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গভীরতা হচ্ছে ২০ হাজার ফুট। একমাত্র মারিয়ানা ট্রেঞ্চে ২০ হাজার ফুটের চেয়ে গভীরতম স্থান রয়েছে।

জেমস পিকার্ড নামক এক ডুবুরি সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করাকে একটি চ্যালেঞ্জ মনে করে সাবমেরিন নিয়ে সমুদ্রের গভীরে যেতে থাকেন। দশ হাজার ফুট যাওয়ার পর তিনি দেখেন এতো গভীরেও অনেক প্রাণী বসবাস করে এবং সেখানকার চাপ প্রতি স্কয়ার কিলোমিটারে প্রায় তিন টনেরও বেশি। এই চাপে সাধারণ লোহাও বেঁকে যেতে পারে। সেখানে মাত্র ২০ মিনিট অবস্থান করে এই তথ্যগুলো জানান।

১৯৬০ সালের পর থেকে বিজ্ঞানীরা অনেক বেশি সাবমেরিন সমুদ্রের গভীরে পাঠানো শুরু করে। তারমধ্যে 'কায়কো' নামের একটি সাবমেরিন তিন হাজার পাঁচশ ফুট পর্যন্ত গভীরে যায় এবং ৩০০ এর অধিক নতুন প্রজাতির প্রাণীর ছবি পৃথিবীতে নিয়ে আসেন।বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করে বলেন, পৃথিবী যেহেতু গোলাকার সে হিসেবে নিশ্চিতভাবেই সমুদ্রের একটি নির্দিষ্ট গভীরতা রয়েছে এবং তারা আরো বলেন সমুদ্রের ভেতরে রয়েছে পৃথিবীর মতো সমতল ভূমি, গভীর খাত এবং কিছু জায়গায় রয়েছে পাহাড় ও পর্বত।
নিউজওয়ান২৪/আরএডব্লিউ
- বাঙালির বংশ পদবীর ইতিহাস
- গন্ধভাদালি লতার উপকারিতা
- ‘ময়ূর সিংহাসন’
- মিশরীয় সভ্যতা এবং নীল নদ
- ব্যবহারের আগে জানুন প্লাস্টিক বোতলে চিহ্নের মানে কী
- মধ্যযুগের ইতিহাস
- পবিত্র কাবা শরীফের অজানা যত তথ্য
- বিকাশ নগদ এবং রকেট’র ভুল নম্বরে টাকা চলে গেলে ফেরত পাবেন যেভাবে
- হ্যালুসিনেশন আসলে কী, রোগ না অন্য কিছু?
- পিরামিডের অজানা তথ্য…
- চুম্বকের আদ্যোপান্ত...
- ‘রক্ত’ রঙের রহস্য...
- ‘চুম্বন’ আদর ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ
- ‘ধানমন্ডি’ নামকরণের ইতিহাস
- প্রথম মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস

ফ্রিতে আইটি প্রশিক্ষণ, কোর্স শেষে চাকরির সুযোগ
ফোনের চার্জ কখনো ফুরাবে না, যদি...
Not a UFO, but... (Video)
হজ ফরজ হওয়ার পর মাহরাম না থাকলে নারীদের করণীয়