‘ভাইরাল বয়’ অরুণের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
সাতরং ডেস্ক
অরুণ এখন আর স্রেফ একজন ‘ভাইরাল বয়’ নয়; সে হাজারো সুবিধাবঞ্চিত তরুণের অনুপ্রেরণা। ছবি: অন্তর্জাল
ডিজিটালাইজেশনের বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার সাধারণত ভাইরাল ভিডিও মানেই সাময়িক বিনোদন, কিন্তু ভারতের কেরালা রাজ্যের তরুণ অরুণ-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। একটি অকৃত্রিম হাসি কীভাবে দারিদ্র্যের অন্ধকার ঘুচিয়ে শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনতে পারে, অরুণ তার জীবন্ত প্রমাণ।
তো প্রিয় পাঠক চলুন জেনে নিই, যেভাবে একটি মাত্র অকৃত্রিম হাসিতেই বদলে গেল অরুনের ভাগ্য
অভাবের তাড়নায় অরুণের শৈশব কেটেছে ট্রাকের পেছনে হেল্পারি করে। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি আর ধুলোবালির মধ্যেই চলত তার জীবনসংগ্রাম। অরুণের ওস্তাদ বা ট্রাক ড্রাইভার মেহেরু আন্না তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন।
একদিন ট্রাক ধুয়ে পরিষ্কার করার পর ক্লান্ত অরুণের হাতে এক কাপ চা তুলে দেন মেহেরু। আড্ডা চলাকালীন মেহেরু তাকে একটি জোকস শোনান। সেই জোকস শুনে অরুণের যে অট্টহাসি, তা ছিল পৃথিবীর সব মলিনতা মুছে দেওয়ার মতো পবিত্র। মেহেরু আন্না সেই মুহূর্তটি মোবাইল ফোনে বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেন।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। লাখ লাখ মানুষ অরুণের সেই স্বতঃস্ফূর্ত হাসিতে মুগ্ধ হয়। তবে অরুণের ভাগ্য খোলার আসল চাবিকাঠি ছিল মানুষের কৌতূহল। যখন জানা গেল এই হাসিখুশি ছেলেটি পড়াশোনা ছেড়ে পেটের দায়ে ট্রাকের হেল্পারি করছে, তখন বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
ভাইরাল হওয়ার পর রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিরা অরুণের পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেন। এবং দীর্ঘদিনের বিরতির পর অরুণ আবার স্কুলের গণ্ডিতে পা রাখে।
বর্তমানে সে তার উচ্চমাধ্যমিক (Higher Secondary) স্তরের পড়াশোনা প্রায় শেষ করে এনেছে।
‘ভাইরাল বয়’ অরুণের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
আগামী বছর পরীক্ষা শেষ করে সে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে চায় এবং একটি সম্মানজনক পেশায় যোগ দিতে চায়।
মনে রাখবেন, ‘মানুষের দারিদ্র্য হয়তো তার স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু তার মুখের হাসি কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কারোর নেই’। — অরুণের এই বদলে যাওয়া জীবন যেন এই কথাটিই মনে করিয়ে দেয়।
ওস্তাদ মেহেরু আন্নার প্রতি অরুণের কৃতজ্ঞতা
অরুণ আজ শিক্ষিত হচ্ছে, বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, কিন্তু সে ভোলেনি তার সেই কঠিন দিনগুলোর সঙ্গী ওস্তাদ মেহেরু আন্নাকে। অরুণ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘তার কর্মজীবন এবং জীবনের প্রতিটি সাফল্যে সে তার প্রিয় ওস্তাদ মেহেরু আন্নাকে পাশে চায়। কারণ মেহেরু কেবল তার ভিডিওটি বানাননি, বরং তার ভেতরের প্রতিভাকে হাসির মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিলেন।
অরুণ এখন আর স্রেফ একজন ‘ভাইরাল বয়’ নয়; সে হাজারো সুবিধাবঞ্চিত তরুণের অনুপ্রেরণা। তার এই গল্প আমাদের শেখায় যে, সুযোগ পেলে প্রতিটি মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকা প্রতিভা বিকশিত হতে পারে। অরুণের সেই হাসি এখন শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে তার আগামীর উজ্জ্বল দিনগুলোতে।
উল্লেখ্য, অরুণের এই গল্পটি সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। একজন মানুষের অকৃত্রিম হাসি কীভাবে তার ভাগ্য বদলে দিতে পারে, এটি তার এক অনন্য উদাহরণ।
- বাঙালির বংশ পদবীর ইতিহাস
- গন্ধভাদালি লতার উপকারিতা
- ‘ময়ূর সিংহাসন’
- মিশরীয় সভ্যতা এবং নীল নদ
- ব্যবহারের আগে জানুন প্লাস্টিক বোতলে চিহ্নের মানে কী
- মধ্যযুগের ইতিহাস
- পবিত্র কাবা শরীফের অজানা যত তথ্য
- বিকাশ নগদ এবং রকেট’র ভুল নম্বরে টাকা চলে গেলে ফেরত পাবেন যেভাবে
- হ্যালুসিনেশন আসলে কী, রোগ না অন্য কিছু?
- পিরামিডের অজানা তথ্য…
- চুম্বকের আদ্যোপান্ত...
- ‘রক্ত’ রঙের রহস্য...
- ‘চুম্বন’ আদর ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ
- ‘ধানমন্ডি’ নামকরণের ইতিহাস
- প্রথম মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস

ফ্রিতে আইটি প্রশিক্ষণ, কোর্স শেষে চাকরির সুযোগ
ফোনের চার্জ কখনো ফুরাবে না, যদি...
Not a UFO, but... (Video)
হজ ফরজ হওয়ার পর মাহরাম না থাকলে নারীদের করণীয়