ঢাকা, ১২ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:

নিউরোফিজিওলজির নয়া চমক: জন্মগত হাতহীন ব্যক্তির হাত সংযোজন!

বিজ্ঞান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:১০, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬   আপডেট: ১৫:০০, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬

অপারেশনের পর হাসপাতালের বিছানায় পিওতর

অপারেশনের পর হাসপাতালের বিছানায় পিওতর

পোল্যান্ডের একদল শল্য চিকিৎসাবিদ দাবী করেছেন তারা বিশ্বে প্রথম সফলভাবে মানুষের হাত প্রতিস্থাপন করেছেন।

অনেকেই হয়তো এই সংবাদে চমকাবেন না বা আগ্রহবোধ করবেন না। কারণ, এমন অঙ্গ প্রতিষ্থাপন, এমনকি হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের মতো ঘটনাও তো দুনিয়ায় ঘটে গেছে! কিন্তু এ ঘটনাটি একটু অন্য রকমের।

এক্ষেত্রে যার শরীরে হাতটি জোড়া লাগানো হয়েছে সেই পিওতর ইউরোদজিল হাতহীন জন্ম নিয়েছিলেন। জনৈক ব্যক্তি মারা যাবার আগে ওই হাতটি তার জন্য দান করে গেছেন।

মানব অঙ্গ প্রতিষ্ঠাপনের ইতিহাসে তথা নিউরোফিজিওলজির ক্ষেত্রে এটা যুগান্তকারী ঘটনা নিঃসন্দেহে। কারণ, জন্মগতভাবে অঙ্গ নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অঙ্গ সংযোজন সফল হতে পারে না- চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মাঝে এমন ধারণা প্রচলিত আছে। এর পেছনে জটিল স্নায়ুতান্ত্রিক মেকানিজমের ততোধিক জটিল হিসেব রয়েছে। তাই যাদের অঙ্গ আগে ছিল কিন্তু পরে কোনো কারণে বাদ গেছে তাদের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হলেও যাদের অঙ্গ ছিলই না তাদের ক্ষেত্রে অসম্ভব বলে মনে করতেন অনেকেই।

পোল্যান্ডের রোকল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালের ওই চিকিৎসক দলের প্রধান অ্যাডাম ডোমানাসিয়েভিক্‌জ বলেন, জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মানো কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ঊর্দ্ধাংশের বাহু সংযোজনের এই ঘটনা মানবেতিহাসে প্রথম।

বিলম্বে পাওয়া খবরে জানা গেছে, গত ১৫ ডিসেম্বর পিওতরের বাম বাহুতে অপারেশনের মাধ্যমে হাতটি (কব্জি পর্যন্ত) সংযোজন করা হয় যাতে সময় লাগে ১৩ ঘণ্টা। বর্তমানে পিওতর তার বাম হাতের আঙুলগুলো শুধু নাড়াতে পারছেন, কব্জি বা হাত নয়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, অচিরেই পুরো হাত নাড়াতে সক্ষম হবেন তিনি।

নিউজওয়ান২৪.কম-এ আরও পড়ুন `ত্রিসূর্যা গ্রহ`: যেখানে ঘটে পরপর তিন সূর্যের উদয়-অস্ত

ডেমানাসিয়েভিক্‌জ বলেন, আমরা এমন একজন মানুষের কথা বলছি যে ৩২টি বছর ধর হাতহীন ছিল।

তিনি আরও বলেন, জানা মতে এ ধরনের অপারেশন এর আগে করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও কানাডায়- সংযুক্ত শরীর নিয়ে জন্ম নেওয়া জমজ শিশুদের ক্ষেত্রে।

এছাড়া আগে ছিল কিন্তু পরে কাটা গেছে এমন ব্যক্তিদের শরীরে অঙ্গ সংযোজনের ঘটনাও আছে।

নিউজওয়ান২৪.কম-এ আরও পড়ুন পা দিয়ে শোনে মাকড়সা!

পোল্যান্ডের চিকিৎসকদের এই সাফল্য বিশ্বজুড়ে জন্মগতভাবে অঙ্গহীন হাজার হাজার মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে দেখো দিতে পারে। হাত পা-হীন বা অন্যান্য অঙ্গহীন মানুষকে এখন পর্যন্ত বলা যায়, শুধু নকল অঙ্গের (প্লাস্টিক বা ধাতু দিয়ে তৈরি) ওপরই নির্ভর করতে হয়। তবে ‘পোল্যান্ড অপারেশন’ সফল হলে বলা যায়- নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে তাদের জন্য।

যেভাবে অপারেশন করা হয়

ডোমানাসিয়েভিক্‌জ বলেন, আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শারীরবৃত্তিক গঠন নিয়ে কাজ করেছি। রক্তনালী, স্নায়ূ, পেশী এবং রগ- এইসব জিনিসগুলোর প্রতিটিই গ্রহীতার চেয়ে দাতার দিক থেকে ছিল পরিমাণে বেশি। এই অপারেশনের আগে সংশ্রিষ্ট ব্যক্তিকে যেতে হয় ব্যাপকভিত্তিক মনস্ত্বাত্বিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। এটা এজন্য যে অন্য কোনো ব্যক্তির (যিনি মারা গেছেন) হাত নিজেদের বাহুর সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় দেখাটা তারা ভবিষ্যতে মেনে নিতে পারবেন কি না- তা নিশ্চিত করতে। এটা হতে পারে অস্বস্তিকর, অ্যালার্জির উদ্রেককারী কিংবা কারও জন্য ভীতিকরও।

এই অপারেশন প্রক্রিয়ায় প্রথমে দুটি অংশের হাড়কে একসঙ্গে জোড়া লাগানো হয় ধাতব পাত ও স্ক্রু দিয়ে। এরপর গুরুত্বপূর্ণ রগগুলো জোড়া লাগানো হয়, এরপর পেশি, মূল ধমনীসহ রক্তের শিরা-উপশিরা। এরপর যখন সংযুক্ত হাতটিতে রক্ত সঞ্চালন শুরু হবে তার আগে দিয়ে বাদবাকী স্নায়ূ, রগ ও পেশিগুলো সংযুক্ত করা হয়। এরপর ত্বকসহ হাতের মাংস মুড়ে দেওয়া হয়। এএফপি, আরটি, মোগাজনিউজ
নিউজওয়ান২৪.কম/একে

মোবাইল-পিসি-টেক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত