মৃতদের পক্ষে কখন রোজা রাখতে হয়!
স্বাস্থ্য ডেস্ক
নিউজওয়ান২৪.কম
প্রকাশিত : ১১:৩৫ এএম, ২২ জুন ২০১৬ বুধবার | আপডেট: ১০:২৬ এএম, ২৪ জুন ২০১৬ শুক্রবার
আরব আমিরাতের গ্রান্ড মুফতি ড. আলী আহমেদ মাশায়েল -ফাইল ফটো
রোজা অবস্থায় শারীরিক পরীক্ষার জন্য রক্ত দান করা জায়েজ (বৈধ) কি না এই প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্রান্ড মুফতি ড. আলী আহমেদ মাশায়েলের ফতোয়া হচ্ছে- না, ডাক্তারি পরীক্ষা বা কোনো রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত দিলে রোজা নষ্ট (অসিদ্ধ) হয় না।
ড. আলী আহমেদ দুবাইতে অবস্থিত আমিরাতের ইসলামিক অ্যাফেয়ার অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাকটিভিটিস ডিপার্টমেন্টের গ্রান্ড মুফতি। তিনি রোজা সংশ্লিষ্ট এ ধরনের আরও বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন যা নিউজওয়ান২৪.কমের পাঠক বাংলা ভাষাভাষী রোজাদারদের জন্য প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় এখানে উপস্থাপন করা হলো
প্রশ্ন: রোজা অবস্থায় বমি- এ বিষয়ে ইসলাম কী বলে?
উত্তর: যদি না ইচ্ছাকৃত হয় আর হয় বারবার- বমিতে রোজা ভঙ্গ হয় না। এ ধরনের ক্ষেত্রে যে রোজাদার বমি করছেন ঘন ঘন- তিনি ওইদিনের রোজা পরে আবার রাখবেন এবং যেদিন বমির কারণে রোজা ভঙ্গ হল সেদিন বাকি সময়টুকু অবশ্যই পানাহার থেকে বিরত থাকবেন।
প্রশ্ন: দুগ্ধদানরত মায়েদের রোজা না রাখা কি অনুমোদনযোগ্য?
উত্তর: দুগ্ধদানরত মায়েদের বিষয়টি সাধারণ রোজদারদের থেকে আলাদা বিষয়। এক্ষেত্রে যদি দেখা যায় রোজা তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে- সেক্ষেত্রে তিনি রোজা রাখবেন না।
তবে তিনি ওইদিনগুলোর রোজা পরে রাখবেন এবং হানাফি মাজহাবের পণ্ডিতদের বিধান হচ্ছে- তার উচিৎ হচ্ছে প্রতি একটি রোজা না রাখার জন্য একজন গরীব-অসহায়কে একদিনের খাবারও খাওয়ানো।
আর যদি হয় শিশুকে দুগ্ধদানজনিত কারণে নয়, তিনি নিজস্বাস্থ্যের কারণে রোজা রাখতে পারেননি- সেক্ষেত্রে তিনি রোজাগুলো পুনরায় রাখবেন, এক্ষেত্রে কোনো কাফফারা (ফিদিয়া) দিতে হবে না।
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
প্রশ্ন: মাসিকের সময়ের (কাজা) রোজাগুলো কি আগে করে রাখা যাবে?
উত্তর: অগ্রিম রোজা রাখা যায় না। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত- ইসলামের সবগুলো আবশ্যিক আচারের নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজা রোজার বিধান হচ্ছে যে রোজা বা রোজাগুলো আপনি রমজান মাসের নির্দিষ্ট দিনে বা দিনগুলোতে রাখতে পারবেন না, পরবর্তীতে তা পূরণ করা। আর তাই মাসিককালের কাজা রোজা পরেই করতে হবে- আগে নয়।
প্রশ্ন: মৃতদের অভিভাবকরা কি তাদের পক্ষে রোজা রাখতে পারেন?
উত্তর: এমন ব্যক্তি যিনি অসুস্থ থাকার জন্য রোজা রাখতে পারেননি এবং যদি ওই অবস্থায় মারা যান সেক্ষেত্রে রোজাগুলোর দায় থেকে তিনি মুক্ত। তাই তার পক্ষে অভিভাবকদের রোজা রাখার প্রয়োজন নেই।
তবে যদি দেখা যায় একজন অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে পারেননি এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন কিন্তু কাজা রোজাগুলো পালনের আগেই মারা গেলেন- সেক্ষেত্রে তার অসুস্থতাকালে কাজা হওয়া রোজাগুলো করে দিতে হবে অভিভাবকদের। এমিরেটস২৪৭
নিউজওয়ান২৪.কম/একে
