ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

সম্পদ বৃদ্ধির ৮ উপায় 

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৪৬, ২৩ আগস্ট ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দুনিয়ার জীবনের জন্য অর্থ-সম্পদ যেমন মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পরীক্ষা হতে পারে, অন্যদিকে জীবন পরিচালনায় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামতও।  

আরো পড়ুন>>> আজান ও ইকামতের আমলে মিলবে জান্নাত

সুতরাং, আল্লাহর এই নেয়ামতকে সংগ্রহের জন্য আমরা প্রচেষ্টা করতে পারি। সম্পদকে বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এখানে আটটি উপায় উল্লেখ করা হলো। 

(১) সুদ থেকে মুক্ত থাকা: 
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তায়ালা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ২৭৬)।

সুদের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ বিনষ্ট হয়। সুতরাং, সর্বাবস্থাতে সুদ থেকে বিরত থাকুন।

(২) পরিবারের বন্ধন দৃঢ় রাখা:
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার রিজিক ও জীবনের সময়কে বৃদ্ধি করতে চায়, তার উচিত পরিবারের বন্ধনকে দৃঢ় রাখা।’ (বুখারী ও মুসলিম)।

সুতরাং, কেউ যদি তার সম্পদকে বৃদ্ধি করতে চায়, তবে তার উচিত তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ককে দৃঢ় রাখা।

(৩) আল্লাহর শোকর করা:
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরো দেব...।’ (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)।

জীবনের সকল অবস্থায় আল্লাহর দেয়া নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকা ও শোকর করা আমাদের জন্য অন্যতম পালনীয়। আল্লাহর শোকর ও কৃতজ্ঞতা স্বীকারের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি এবং উপরের আয়াতের ঘোষণা অনুযায়ী নিজেদের সম্পদকে বৃদ্ধি করে নিতে পারি।  

(৪) আল্লাহর ক্ষমার সন্ধান করা:
পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সূরা: আল মা’আরিজ, আয়াত: ১০-১২)।

সুতরাং, আল্লাহর কাছে সর্বদা নিজেদের ত্রুটির ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করা এবং তার নিকট থেকে ক্ষমার সন্ধান করা আমাদের কর্তব্য। এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি আমাদের প্রতি তার প্রদত্ত নিয়ামতেরও বৃদ্ধি করে নিতে পারি।

(৫) দান করা:
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এর বর্ণিত এক হাদিসে কুদসীতে বলা হয়েছে, আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান, দান কর! তবে আমিও তোমাদের দান করবো।’ (বুখারী ও মুসলিম)। 

বেশি বেশি দান করার মাধ্যমে আমরা যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি, একইসঙ্গে আমরা আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের সম্পদকে বৃদ্ধি করে নিতে পারি।

(৬) আল্লাহর স্মরণ করা:
পবিত্র কোরআনে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘যে আল্লাহকে তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন।’ (সূরা: তালাক, আয়াত: ২-৩)। 

সুতরাং, আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তার ওপর সকল কাজের জন্য ভরসার মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে আল্লাহর অধিক নেয়ামতের জন্য উপযুক্ত করে নিতে পারি।

(৭) পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করা:
হজরত আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে কোরআন তেলওয়াত করা হয় এবং আল্লাহর পবিত্র ও মহান নামকে স্মরণ করা হয়, আল্লাহ তাতে কল্যাণ বৃদ্ধি করে দেন।’ (ইবনে কাসির)। 

অতএব, আমাদের নিজেদের কল্যানের বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আমাদের উচিত বেশি বেশি পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করা।

(৮) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা:
হজরত আনাস ইবেনে মালিক (রা.) এর জন্য আল্লাহর রাসূল (সা.) যখন প্রার্থনা করেন, তখন প্রথমেই তার সম্পদের জন্য তিনি প্রার্থনা করেন। (বুখারী)

আমাদেরও নিজেদের সম্পদের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা কর্তব্য।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার নেয়ামতের অংশ হিসেবে আমাদের জীবনের জন্য কল্যাণকর সম্পদ দান করুন।

নিউজওয়ান২৪.কম/আহনাফ