ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

যার নামে কক্সবাজার সেই ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের বাড়ি যাবেন?

কক্সবাজর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১২:৫২, ৩১ মার্চ ২০১৯  

কক্সসাহেবের বাড়ির সামনে সিভিল সোসাইটিজ ফোরাম কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীসহ সংগঠনের অপরাপর সদস্যরা

কক্সসাহেবের বাড়ির সামনে সিভিল সোসাইটিজ ফোরাম কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীসহ সংগঠনের অপরাপর সদস্যরা

বিশ্বসেরা পর্যটন স্পট আজকের কক্সবাজার নামটি ব্রিটিশ আমলের সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের নাম থেকে এসেছে। বার্মা রাজা বোধাপায়া ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন আরাকান রাজ্য দখল করেন। বোধাপায়ার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে তৎকালীন বৃটিশ শাসিত পালাংক্রি এলাকায় দলে দলে পালিয়ে আসে আরাকানের স্থায়ী বাসিন্দা রোহিঙ্গারা।

প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসনের জন্য বৃটিশ সরকারের পক্ষে বার্মায় কর্মরত সামরিক অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সকে পালাংক্রিতে পাঠানো হয়। তিনি পালাংক্রির দুর্গম জঙ্গলি এলাকায় রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে এলাকাটি আবাদ হয়। বর্তমান রামুতে নিজের বাসস্থান ও অফিস নির্মাণ করেন তিনি। এলকার প্রয়োজনে সার্বিক দিক বিবেচনা করে কক্স সাহেব একটি বাজারও স্থাপন করেন তখন। পরে তাঁর নামেই পালাংক্রির নামকরণ হয় কক্সবাজার।

প্রথম দিকে এ বাজারের নাম হয় কক্স সাহেবের বাজার। পরে সংক্ষিপ্ত রূপ নিয়ে তা কক্সেস বাজার বা কক্স’স (মানে কক্স-এর বাজার) হয়ে শেষতক এখন কক্সবাজার-এ রূপ নিয়ে। রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসনের সময় ১৭৯৯ সালে কক্স মহাশয় ম্যলেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

তাঁর স্ত্রী ম্যাডাম কক্স পিয়ার স্বামীর মৃতদেহ নিয়ে যাবার জন্য বর্তমান ডুলাহাজারা ও খুটাখালীর মধ্যবর্তী এলাকার বড় খালে জাহাজ নিয়ে আসেন। ওই জাহাজে করে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের মৃতদেহ নিয়ে যান। সেই থেকে ওই এলাকার নাম ম্যাডাম কক্স পিয়ার তথা স্থানীয় লোকমুখে মেদাকচ্ছপিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

গত বুধবার বেলা দুইটার সময় সিভিল সোসাইটিজ ফোরাম কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কক্সবাজার জেলার সাবেক কমান্ডার শাহজাজাহান, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনম হেলাল উদ্দীন, সমীর পাল, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার কানন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সল সাকিব, জেলা বঙ্গবন্ধু সাস্কৃতিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরেশ বাঙ্গালী, সাস্কৃতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের বাসভবন কাম অফিস পরিদর্শনে যান।

বর্তমানে ভবনটি কক্সবাজার জেলা পরিষদের ডাকবাংলো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বদরুদ্দীন নামের এক বৃদ্ধ সেখানে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এতবড় একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে গত ২৫ বছর ধরে কাজ করলেও তিনি তা জানতেন না। এখন জেনে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করছেন।

সিভিল সোসাইটিজ ফোরামের নেতৃবৃন্দ এ স্থাপনা দেখতে গিয়ে যেন ফিরে যান সেই হিরাম কক্সের সময়ে। সেই সময় কেমন ছিল কক্সবাজার? কক্স সাহেব বেঁচে থাকলে তাঁর সাথে কথা বলা যেতো হয়তো এখন! এক ধরনের নস্টালজিয়া তাঁদের আচ্ছন্ন করে রাখে অনেক্ষণ। নেতৃবৃন্দ এতবড় ঐতিহাসিক স্থাপনায় কোনো সাইন বোর্ড না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁরা অবিলম্বে এ ঐতিহাসিক স্থাপনায় সাইন বোর্ড স্থাপন ও এটাকে সংরক্ষণ করে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্পট হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানন।

নিউজওয়ান.কম/এসএল