ঢাকা, ০৫ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

মিশরীয় সভ্যতা এবং নীল নদ  

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৭, ২৭ নভেম্বর ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

 

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম একটি হলো মিশরীয় সভ্যতা। জানেন কী? এই সভ্যতার উৎপত্তি নীলনদকে কেন্দ্র করেই।  আর যে কোনো সভ্যতার সৃষ্টি হয় নদ বা নদীকে কেন্দ্র করে। 

তাই আজও মিশরের সকল প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন নীল নদের তীরেই দেখা যায়। আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত নীলনদ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নদ। নদটি শ্বেত এবং নীলাভ নামক দুটি উপনদে বিভক্ত হয়ে পৃথিবীর প্রায় ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উপনদ দু’টি সুদানের রাজধানী খার্তুমের নিকট মিলিত হয় এবং পরে মিশরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মোহনার কাছে বিশাল ব-দ্বীপ সৃষ্টি করে যা ভূমধ্য সাগরে মিশেছে।

1.নীলনদকে ঘিরে মিশরীয় সভ্যতা

প্রাচীনকাল থেকেই নীলনদকে দীর্ঘতম নদ হিসেবে ধরা হয় যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার ১৩২ মাইল যদিও বর্তমানে অনেকেই আমাজন নদীকে দীর্ঘতম নদী হিসেবে মান্য করে। নীল নদের উৎসস্থল নিয়ে বহুকাল যাবত একটি বিবাদ রয়েছে কেউ মনে করেন লেক ভিক্টোরিয়া আসলে এর উৎপত্তিস্থল। কারণ লেক ভিক্টোরিয়া থেকে ছোট উপনদী তৈরি হয়ে নীল নদে মিশেছে। আবার অনেকে মনে করেন সবচেয়ে বড় উপনদীগুলোর উৎপত্তিস্থল কাগেরা নদী আসলে নীলনদের উৎসস্থল যা বর্তমানে বেশি সংখ্যক মানুষের মধ্যে মান্য হয়েছে। নীল নদের শ্বেত এবং নীলাভ নীল নামক দুটি উপনদী রয়েছে। এই উপনদী দু’টি সুদানের রাজধানী খার্তুমের কাছে মিলিত হয়েছে পরবর্তীকালে নীলনদ নামে। সুদানের দীর্ঘতম মরুভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মিশরে প্রবেশ করেছে এবং মিশরের মধ্যে দিয়ে গিয়ে শেষে বিশাল ব-দ্বীপ সৃষ্টি করে ভূমধ্যসাগরে মিশেছে।

2.নীলনদকে ঘিরে মিশরীয় সভ্যতা

এই নদের নামকরণ নিয়েও বহু বিবাদ রয়েছে। যেমন এক ধারণা অনুযায়ী নীল শব্দটি সেমেটিক শব্দ নাহাল থেকে এসেছে যার অর্থ নদী আবার অন্য ধারণা অনুযায়ী গ্রিক শব্দ নেলস থেকে এসেছে যার অর্থ উপত্যকা। প্রাচীন মিশর সভ্যতা প্রায় পুরোটাই নীলনদের জলের উপর নির্ভর ছিল। এই নদের জল মানুষ পানীয় বা কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করত। যেহেতু মিশরে বৃষ্টিপাত খুব কম হয় তাই ইথিওপিয়াতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে তার ফলে মিশরে বন্যা সৃষ্টি এবং সে বন্যার কাদামাটি কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করা হতো। এছাড়াও পিরামিড তৈরিতে নীলনদ এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পিরামিডের পাথর নিয়ে আসার জন্য নীল নদকে মিশরীয়রা পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। নীলনদের দক্ষিণ প্রবাহটি ভয়ংকর নীল কুমিরের জন্য বিখ্যাত।

3.নীলনদকে ঘিরে মিশরীয় সভ্যতা

প্রতি বছর প্রায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ ভয়ংকর নীল কুমিরের শিকার হয়। তাদের বেশিরভাগই মৎসজীবী অথবা স্থানীয় মানুষ। ১৯৭০ সালে এই নদের উপর আসওয়ান হাই নামক একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয় যার ফলে বন্যার জল জমিয়ে রেখে পরবর্তীকালে কৃষি কাজের জন্য সুবিধা হয় প্রাচীন মিশরের লোক দেবতা হাপিকে নীলনদের দেবতা হিসেবে ধারণা করতেন। বার্ষিক বন্যার কারণ ভেবে তারা এই দেবতাকে পূজা করতেন। এ দেবতাকে আরো দুটি নামে সম্বোধন করা হতো যেমন লর্ড অব দ্য রিভার, লর্ড অব দ্য ফিসেস এন্ড বার্ডস।

4.নীলনদকে ঘিরে মিশরীয় সভ্যতা

মিশরের প্রায় ৮ কোটি মানুষের বাস রয়েছে নীলনদের উপকূলে যা মিশরের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার সমান। মিশরের সব চেয়ে বড় শহর আলেকজান্দ্রিয়া নীল নদীর মোহনায় অবস্থিত যেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বাসস্থান। রোজেটা নামক শহরটিও নদের মোহনায় অবস্থিত যেখানে পৃথিবী বিখ্যাত রোজেট্টা পাথর খণ্ডটি দেখা যায়। রোজেট্টা পাথর খন্ডে খোদাই করা লিপি থেকেই মিশরীয় সভ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়। আর এভাবেই নীলনদ মিশরীয় সভ্যতাকে দিয়েছে এক অনন্য তথা ঐতিহাসিক রূপ। তাই বলা যায় এই নীল নদ মিশরীয় সভ্যতার একমাত্র ধারক ও বাহক।

নিউজওয়ান২৪/আরএডব্লিউ