ঢাকা, ২৮ মে, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

মাদাম তুসো জাদুঘর এবং মূর্তি তৈরির রহস্য! 

সাতরং ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫০, ২৫ অক্টোবর ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

মাদাম মেরি তুসো সম্পর্কে সবারই কম বেশি জানা আছে! যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ফরাসী এই নারী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সংগ্রহশালাটিই পরবর্তীতে মাদাম তুসো জাদুঘর নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়।

শুধুমাত্র মোম দিয়ে গঠিত জাদুঘরটিতে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত ও রাজকীয় ব্যক্তিত্ব, চলচ্চিত্র তারকা, তারকা খেলোয়াড় থেকে শুরু করে খ্যাতনামা খুনী ব্যক্তিদের মূর্তিও সযত্নে রক্ষিত আছে।

দেখতে একেবারেই জীবন্ত! তবে এগুলো মোমের মূর্তি।

২৫০ বার শরীরের মাপ নিয়ে বানানো হয় মূর্তি

লন্ডনের পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতিতে মাদাম তুসো জাদুঘর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রধান প্রধান নগরগুলোয় এ জাদুঘরের শাখা রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সারা বছর এখানে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করে মূর্তিগুলো স্বচোক্ষে দেখতে আর স্বপ্নরাজ্যের সাক্ষী হতে। সেখানে ঠাঁই পেয়েছেন বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সালমান খান, কাজল, প্রিয়াঙ্কা থেকে শুরু করে বিখ্যাত ফুটবল তারকা রোনালদো, মেসি সবারই দেখা মিলবে। 

রাজ পরিবারের সদস্যদের মূর্তি

এমনকি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মোমের ভাস্কর্য রয়েছে সেখানে। যেন সব স্বপ্ন। তবে এরা কেউই রক্তে-মাংসের মানুষ নন, মোমের তৈরি পুতুল, যেখানে প্রবেশের পর পুতুলের পাশে সত্যিকার তারকাকে দেখলেও বুঝে ওঠা কঠিন কে মানুষ আর কে মোমের ভাষ্কর্য?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

নিশ্চয়ই চিনেছেন তাদের!

১৮৩১ সাল থেকে মাদাম তুসো অল্প কিছুদিন থাকার জন্য বেকার স্ট্রিট বাজারের উপর তলা ভাড়া নেন। যেটা বেকার স্ট্রিটের পশ্চিম পার্শ্বে এবং ডোরসেট স্ট্রিট ও কিং স্ট্রিটের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। পরবর্তীতে ১৮৩৬ সালে এটিই  তুসো’র প্রথম স্থায়ী নিবাস হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলো। ১৮৩৫ সালে বেকার স্ট্রিটে থাকাকালীন তিনি একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘ভৌতিক কক্ষ’।

ক্যাটরিনা কাইফের মূর্তি

কক্ষটিতে ফরাসী বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিসহ নতুন খুনী ও ঘাতকদের মূর্তি রাখা আছে। ১৮৪৫ সালে ‘ভৌতিক কক্ষ’ হিসেবে পাঞ্চ ম্যাগাজিনে প্রথম এই কক্ষটি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়। তবে মেরী এ নামকরণটি তার নিজস্ব সৃষ্ট বলে দাবী করেন। এছাড়াও ১৮৪৩ সালের প্রথম দিকে তিনি বিজ্ঞাপন হিসেবেও নামটি ব্যবহার করেছেন। জাদুঘরে যে মূর্তিগুলো সাজানো রয়েছে তা তৈরির পেছনে কিছু গল্প আছে যা হয়তো আপনি জানেন না। চলুন মজার কিছু তথ্য জেনে নিন-  

১. মাদাম তুসো জাদুঘরটি বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত ব্যক্তিদের আদলে তৈরি মোমের মূর্তির জন্য বিখ্যাত। তবে জানেন কি, জাদুঘরে রক্ষিত মোমের মূর্তিগুলোর মাথায় প্রতিটি চুল পৃথকভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়? হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন মূর্তিগুলোর মাথায় যে চুল দেখতে পান। তার প্রতিটি চুল আলাদা আলাদাভাবে লাগানো হয়। এমনকি মূর্তির মাথায় একটি চুল প্রতিস্থাপন করতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ। 

এরা কী যমজ নাকী একই প্রিয়াঙ্কা 

২. প্রতিদিন জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার আগে মূর্তিগুলোকে পরিষ্কার এবং পরিপাটি করা হয়। এজন্য জাদুঘরে নিয়জিত রয়েছে শতাধিকের ও বেশি কর্মী। যারা দু’টি দলে ভাগ হয়ে এই রক্ষণা-বেক্ষণের কাজ করে থাকে। 

এই জাদুঘরে অনেক সেলিব্রিটিদের মূর্তি রয়েছে

৩. জাদুঘরে প্রায়ই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন মূর্তি। এসব মূর্তি কিন্তু রাতারাতি তৈরি হয়ে যায় না। একজন ব্যক্তিত্বের মূর্তি  সম্পূর্ণ  বানাতে প্রায় চার মাস সময় লাগে। মোমের এসব মূর্তি বানানোর জন্য প্রায় আড়াইশ’বার শরীরের মাপ নিতে হয়। বিভিন্ন কোণ থেকে প্রায় ১৮০টি ছবি তুলতে হয়। এক্ষেত্রে যদি ওই ব্যক্তিত্ব অনুপস্থিত থাকেন তখন জাদুঘরের স্টুডিও ভাস্কর তার কয়েকশ ছবি বা ভিডিও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে মূর্তিটি বানান।     

৪. জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবহৃত তথ্য নিজস্ব আর্কাইভে জমা করে রাখে। কাউকে তারা এগুলো দেন না। এমনকি মিডিয়া ও দর্শকদের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও তারা সেলিব্রেটিদের শরীরের মাপ বা ব্যবহৃত ছবি প্রকাশ করেন না।  

৫. সাধারণত মোম ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়। তাই মোমের মূর্তিগুলো বানানো হয় সেলিব্রেটির শরীর থেকে প্রায় দুই শতাংশ বড় করে। মূর্তিগুলোর অক্ষিগোলকের শিরা বানাতে ব্যবহার করা হয় লাল সিল্কের সুতা।

কাজলের সঙ্গে সেলফি তুলছেন কাজল নিজেই

৬. পরিচর্যার অংশ হিসেবে প্রায় নিয়মিত মূর্তিগুলোর চুল ধোয়া ও মেকআপ করানো হয়। 

তাকেও নিশ্চয় চিনেছেন!

৭. প্রতিটি মূর্তি বানাতে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ হয়।

বলুন তা আসল সানি কোনটি?

নিউজওয়ান২৪.কম/এমজেড