ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:

ভোট নিয়ে আবারো গণধর্ষণ, আবারো সুবর্ণচর!

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ২ এপ্রিল ২০১৯  

এর আগে সংসদ নির্বাচনে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেওয়া না দেওয়া নিয়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন গৃহবধূ। সেই ঘটনা দেশজুড়ে তোলাপাড় সৃষ্টি করেছিল। বিবেকবান মানুষ ঘৃণায় রিরি করে উঠেছিল। এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আবার ভোটের দ্বন্দ্বে এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও তার স্বামীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
গত রবিবার রাতের ওই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আহত ওই নারী ও তার স্বামীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে যান চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ উদ্দিন চৌধুরী। 

এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন ভিকটিমের স্বামী। এজাহারে নাম উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে ইউসুফ ও আবুল বাশার নামে দুইজনকে এ পর্যন্ত আটক করেছে পুলিশ।তদন্তের স্বার্থে বাদবাকি আসামিদের নাম প্রকাশে রাজি হয়নি পুলিশ।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খিসা গতকাল (সোমবার) হাসপাতালে ভিকটিমদের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

পাশবিকতার শিকার ওই নারী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী তাজউদ্দিনের (চশমা) সমর্থক হিসেবে কাজ করছি। এ নিয়ে অপর ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ চৌধুরী বাহারের (তালা) সমর্থক ইউসুফ মাঝি ও তাদের লোকজন আমাদের হুমকি দেয়। তারা বাহারকে ভোট দিতে বলে। তাকে ভোট না দিলে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে।

তিনি আরো বলেন, রবিবার ভোটকেন্দ্রে গেলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়ে জানতে চায় আমরা কেন ভোটকেন্দ্রে এসেছি। তারপর তারা আমাদের বাহারকে ভোট দিতে বলে। এ নিয়ে সেখানে তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়।

এরপর ভয়ে তারা এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নেন জানিয়ে ছয় সন্তানের এই মা জানান, সন্ধ্যায় তিনি ও তার স্বামী মোটরসাইকেলে করে বাগ্গা গ্রামে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটানো হয়।

তিনি বলেন, ইউসুফ মাঝির নেতৃত্বে ১০-১২ জন আমাদের পথ রোধ করে। আমার স্বামীকে মারধর করে আটকে রাখে। আর বেচু মাঝি, বজলু ও আবুল বাসার আমাকে পাশে রুহুল আমিনের মৎস্য খামারে নিয়ে ধর্ষণ করে।

স্বামীর চিৎকারে এলাকার লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে রাতেই হাসপাতালে পাঠায় বলে তিনি জানান।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, ওই নারী ও তার স্বামীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা করা হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খিসা বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভোটে জয়ী ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ চৌধুরী বাহার জয় অভিযুক্তদের সঙ্গে সম্পর্কহীনতার দাবি করেন। তিনি  বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তারা আমার লোক না।তিনি আরো বলেন, আমি চাই অপরাধী যেই হোক, তারা যেন শাস্তি পায়।

অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। তকেব যোগাযোগ করা হলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম সেলিম জানান, ২০০১ সাল থেকে ভিকটিমের পরিবার ও অভিযুক্তদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখবে। ধর্ষণের অভিযোগ সত্য হলে দোষী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের পরের রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে নিজ বাড়িতে হানা দিয়ে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। সে ঘটনায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগে জানা যায়, ভোটের দিন (৩০ ডিসেম্বর) নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গপাঙ্গরা’ বাড়িতে ঢুকে স্বামী সন্তানদেরেআটকে রেখে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী এই ঘটনায় নয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার বেশ কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতনর দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ধর্ষণের বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা!

গত মার্চ মাসের গোড়ার দিকে সুবর্ণচর উপজেলায় ধর্ষণের বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করেন পলি নামের এক গৃহবধূ। উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরমাকছুমুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, আগের রাতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূ পলি আক্তারকে ধর্ষণ করে একই গ্রামের আলাউদ্দিন। তার চিৎকারে স্বামীসহ স্থানীয় লোকজন এসে আলাউদ্দিনকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ধর্ষক আলাউদ্দিনকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেন। বখাটে আলাউদ্দিন একই গ্রামের ইদ্রিছ মিয়ার ছেলে। কিন্তু ‘সঠিক বিচার পাইনি’ -এই ক্ষোভে পরদিন সকালে বিষ পান করেন পলি। তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাত্র ৮ মাস আগে একই গ্রামের নুর করিমের ছেলে সোহাগের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল।

নিউজওয়ান২৪.কম/এসএল

আরও পড়ুন
অপরাধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত