ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:

বিজ্ঞাপন থিওরি!

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৭, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬   আপডেট: ১১:০৬, ১৮ মে ২০১৬

বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ বলতে গিয়ে ভুল করে যদি কেউ বলে বসেন এটা বিজ্ঞাপনের যুগ তাহলে খুব একটা মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে বলে মনে হয় না। বিজ্ঞাপনের মাজেজা বয়ান করতে গিয়ে ডেল কার্নেগি না কে যেন বলেছিলেন, বিজ্ঞাপন না দিয়ে ব্যবসা করার অর্থ হচ্ছে অন্ধকারে কোনো সুন্দরীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসা। কারণ, তুমি জান তুমি কি করছো কিন্তু যাকে উদ্দেশ্য করে এটা করছো সেই মেয়েটি তা জানছে না।

অর্থাৎ তোমার পণ্যটি যে গুণ বা মানেরই হোক, তা গ্রাহকের হাতে পৌঁছাতে বা বাণিজ্য লক্ষ্মীকে ধরতে হলে প্রথমেই বিজ্ঞাপনদেবীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়তে হবে। আর তাই বিজ্ঞাপনের জয়যাত্রায় বর্তমান দুনিয়া এতটাই বেসামাল হয়ে পড়েছে যে পথে-ঘাটে, বাসে-ট্রেনে, মার্কেটে, খেলার মাঠে, হাসপতালে এমনটি টয়লেট পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের আওতায় চলে এসেছে আজকাল। মানুষের গায়ে বিশেষ করে টাক মাথায়ও বিজ্ঞাপন স্থান করে নিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। আর তাই অনেকটা বাছ-বিচারহীন বিজ্ঞাপন প্রচারে বিরক্ত হয়ে-ই হয়তো বা শক্তিমান কবি শঙ্খ ঘোষ লেখেন

একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
তোমার তরে গলির মোড়ে,
ভাবি আমার মুখ দেখাবো
মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে!

বিজ্ঞাপন নিয়ে এবার একটি মজার ঘটনার কথা জেনে নেয়া যাক

ইন্ডিয়ানাইজ করুন
ভারতের একটি টেলিভিশন কোম্পানি তাদের নতুন ব্রান্ডের টিভির জন্য চমক লাগানো বিজ্ঞাপন তৈরির ফরমায়েশ দেয় এক নামী বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে। এই টিভির সাউন্ড সিস্টেম ছিল ওই সময়ের বিচারে ভারতীয় আবহের জন্য এক নয়া প্রযুক্তি। অ্যাড-ফার্মটি তাদের কর্মক্ষমতা আর সৃষ্টিশীলতা উজার করে দিয়ে চমৎকার একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করলো। যেহেতু নয়া প্রযুক্তির শব্দ হচ্ছে এ টিভির বৈশিষ্ট্য তাই বিজ্ঞাপনটি তৈরি করা হয় বজ্রপাতের শব্দকে উপজীব্য করে। নির্মাতারা বজ্রপাতের ডিজিটাল শব্দের নিখুঁত রূপ উপস্থাপনের লক্ষ্যে কৃত্রিমতা এড়াতে সত্যিকারের বজ্রপাতের শব্দ ব্যবহার করেন। থিম, উপস্থাপনা আর নির্মাণ সব দিক থেকেই বিজ্ঞাপনটি ছিল অসাধারণ। কিন্তু এটি পছন্দ হল না ওই টিভি নির্মাতাদের। কারণ কি?

‘কারণ’ হিসেবে তারা বললেন, বিজ্ঞাপনটি অসাধারণ হয়েছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু সমস্যা হল এর শব্দ দিয়ে।

আশ্চর্য্য, আমরা তো এতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল শব্দ ব্যবহার করেছি। এতে তো একটি সূঁচ মাটিতে পড়ার শব্দও আলাদাভাবে শোনা যায়।

সমস্যাটা ওইখানেই। এতে ব্যবহার করা বজ্রপাতের শব্দ এতটাই নিখুঁত আর তীক্ষ্ণ হয়েছে যে এটা ভারতীয় শ্রবণেন্দ্রীয়ের জন্য উপযোগী না। এত ঝকঝকে সাউন্ড পশ্চিমা বিশ্বের মানুষের কানেই মানানসই। (যখনকার ঘটনা তখন ভারতীয় টিভি বিদেশের মার্কেটে খুব একটা যেত না।)

ওদিকে ক্লায়েন্টর ব্যাখ্যায় বিজ্ঞাপন নির্মাতারা হতভম্ভ। তারা ছিলেন ওই সময়ে ভারতের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞাপন নির্মাতা গ্রুপগুলোর একটি। তারপরেও তাদের ক্লায়েন্টরাও কম দুঁদে ব্যবসায়ী না। শেষতক তাদের কাছেই এর সমাধান চাইলেন নির্মাতারা।

তারা বললেন, শব্দটাকে ইন্ডিয়ানাইজ করে দিন।

মানে?

শব্দটাকে ঘষে কিছুটা সফট (ভোতা) করে দিন। ভারতীয় জনগণের কানে তা সহনীয় হবে।

কর্তার ইচ্ছায় কর্ম বলে কথা। তারা সেই মোতাবেকই কাজ করলেন। বিজ্ঞাপন প্রচার হল এবং সাধারণ ক্রেতারা তা গ্রহণও করলো। তবে এর শব্দগুণকে ‘ভারতীয়করণ’ না করলে এটা কি সত্যি সত্যিই ইন্ডিয়ানরা গ্রহণ করতো না! এ প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়।

নিউজওয়ান২৪.কম/এসএল 

অর্থ-কড়ি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত