ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

নামাজে মুরসির কোরআন পাঠ শুনে কাঁদতেন সিসি, অথচ এখন...

তামিম রায়হান

প্রকাশিত: ০০:৪৬, ২৩ জুন ২০১৯  

প্রতীকি চিত্র

প্রতীকি চিত্র

মুরসি মিসরের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর দল ইখওয়ান তাঁকে জনগণের নেতা হিসেবে তুলে ধরতে নানাভাবে ব্যর্থ হয়েছে। স্বল্প মেয়াদের শাসনামলে মুরসি যে কয়েকটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেগুলোর মধ্যে সিসিকে তুলে আনা ছিল অন্যতম। মুরসি যখন নামাজ পড়াতেন, তখন তাঁর কুরআন পাঠ শুনে সিসি কাঁদতেন। সিসির এই কৃত্রিম আনুগত্যে আস্থা রেখে মুরসি বড় ভুল করেছিলেন। কদিন পর এই সিসির হাতেই তিনি পদচ্যুত হলেন।

আজ মুরসি নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন নেতাকে দাফন করা হলো সবার অগোচরে, কেবলমাত্র পরিবারের উপস্থিতিতে। যে মিসর এখন সউদি-আমিরাত দুষ্টচক্রের হাতের পুতুল, সেই মিসরের জনগণ নিজেদের প্রাণশক্তি হারিয়েছে অনেক আগে। মুরসির মৃত্যু তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কান্নাকাটির উপলক্ষ ছাড়া আর কিছু নয়। বিচারের নামে সিসির হাতে শাস্তিমূলক হত্যার অপমানের চেয়ে এই মৃত্যু বরং মুরসির জন্য সম্মানের। 

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলথানি ছাড়া আর কোনো আরব নেতা এখন পর্যন্ত মুরসির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেননি। আরব নেতাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধের এমন অধঃপতন শুধু লজ্জার নয়, ঘৃণারও। 

অপরদিকে আরেকটি ঘটনাও মিশর তথা আরবদের জন্য লজ্জার রেকর্ড হয়ে থাকবে। তা হচ্ছে, মুরসির জানাযা ও দাফনে হাতে গোনা কয়েকজনকে অংশ নিতে অনুমতি দিয়েছিল সিসি সরকার। দাফনের পর থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে মুরসির কবরকে। কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকে। এমনকি মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে আরবীয় ঐতিহ্যের 'আযা' আয়োজনেও পরিবারকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। অথচ দাফনের কিছুক্ষণ পর ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিককে মুরসির কবরস্থানের ভেতর থেকে ফুটেজ সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরপর যথারীতি সেই রিপোর্ট প্রচারিত হয়েছে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় টিভিতে। একজন মেরুদণ্ডহীন কাপুরষ স্বৈরাচার সিসির এসব কাণ্ড ঐতিহ্য ও সভ্যতার সুতকাগার মিসরের ভাবমূর্তিকে কোন অতলে নিয়ে যাচ্ছে, অদূর ভবিষ্যত তা বলে দেবে। আপাতত আমরা এসবের নিরব সাক্ষী হয়ে আছি।

তামিম রায়হান: কাতার প্রবাসী তরুণ সাংবাদিক ও লেখক

[এটি মুক্ত কলাম। এই বিভাগে লেখকরা মন খুলে লিখে থাকেন। তবে তাদের লেখার বিষয়বস্তু বা প্রকাশিত মত একান্ত তাদের নিজের, এর সঙ্গে নিউজওয়ান২৪.কম কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই]   

আরও পড়ুন
প্রবাসী দুনিয়া বিভাগের সর্বাধিক পঠিত