ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সর্বশেষ:

জিয়ার কবর এখনই সরানোর সিদ্ধান্ত নেই সরকারের : ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:২০, ৩১ আগস্ট ২০২১  

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের- ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের- ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের পাশে চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর ব্যাপারে এখনই সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তবে এখানে জিয়াউর রহমানের মরদেহের কোনো চিহ্ন নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) বিকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমানের মরদেহ কবরে থাকা না থাকা নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘জেনারেল এরশাদ বহন করেছেন সেই কফিনে নাকি জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল, ফখরুল সাহেব এটা প্রমাণ হিসেবে এনেছেন। ভেতরে কে আছে সেটা না, কফিন সেটাই কী প্রমাণ যে, ভেতরে জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল? আমি ফখরুল সাহেবের কাছে দু-বছর ধরে একটাই প্রশ্ন করে আসছি, চট্রগ্রাম থেকে রাঙ্গুনিয়া হয়ে যে লাশ ঢাকায় এলো এর একটা ছবি দেখান। সেই লাশের একটা ছবি দেখান। তাহলে প্রমাণ কীভাবে দেবেন? আপনাদের তো যুক্তি নেই। এই কথা বলতে গেলেই তিনি বলেন ওবায়দুল কাদের মিথ্যাচার করছেন। একটা প্রশ্নরেও সঠিক জবাব তিনি দেননি।’

কাদের বলেন, ‘গতকালও প্রশ্ন করেছিলাম সার্কিট হাউজ থেকে লাশটা রাঙ্গুনিয়ায় কে নিল, বলুন? লাশ কোথায় পাবেন, লাশ তো পুড়িয়ে ফেলেছে। পাকিস্তানেও বিমান দুর্ঘটনায় নিহত জেনারেল জিয়াউল হকের লাশ পুড়িয়ে ফেলেনি, পুড়ে গেছে। বিমান দুর্ঘটনায় আগুন জ্বলেছে দাউদাউ করে। বিমান দুর্ঘটনায় যখন আকাশে কোন আগুন জ্বলে সেখানে যে মানুষ থাকে, সে তো অঙ্গার হয়ে গেছে। সেখানেও জিয়াউল হককে ফয়সাল মসজিদের সামনে কফিন রেখে বিশাল জানাজা করা হয়েছে। কিন্তু ওই কফিনেও জিয়াউল হক নেই, এই কফিনেও জিয়াউর রহমান নেই। এই কথা বললেই ফখরুল সাহেব বলেন মিথ্যাচার করছেন। তাহলে প্রমাণ দিন একটা ছবি দেখান।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে টুঙ্গিপাড়ায় মার্কিন কাপড়ে, ৫৭০ সাবানে গোসল দিয়ে, ১৮ জন মানুষ নিয়ে জানাজা দিয়ে দাফন করে, যার সবটাই জিয়াউর রহমানের মস্তিষ্কপ্রসূত। অজপাড়াগাঁ সেই টুঙ্গিপাড়া আজ বাঙালির তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘২০০ বছরের ইতিহাসে সিপাহী বিদ্রোহ থেকে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রাম পুঞ্জীভূত হলেও স্বাধীনতা আসেনি। স্বাধীনতা এসেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও সংগ্রামে ফলশ্রুতিতে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘৭১ এর পরাজিত শক্তির মদদে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, যার প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী জিয়াউর রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি আদেশ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং জেল হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দেন। জিয়াউর রহমান গোলাম আযমকে এদেশে ফিরিয়ে আনেন এবং শাহ আজিজ, আব্দুল আলীমকে মন্ত্রী বানান। ২০০১ সালে অনুরূপভাবে খালেদা জিয়া নিজামী ও মুজাহিদকে মন্ত্রী বানান। পাকিস্তানপ্রীতির এমন নজির বিরল।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের মধ্যে কৃষক লীগ সবচাইতে সুশৃঙ্খল ও ডিজিটাল সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে, যা অন্যান্য সংগঠনের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।’

আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী বলেন, ‘এখনো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ তিনি বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও মহিমার অজানা কথা সারাদেশে কৃষকের মাঝে প্রচার করার পরামর্শ দেন।

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ সভায় সভাপতিত্ব করেন আর সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি সঞ্চালনা করেন।

নিউজওয়ান২৪.কম/আএজে

আরও পড়ুন