ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সর্বশেষ:
আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

চালু হলো ‘মারিজুয়ানা ক্লিনিক’

সাতরং ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৯, ১৬ জানুয়ারি ২০২০  

থাইল্যান্ডের মারিজুয়ানা ক্লিনিকের উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের মারিজুয়ানা ক্লিনিকের উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অনেক দেশেই মারিজুয়ানা বা গাঁজা সেবনে রয়েছে বৈধতা। তবে মাদক হিসেবেই এর পরিচিতি বিশ্ব জুড়ে।

জানেন কি? প্রাচীনকাল থেকেই গাঁজা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। নির্দিষ্ট পরিমাণ গাঁজার ব্যবহারে শারীরিক কোনো ঝুঁকি নেই বরং মিলবে উপকার। সম্প্রতি, থাইল্যান্ডে যাত্রা শুরু করেছে মারিজুয়ানা ক্লিনিক। যেখানে গাঁজা দ্বারা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হবে।

গাঁজা আসলে কী?: মাদক হিসেবে গাঁজার ব্যবহার খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ সাল থেকে। হিন্দুধর্মের অথর্ব বেদ এবং পুরাণেও গাঁজার কথা উল্লেখ আছে। পুরাণে উল্লেখ আছে, দেবতারা গাঁজা গাছের জন্ম দিয়েছেন। তাদের সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত থেকে গাঁজা গাছের উৎপত্তি। ইউরোপে গাঁজা ব্যাবহারের তথ্য পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ সালে গ্রিক দার্শনিক হেরোডোটাসের লেখায়।

গাঁজা দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে, তাও আবার দুরারোগ্য ব্যাধির! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। থাইল্যান্ডে গাঁজার সাহায্যে চিকিৎসা করা হচ্ছে। এজন্য তৈরি হয়েছে একটি হাসপাতালও। বিশ্বে এই ধরনের হাসপাতাল এটাই প্রথম। থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নাখন রাতচাসিমায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই মারিজুয়ানা ক্লিনিকটি যাত্রা শুরু করে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে গাঁজার ব্যবহার বাড়াতে গত ৬ জানুয়ারি এই হাসপাতাল চালু করা হয়। প্রথম দুই সপ্তাহ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হবে।

এই হাসপাতালে প্রাথমিক পর্যায়ে দুই ভাগে সেবা দেয়া হবে রোগীদের। প্রথমে গাঁজার তেল দ্বারা- পেশি ব্যথা, মৃগী রোগ এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপির ফলে হওয়া নিউরোপ্যাথিক ব্যথা এবং বমি বমি ভাব সারানো হবে। দ্বিতীয়, গাঁজা দিয়ে তৈরি ওষুধ দ্বারা চিকিত্সা করা হবে। যেমন- দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলো যাদের ঘুমের অসুবিধা, ক্ষুধা না লাগা, বুক থেকে পেটের তীক্ষ্ণ ব্যথা, দূর্বলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেশি ব্যথা এবং স্ট্রোকের রোগীদের শরীর দুর্বলতার মতো নির্দিষ্ট রোগগুলো সারাতে গাঁজা ব্যবহার করা হবে। 

এই ক্লিনিকটি প্রাথমিকভাবে একজন চিকিৎসক এবং তিনজন সহ-চিকিৎসক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। আরো ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এরই মধ্যে, প্রথম দিন প্রায় ১০০ এবং দ্বিতীয় দিন ৫০০ জন চিকিৎসার নিয়েছেন। যদিও সরকারিভাবে এখনো ক্লিনিকটি বৈধতা পায়নি। তবে কিছুদিন পরেই গাঁজা দ্বারা চিকিৎসায় সুফল মিললে সরকার কর্তৃক অনুমোদন মিলবে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০ রোগী এই ক্লিনিকে রেজিস্ট্রেশন করেছে বলে সেখানকার এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

কৃষিখাতের আয় বৃদ্ধির জন্য ২০১৭ সালে গাঁজাকে চিকিৎসায় ব্যবহার ও গবেষণা কাজে ব্যবহারের বৈধতা দেয় দেশটি। থাইল্যান্ডে গাঁজা ব্যবহার করে চিকিৎসার জন্য ২৫টি ক্লিনিক রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ কর্মীর অভাবে এগুলো সপ্তাহে দু-একদিন খোলা থাকে। গাঁজা চাষ, উৎপাদন ও বিক্রির জন্য থাইল্যান্ডে সীমিত পরিসরে লাইসেন্স দেয়া হয়। তবে গত বছর থাই সরকার মাদক তালিকা থেকে গাঁজাকে বাদ দিয়েছে। এরপর থেকেই প্রতি বাড়িতে ছয়টি গাঁজার চারা আবাদের সুযোগ দেয়ার জন্য খসড়া আইন তৈরি করা হয়। 

গাঁজা নিয়ে হয়েছে যুদ্ধ: আফিমের নেশায় বুঁদ হয়ে চীনের টালমাটাল অবস্থা শুরু হয়। চীনে জাহাজ ভরে আফিম পাচার করত ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা, বিনিময়ে তারা পেত রুপার মুদ্রা। ওই সময় ভারতে আফিমের চাষ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তখন আফিম চাষ করা হতো সরকারি উদ্যোগে। ব্রিটিশদের এ ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে ক্ষেপে যায় চীন। এমনকি তা যুদ্ধ অবধি গড়ায়। এটি ইতিহাসে আফিমের যুদ্ধ নামে পরিচিত হয়ে আছে।

মূলত এ যুদ্ধের পরপরই সারা বিশ্বে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। অনেক দেশ মাদক নিষিদ্ধ করে নানা আইন করে। তবে ২০১০ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র গাঁজার বৈধতার পক্ষে এক আন্দোলন করে। তারই জেরে ২০১২ সালে সেখানকার কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গাঁজা বৈধ করার হয়। এরপর থেকে মাদক হিসেবে নয় বরং সুস্বাস্থ্য রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে গাঁজার ব্যবহার বাড়তে থাকে।

এবার তবে জেনে নিন গাঁজা কোন কোন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়- (১) নির্দিষ্ট পরিমাণ গাঁজা ব্যবহার করলে মৃগী জাতীয় স্নায়ু রোগের উপশম ঘটে। এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। ২০১৩ সালেই তাদের এই গবেষণা, ফার্মাকোলজি এন্ড এক্সপেরিমেন্টাল থেরাপিউটিক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়।

(২) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইন্সটিটিউট জানায়, গ্লুকোমা চোখের এমন এক রোগ যাতে অন্ধত্ব আনে। প্রায় ১০ বছর আগে এই বিষয়টি জানা গেছে। তবে গাঁজা গ্লুকোমা রোধে সাহায্য করে।

(৩) স্মৃতি বিভ্রাট ঘটে যাদের তাদের জন্য গাঁজা বেশ কার্যকরী এক উপাদান। এটি মস্তিস্ককে দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া থেকে রক্ষা করে। এমনটাই জানিয়েছেন দ্য জার্নাল অব অ্যালঝাইমার ডিজিজ।

(৪) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যান্সার বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্যান্সার অর্গ-এ জানানো হয় গাঁজা টিউমারের ঝুঁকি কমায়। ২০১৫ সালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুসারে। গাঁজা টিউমার প্রতিরোধকের ভূমিকা পালন করে।

(৫) ক্যান্সার রোগীদের নিয়মিত কেমোথেরাপি নিতে হয়। এক্ষেত্রে গাঁজা কেমোথেরাপির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কমায়। ইউএস এজেন্সি ফর ড্রাগ জানিয়েছে এই তথ্য।

(৬) গাঁজা মস্তিষ্ক সুরক্ষায় সহায়তা করে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম এমনটিই জানিয়েছে। 

(৭) গাঁজা সেবনে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে না বরং বাড়ে। জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে এই তথ্যের। ৫ হাজার ১১৫ জন রোগীর ওপর ২০ বছর চালানো ওই গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক সেবনকারীদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে অথচ গাঁজা সেবনকারীদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিউজওয়ান২৪.কম/এমজেড