ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

কোরআন পড়ি প্রতিদিন (পর্ব-২) 

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ১৬ মে ২০২০  

সূরা আল বাকারার ধারাবাহিক আলোচনা... (আয়াত ১-১০)

সূরা আল বাকারার ধারাবাহিক আলোচনা... (আয়াত ১-১০)


পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিরাট সওয়াব অর্জন করার সুযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে অনেক উপকারিতাও রয়েছে। বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।’ (সুনান আত-তিরমিযী: ২৯১০)।

আপনি কি নিজেকে বদলাতে চান? জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে চান? আপনি কি মরেও অমর হয়ে থাকতে চান?  সর্বোপরি দুনিয়া এবং আখিরাতে আপনি যদি সফল হতে চান তাহলে আজ থেকেই যুক্ত হোন আমাদের কোরআন শিক্ষার এই আসরে। 

পবিত্র কোরআনের ১০টি আয়াত নিয়ে ধারাবাহিকভবে আমাদের কোরআন শিক্ষার আলোচনা চলবে। ইনশাআল্লাহ! 

প্রতিদিন ১০ আয়াত। মাসে ৩০০। বছরে ৩৬০০। এভাবে  ২ বছরে ৭২০০ আয়াত। পবিত্র কোরআনে আয়াত আছে ৬৬৬৬ আয়াত। অর্থাৎ প্রতিদিন ১০ আয়াত করে পড়লে কোরআন অর্থসহ পড়তে ২ বছরও কম সময় লাগবে। 

কোরআন শিক্ষার আসরে আজ থাকছে পবিত্র কোরআনুল কারিমের সূরা আল বাকারার ধারাবাহিক আলোচনা। 

সূরা আল বাকারা (আরবি ভাষায়: سورة البقرة)। এটি পবিত্র কোরআনুল কারিমের দ্বিতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ৪০টি। আল বাকারা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। 

সূরা আল বাকারা ১-১০ আয়াত :  

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

(সূরা আল বাকারা: ১-১০)

(১)
الم
আলিফ লাম মীম।
A.L.M.

(২)
ذَلِكَ الْكِتَابُ لاَ رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ
এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,
This is the Book; in it is guidance sure, without doubt, to those who fear Allah.

(৩)
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
যারা অদেখা বিষয়ের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে
Who believe in the Unseen, are steadfast in prayer, and spend out of what We have provided for them;

(৪)
والَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ
এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের ওপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের ওপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।
And who believe in the Revelation sent to thee, and sent before thy time, and (in their hearts) have the assurance of the Hereafter.

(৫)
أُوْلَـئِكَ عَلَى هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।
They are on (true) guidance, from their Lord, and it is these who will prosper.

(৬)
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ
নিশ্চিতই যারা কাফের হয়েছে তাদেরকে আপনি ভয় প্রদর্শন করুন আর নাই করুন তাতে কিছুই আসে যায় না, তারা ঈমান আনবে না।
As to those who reject Faith, it is the same to them whether thou warn them or do not warn them; they will not believe.

(৭)
خَتَمَ اللّهُ عَلَى قُلُوبِهمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عظِيمٌ
আল্লাহ তাদের অন্তকরণ এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
Allah hath set a seal on their hearts and on their hearing, and on their eyes is a veil; great is the penalty they (incur).

(৮)
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللّهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ
আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়।
Of the people there are some who say: "We believe in Allah and the Last Day;" but they do not (really) believe.

(৯)
يُخَادِعُونَ اللّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلاَّ أَنفُسَهُم وَمَا يَشْعُرُونَ
তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না।
Fain would they deceive Allah and those who believe, but they only deceive themselves, and realise (it) not!

(১০)
فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللّهُ مَرَضاً وَلَهُم عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ
তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন।
In their hearts is a disease; and Allah has increased their disease: And grievous is the penalty they (incur), because they are false (to themselves)

আজকে যা শিখলাম-

(১) মহান রব স্পষ্ট করে বলেছেন, পবিত্র কোরআন- যাতে বিন্দুপরিমাণ সন্দেহ নেই
(২) কোরানের প্রতি তাদেরই পরিপূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস যারা পরহেযগার, আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করে, নামাজ কায়েম করে এবং প্রতিপালক যা-ই দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকে।   
(৩) যারা কোরআনকে বিশ্বাস করে তারা অবশ্যই পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবেও বিশ্বাস রাখে। 
(৪) আল্লাহ পাক বলেছেন, তারাই সফলকাম। 
(৫) মহান রব বলেই দিয়েছেন, যাদের এসবে বিশ্বাস নাই তাদেরকে যতই বলা হোক তারা পরিবর্তন হবে না, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে।
(৬) অবিশ্বাসীদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। 
(৭) অন্যদিকে কিছু মানুষ আছে যারা মুখে বলে আমরা ঈমানদার। প্রকৃতপক্ষে তারা তা নয়। ধোঁকাবাজ। মোনাফেক। আল্লাহপাক বলেন, আসলে তারা আল্লাহকে নয় বরং নিজেদের ধোঁকা দেয়। তারা সোজা নয় বরং বাঁকা পথকে বেছে নিয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।

হে মহাপরাক্রমশালী রব! আমাদের অতীতের গুনাহগুলো ক্ষমা করুন, আমাদের দয়া করুন। আমাদের সোজা পথ দেখান। আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ভবিষ্যতে সবধরণের গুনাহ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। শয়তানের শয়তানি ও কুদৃষ্টি থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।  

(চলবে )

সূত্র : ইকরা নিউজ