ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

কোরআনের ভাষায় নবী-রাসূলদের কাজ

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১২, ৮ নভেম্বর ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা ও মানবকুল থেকে রাসূল মনোনীত করেন। এ ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ফেরেশতা ও মানবকুল থেকে রাসূল মনোনীত করে থাকেন।’ (সূরা : হজ, আয়াত : ৭৫)। 

মানবজাতির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষই নবী ও রাসূল হয়ে থাকেন। নবী-রাসূলরা আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত এবং তিনি তাঁদের সব ধরনের চারিত্রিক ও মানবিক দোষত্রুটি থেকে রক্ষা করেন।

আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই তারা ছিল আমার মনোনীত উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা : সোয়াদ, আয়াত : ৪৭)।

আল্লাহ প্রতিটি জাতির জন্য স্বজাতি থেকে নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর এমন কোনো জাতি নেই, যাদের কাছে সতর্ককারী বা ভীতি প্রদর্শক প্রেরিত হয়নি।’ (সূরা : ফাতির, আয়াত : ২৪)।

কোরআনের ভাষায় নবী-রাসূলদের কাজ:
পবিত্র কোরআনে নবী-রাসূলদের (আ.) মৌলিক চারটি কাজের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদেরকে তাঁর আয়াতগুলো পড়ে শোনান, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। অথচ এর আগে তারা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত ছিল।’ (সূরা : জুমুআ, আয়াত : ২)।

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আমি সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী রাসূল প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূল আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে। আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা : নিসা, আয়াত : ১৬৫)।

নবী-রাসূলদের (আ.) কর্মপদ্ধতি ছিল উচ্চতর প্রজ্ঞা ও কল্যাণকামিতায় ভরপুর। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর পথে মানুষকে হিকমত ও উত্তম উপদেশ সহকারে দাওয়াত দাও।’ (সূরা : নাহল, আয়াত : ১২৫)।

আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তরে উম্মতের জন্য, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য অপরিসীম ভালোবাসা দান করেছিলেন। ফলে তাঁরা দ্বিনের দাওয়াত শুধু দায়িত্ব হিসেবে দিতেন না; বরং তাঁদের সত্তাগত তাড়নাও কাজ করত। আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য আমি আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করিনি; কিন্তু এটা তাদেরই উপদেশের জন্য, যারা ভয় করে।’ (সূরা : ত্বহা, আয়াত : ১-৩)।

মুহাম্মাদ (সা.) সবার রাসূল:
পৃথিবীতে নবী-রাসূলদের আগমনের ধারাক্রম মুহাম্মাদ (সা.)-এর মাধ্যমে শেষ হয়েছে। তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না। ফলে তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। কিয়ামত পর্যন্ত আগত সব মানুষ ও জিন তাঁর আনীত শরিয়ত (জীবনবিধান) মানতে বাধ্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বলুন, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সবার প্রতিই আল্লাহর রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।’ (সূরা : আরাফ, আয়াত : ১৭৫)।

আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে মানবতার মুক্তির দূত ও সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)।

আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মাদ (সা.)-কেই শুধু সম্মানিত করেননি; বরং তাঁর উম্মতকেও সম্মানিত করেছেন। তাদের অন্য উম্মতের জন্য সাক্ষ্য ও আদর্শ বানিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘এভাবে আমরা তোমাদের একটি উত্তম জাতিরূপে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা গোটা মানবজাতির জন্য সত্যের সাক্ষ্যদাতা হতে পারো এবং রাসূল যেন তোমাদের সাক্ষ্য বা নমুনা হন।’ (সূরা : বাকারা, আয়াত : ১৪৩)।

নিউজওয়ান২৪.কম/আরাফ