ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯ প্রধানমন্ত্রী ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে বাকু যাচ্ছেন বুধবার আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ

কেন ‘উল্টে’ গেলেন এরশাদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৫৩, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১৯ দিন। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, নেতাদের কথার ধরন বদলে যাচ্ছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে এখন নানা ধরনের নাটক হচ্ছে। সেই নাটকের এক দৃশ্যে দেখা গেল এরশাদ হঠাৎ করেই হাসপাতালে ভর্তি হলেন। চিকিৎসাও নিলেন। 

আবার আরেক দৃশ্যে আমরা দেখতে পেলাম তিনি হাসপাতাল থেকেই তার মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে সেই পদে বসিয়েছেন মসিউর রহমান রাঙ্গাকে। কয়েক বছর আগে একই কায়দায় জিয়াউদ্দিন বাবলুকে সরিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদারকে বসিয়েছিলেন। হাওলাদারের বিরুদ্ধে মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন তারই দলের অনেক নেতা। এরপর আবার ঘোষণা আসলো, জাতীয় পার্টিতে এরশাদের পরই হাওলাদারের অবস্থান।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মোট ১৬১টি আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই আসনগুলোতে জাতীয় পার্টি তাদের প্রার্থীদের প্রত্যাহার করেনি। মহাজোটের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টিকে ২৯টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট না হয়ে জাপা আরও ১৩২টি আসনে প্রার্থিতা বহাল রেখেছে। জাতীয় পার্টির কাছে এটুকুই চেয়েছিল বিএনপি। বিএনপি নয় তারেক জিয়া এরশাদের কাছে এতটুকু চেয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের সূত্র বলছে, ১০ বছর সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হঠাৎ উল্টে গেলেন লোভী এরশাদ। এদিকে রওশন এরশাদ সব সময় সরকারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করলেও এখন টু শব্দ করছেন না।

তারেক জানতেন, এরশাদ এই লোভ সংবরণ করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত তারেকের অনুমানই সঠিক হলো। দেখা যাচ্ছে যে, ১৩২টি আসনে জাতীয় পার্টি তাদের প্রার্থীদের বহাল রেখেছেন, তার ৭২টি আওয়ামী লীগের জন্য সম্ভাবনাময় ছিল। এর ফলে, এই আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের এক জটিল সমীকরণে পড়তে হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছে, যেহেতু গত ১০ বছর আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি গাঁটছড়া বেধে আছে। ফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে ভাগ বসাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ে অর্থাৎ আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ। বৃহত্তর রংপুর, বৃহত্তর সিলেটে জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকা মানেই আওয়ামী লীগের ঝুঁকি। ২০০১ সালে নৌকা প্রতীকে ভোট বাড়লেও ত্রিমুখী লড়াইয়ের কারণে, আওয়ামী লীগ মাত্র ৬২ আসন পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি বিএনপির ইঙ্গিতে একা নির্বাচন করেছিল। বিএনপি এরশাদকে গ্রেপ্তার থেকে দূরে রেখেছিল। মঞ্জুর হত্যা মামলাও চালু করেনি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি মহাজোটের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করেছিল। মহাজোটের বাইরে জাপা কোনো একক প্রার্থী দেয়নি।

এবার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর অনেক আগে থেকেই তারেক জিয়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ঢাকায় এরশাদের ছোট ভাই এবং জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি এবং তারেকের উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগ থেকে আলাদা করা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিএনপি উদারপন্থী এবং প্রগতিবাদী ভোটের একটি ভাগ নেয়। অন্যদিকে জামাতকে আগলে রেখে ইসলামপন্থীদের ভোটও ধরে রাখে। 
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি জামাত আলাদা হলে লাভ হয় আওয়ামী লীগের। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি আলাদা হলে, লাভ হয় বিএনপির। এর ফলে আওয়ামী লীগের ঝুঁকিপূর্ণ আসন বাড়ল। মহাজোটগতভাবে নির্বাচন করলেও আওয়ামী লীগের ৫৪ টি আসন ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এখন ১৩২টি আসনে জাতীয় নির্বাচন করায় সেই আসনগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেল।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, উন্মুক্ত আসনগুলোতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে তাতে করে মহাজোটের প্রার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি জানান, প্রতিটা আসনে জাতীয় পার্টির অনেক প্রার্থী ছিল, যা কোনভাবেই সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না। মহাজোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই জাতীয় পার্টির জন্য ১৩২ আসনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এতে করে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

এদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাওলাদারের জায়গায় জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব হলেন মশিউর রহমান রাঙ্গা।

তথ্য মতে, ঋণখেলাপির কারণে রুহুল আমিন হাওলাদারের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে পার্টির মনোনয়নবঞ্চিতদের বিক্ষোভের মুখে গত ৩ ডিসেম্বর মহাসচিব পদে রদবদল আনেন এরশাদ। সেদিন এক বিজ্ঞপ্তিতে রুহুল আমিনকে ওই পদ থেকে সরিয়ে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিব করা হয়। এসবের মাঝেই একাদশ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ২৯ আসন দিয়েছে মহাজোট। এছাড়া ১৩২টি আসনে আমাদের প্রার্থীরা উন্মুক্তভাবে নির্বাচন করবে। সব মিলিয়ে ১৬১টি আসনে লড়বে জাতীয় পার্টি।

নিউজওয়ান২৪/এএস