সদ্যজাত শিশুকে ডজনখানেক ছুরিকাঘাত অতঃপর মাটিচাপা, তবুও...
অপরাধ ডেস্ক
নিইজওয়ান২৪.কম
প্রকাশিত : ১২:৫৫ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:৩৪ পিএম, ২ মার্চ ২০১৬ বুধবার
ফাইল ফটো
সদ্যজাত শিশুটিকে ডজনখানেক বার ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর তাকে জ্যান্ত অবস্থায়ই মাটিচাপা দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে- সদ্যপ্রসূত শিশুটির ওপর এই গা শিউরানো ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার কারিগর অন্য কেউ নয়, তার আপন পিতামাতা কিংবা শুধু তার মা। তবে পৈশাচিক হত্যাচেষ্টার পরেও শিশুটিকে হত্যা করতে পারেনি পাষণ্ডরা।
বৃহস্পতিবার থাই পুলিশ জানায়, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খন কায়েনের এই ঘটনায় শিশুটির পিতা-মাতাকে খুঁজছে পুলিশ। একজন নারী কৃষক লতাপাতা দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়, গত বুধবার মাটিচাপা দেওয়া ক্ষতবিক্ষত আর গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন ওই নারী। এসময় তার গরুগুলো মাঠে চড়ছিল। তিনি খেয়াল করেন গরুগুলো পাশের ইউক্যালিপটাস বাগানের দিকে বারবার তাকাচ্ছে। পরে তিনি বুঝতে পারেন একটি শিশুর কান্নার শব্দই গরুগুলোকে সেদিকে আকৃষ্ট করছিল।
এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নপ্পর্ন রিথনুয়াল জানান, পুলিশ অপরাধীদের ধরতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
একইসঙ্গে নপ্পর্ন সবার জন্য আনন্দের সংবাদটি দিয়ে জানান, চিকিৎসকরা বলেছেন শিশুটি এখন আশংকামুক্ত।
স্থানীয় টিভিচ্যানেলগুলো হাসপাতালে একদল সদাব্যস্ত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা শিশুটির সার্বক্ষণিক সচিত্র সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছে।
তবে কী সেই কারণ যে জন্য ফেরেশতাতুল্য এই নিষ্পাপ শিশুটিকে বীভৎস নির্যাতন চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়- তা এখনও জানা যায়নি।
গর্ভপাত থাইল্যান্ডে বেআইনি হলেও খুবই সাধারণ ঘটনা। যদিও থাই রক্ষণশীল সমাজে বিবাহপূর্ব যৌনসংসর্গকে খুবই কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে দেখা হয় তবুও টিনএজ গর্ভপাতের হারের দিক দিয়ে পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে দেশটির অবস্থান শীর্ষে।
এছাড়া বিশ্ব মানচিত্রে দেহব্যবসার অন্যতম কেন্দ্রভূমি হিসেবে থাইল্যান্ডের পরিচিতি অবিসংবাদিত হলেও দেশটিতে তরুণদের যৌনশিক্ষা কার্যক্রম সীমিত।
২০১১ সালে এক গোরখোদককে ৪০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল দেশটির আদালত। তার অপরাধ? তিনি জোর করে গর্ভপাত করানো প্রায় দুই হাজার অপরিণত মানব শিশুর দেহ মাটিচাপা দিতে সহায়তা করেছেন। এই ঘটনা তিনি যেখানে ঘটান তা ছিল একটি বৌদ্ধ মন্দির। আর মন্দিরটির অবস্থান ছিল খোদ রাজধানী ব্যাংকক শহরে! এএফপি, দ্য মালেশিয়ান ইনসাইডার
নিউজওয়ান২৪.কম/এটিকে
