NewsOne24

পৈশাচিকতার মিছিলে যোগ হলো আরও ৪ শিশু

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা

নিউজওয়ান24.কম

প্রকাশিত : ০৬:২৩ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ বুধবার | আপডেট: ০৬:৫৩ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ বুধবার

নির্মম পৈশাচিকতায় শিশুহত্যার ধারাবাহিকতা যেন থামতেই চাচ্ছে না। আজ নারায়ণগঞ্জে তো কাল খুলনায়, এরপর কদিন বাদে আবার চাঁদপুরে, নয়তো বরিশালে। দেশের একের পর এক জেলায় একশ্রেণির মানুষ যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে কে কতোভাবে ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুদের নির্যাতন-নিপীড়ণ আর হত্যা করতে পারে।

এরই সর্বশেষ নজির পাওয়া গেল হবিগঞ্জের বাহুবলে। এবার একসঙ্গে চার শিশুর মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই চার শিশু গত কদিন ধরে নিখোঁজ ছিল।

বুধবার হতভাগ্য ওই শিশুদের লাশ পাওয়া গেছে উপজেলার সুন্দ্রাটেকি গ্রামের ঈসা বিল এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায়। এই কী কারণে কারা এই ভয়াবহ নির্মমতা ঘটিয়েছে তার এখনি জানা না গেলেও পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের একটি সূত্র মনে করছে।

জেলা পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র জানান, সকালে উপজেলার সুন্দ্রাটেকি গ্রামের ঈসা বিলের একটি মাটির স্তূপের নিচ থেকে শিশুদের লাশের অংশ বেরিয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারশিশুর লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এই নির্মম ঘটনার সংবাদ পেয়ে সিলেট পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তিনি ঘোষণা দেন, যারা এই পৈশাচিক নির্মমতা ঘটিয়েছে তাদেরধরিয় দিতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা এলাকার এই চার শিশু হলো- আবদাল মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)। মনির সুন্দ্রাটেকি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রথম শ্রেণি এবং তার দুই চাচাতো ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেনির ছাত্র ছিল। আর তাদের প্রতিবেশী অপর শিশু ইসমাইল ছিল স্থানীয় সুন্দ্রাটেকি মাদ্রাসার ছাত্র।

গত শুক্রবার বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল এই চার শিশু।

সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে পরে মাইকিং করা হয় তাদের সন্ধানে। তাতেও কোনো ফল হয়নি। পরদিন শনিবার দুপুরে শুভর বাবা ওয়াহিদ মিয়া বাহুবল মডেল থানায় এ ব্যাপারে সাধারণ ডায়েরি করেন।

চার শিশুকে অন্য কোথাও হত্যার পর লাশেঈসা বিলের ওই স্থানে এনে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সময় এবং কীভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে তা ময়নাতদন্তের আগে বলা সম্ভব নয় বলে জানান পুলিশ সুপার জয়দেব।

নিউজওয়ান২৪.কম/এসএল