NewsOne24

ভারত ভ্রমণ ভিসায় ই-টোকেন বাতিল: দুষ্টচক্রের হয়রানি থামবে তো!

স্টাফ রিপোর্টার

নিউজওয়ান২৪.কম

প্রকাশিত : ১১:৫৬ এএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০১:০৭ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার

বিভিন্ন প্রতিবাদ-অভিযোগের পাশাপাশি গণ-ইমেইল কর্মসূচিও গ্রহণ করেছিলেন ক্ষুব্ধ আবেদনকারীরা   -ফাইল ফটো

বিভিন্ন প্রতিবাদ-অভিযোগের পাশাপাশি গণ-ইমেইল কর্মসূচিও গ্রহণ করেছিলেন ক্ষুব্ধ আবেদনকারীরা -ফাইল ফটো

আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ই-টোকেন ছাড়াই ভারতে ভ্রমণ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরা।

তবে এজন্য প্লেন, ট্রেন বা বাসের টিকেটসহ আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। বুধবার ভারতীয় হাই কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের (আইভিএসি) মিরপুর কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভ্রমণের টিকেটসহ ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে। প্রবীণরাও এখানে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।

তবে এক্ষেত্রে কিছুটা বিধি-বিধান রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় হাই কমিশন জানায়, ভ্রমণের তারিখ ভিসা আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ৭ দিন পরের, কিন্তু এক মাসের মধ্যে হতে হবে।

এরইমধ্যে যারা ই-টোকেন পেয়েছেন তারা তাদের ভ্রমণ ভিসার আবেদন গুলশান, উত্তরা, মতিঝিল, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, যশোর, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে জমা দিতে পারবেন।

হাই কমিশন জানায়, পাইলট প্রকল্প হিসেবে গত অক্টোবর থেকে আইভিএসি উত্তরা কেন্দ্রে শুধু নারীদের জন্য আকাশপথ, ট্রেন বা বাসের টিকেটসহ ই-টোকেন ছাড়াই টুরিস্ট ভিসার আবেদনের নিয়ম করা হয়। ওই প্রকল্প খুব সফল হয়েছে। তাই নয়া বছরের প্রথমদিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে নারীরা মিরপুর কেন্দ্রেও একই সুযোগ পাবেন।

এর আগে মেডিকেল ভিসাসহ অন্যান্য ভিসার ক্ষেত্রে ই-টোকেন ছাড়া আবেদনের নিয়ম চালু করেছিল ভারত।

বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ই-টোকেন বাতিল করা হচ্ছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

তবে, ই-টোকেনকে ঘিরে গড়ে ওঠা দালাল চক্রের হয়রানি অন্য কোনো কায়দায় শুরু হয় কি না- এটাও দেখার বিষয় বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে। কারণ, বিগত সময়ে দেখা গেছে প্রতিটি ই-টোকেনের জন্য দূতাবাসকেন্দ্রিক দালাল চক্রকে আড়াই হাজার টাকা বা তার বেশি অতিরিক্ত দিতে হতো। মিডিয়ায় অনেক রিপোর্ট এবং দূতাবাস কর্তৃপক্ষের তৎপরতায়ও থামেনি ভিসাকেন্দ্রিক দালালদের অপতৎপরতা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ই-টোকেন আবেদন কিছু নির্দিষ্ট ই-মেইল থেকে করলে সাড়া পাওয়া যায়- কিন্তু সাধারণ মানুষ তাতে সারাদিন চেষ্টায়ও ঢুকতে পারে না।

এই দুষ্টচক্রকে দমনে ই-টোকেন বাতিল করার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সাধুবাদ পাবে বলে মনে করেন দোহারের বাসিন্দা জামলউদ্দিন। ব্যবসা, চিকিৎসা ও ভ্রমণসূত্রে অসংখ্যবার ভারত গমন করেছেন এমন বাংলাদেশি সবাই এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাবেন-এটা নিশ্চত।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় ভিসা পেতে অনিয়ম-অসঙ্গতি দূর করার দাবিতে বিভিন্ন প্রতিবাদ-অভিযোগের পাশাপাশি গণ-ইমেইল কর্মসূচিও গ্রহণ করেছিলেন ক্ষুব্ধ আবেদনকারীরা।

গেন্ডারিয়া নিবাসী শেখ নাইম পারভেজ তুহিন বললেন, আমাকে অনেকবার ভারত যেতে হয়েছে ব্যবসা ও ভ্রমণ সূত্রে। ভারতে ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে ই-টোকেন বিরাট এক মাথাব্যথার কারণ ছিল। এটা বাতিল করে ভাল করেছে তারা। তবে এখন যেন আবার অন্য কোনো খাতে অর্থ আদায়ে হয়রানিমূলক তৎপরতায় লিপ্ত না হয়ে ওঠে দুষ্টচক্র- সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ভারতীয় দূতাবাসকে।

নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে