NewsOne24

পুরুষের তুলনায় নারী চিকিৎসকের সেবা মৃত্যু হার কমায়!

স্বাস্থ্য ডেস্ক

নিউজওয়ান২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:২২ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ রোববার | আপডেট: ১১:৫০ এএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার

প্রতীকি ছবি

প্রতীকি ছবি

হাসপাতালে ভর্তি বৃদ্ধ রোগী যারা নারী চিকিৎসকের সেবা পেয়েছেন- তাদের মৃত্যু হার পুরুষ চিকিৎসকের সেবা পাওয়াদের ‍তুলনায় কম। এটা কোনো কবির কল্পনা নয়- একেবারে হার্ভার্ডং ইউনিভার্সিটির অনুসন্ধানী গবেষণার ফল।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, নারী চিকিৎসকের সেবা পাওয়া ব্যক্তিরা শুধু মৃত্যু ঝুঁকি এড়াতেই সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন তা নয়- হাসপাতাল ছাড়ার পরবর্তী ৩০ দিনে ফের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের সংখ্যা কম।

এছাড়া হার্ভার্ডের গবেষণা সূত্রে এমনও বলা হচ্ছে যে, নারী চিকিসকরা যেভাবে যত্মের সঙ্গে এবং গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন- যদি পুরুষ চিকিৎসকরাও ঠিক একই কায়দায় রোগীদের সেবা দিতেন তবে বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৩২ হাজার মৃত্যু ঠেকানো যেত।

জেএএমএ ইন্টারনাল মেডিসিন নামের অনলাইন জার্নালে সম্প্রতি এই গবেষণার ফলের কথা প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়, ধারণা করা যাচ্ছে নারী ও পুরুষ চিকিৎসকদের চিকিৎসা দেওয়ার পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে। এই পার্থক্যটা সম্ভবত রোগীদের স্বাস্থ্যে বড় রকমের প্রভাব রাখে।

নিউজওয়ান২৪.কম-এ আরও পড়ুন শরীর নিয়ে চমকানো সব তথ্য

গবেষক দলের প্রধান ইউসুকে টি বলেন, নারী আর পুরুষ চিকিৎসকের চিকিৎসা পাওয়াদের মৃত্য হারের পার্থক্য আমাদের হতবাক করে দিয়েছে। গুরুতর রোগীদের সুস্থতার ক্ষেত্রে তাদের চিকিৎসক নারী না পুরুষ- এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিতে পারে।

ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত হার্বার্ড টিএস চান স্কুল অব পাব্লিক হেলেথর রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ইউসুকের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল ৬৫ বছর বা তার ওপরের বয়সী লোকজন যারা হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নেন- এ ধরনের ১০ লাখ ব্যক্তির তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেন। এদের প্রত্যেকেই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যায় কখনো না কখনো হাসপাতালে ভর্তি থেকেছেন।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যদি বৃদ্ধ রোগীদের চিকিৎসা নারী ডাক্তাররা করেন সেক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৪% পর্যন্ত কমে যায়। এছাড়া হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনে ফের হাসপাতালে আসতে হয়েছে- এমন ক্ষেত্রেও পরিসংখ্যান বলছে, নারী চিকিৎসকের সেবা পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৫% কমে যায়।

এছাড়া কয়েক ধরনের রোগ এবং গুরুতর কিছু রোগীর ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষ ডাক্তারের চিকিৎসা সেবায় তারতম্যের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

গবেষণা তথ্য আরও বলছে যে, নারী চিকিৎসকরা চিকিৎসা সন্বন্ধীয় বিধি-বিধান-নির্দেশাবলী অধিক গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করে থাকে। একই সঙ্গে তারা রোগীর দেখাশোনা বা তাকে সারিয়ে তোলার বিষয়ে বেশি মনোযোগী হয়।

রোগীদের সঙ্গে কথাবার্তা তথা আচার-আচরণে নারী ডাক্তার বেশি সংবেদনশীল হন। তারা জরুরি পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণে বেশি আন্তরিক হন। এসবকিছুর বাইরে তারা রোগীদের উত্তম কাউন্সেলিংও করে থাকেন।

এদিকে, পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণার এই তথ্য যদি সত্য হয় তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আনুপাতিক হারে তা প্রযোজ্য হতে পারে- এটা অনস্বীকার্য।

তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়- যদিও এই বিশ্লেষণ এটা প্রমাণ করতে পারছে না যে রোগীদের সুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিসকের নারী না পুরুষ হওয়াটাই নিয়ামক বিষয়, তবে গবেষকরা তাদের ব্যাখ্যার পক্ষে যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন।

এই মন্তব্য এটাই বলতে চাইছে যে হার্ভার্ডের গবেষক দল যেটা প্রমাণ করতে চাইছেন, আসল ঘটনা তা নাও হতে পারে। হয়তো অন্য কোনো

কারণে এমনটা হচ্ছে যা দৃষ্টি এড়িয় যাচ্ছে সবার।

তবে হার্বার্ড গবেষক দল প্রকাশিত এ তথ্য চিকিৎসামহলে আগ্রহের সঞ্চার করেছে।
নিউজওয়ান২৪.কম/একে