আইটিইউ পুরস্কার পেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প
আইটি ডেস্ক
নিউজওয়ান২৪.কম
প্রকাশিত : ০৯:২৬ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার | আপডেট: ১০:৩২ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার
পুরস্কারের সনদ হাতে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম
আগামী বছর ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণ হতে যাওয়া বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ প্রকল্প আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার (আইটিইউ) ‘রিকগনিশন অফ এক্সিলেন্স’ পুরস্কার পেয়েছে।
থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘আইটিইউ টেলিকম ওয়ার্ল্ড ২০১৬’-এর শেষদিন গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন আইটিইউ মহাসচিব হাওলিন ঝাও।
আগামী বছর ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণ হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এরপর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের এপ্রিল নাগাদ এটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। বাংলাদেশ সরকার এমন প্রত্যাশাই করছে।
পুরস্কার পাওয়া প্রসঙ্গে তারানা হালিম জানান, উদ্ভাবনী আইসিটি সেবার স্বীকৃতি হিসেবে আইটিইউ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পকে এ পুরস্কার দিয়েছে। আয়োজকরা জানায়, ‘আইটিইউ টেলিকম ওয়ার্ল্ড ২০১৬’ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নয়া উদ্ভাবনের মাধ্যমে বৈশ্বিক উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করা।
‘বেটার সুনার, একসেলেরেটিং আইসিটি ইনোভেশন টু ইমপ্রুভ লাইভস ফাস্টার’ স্লোগান নিয়ে ১৪ থেকে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী।
এতে এবার বিশ্বের ১০০টি দেশের প্রায় ৪ হাজার সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতের শীর্ষস্থানীয়রা অংশ নেন। এবারের আয়েঅজনে বাংলাদেশের নিজস্ব স্টল ছিল যাতে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এর রেপ্লিকা উপস্থাপন করা হয়।
ফ্রান্সের থালিস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে বাংলাদেশের এই স্যাটেলাইট নির্মাণের কাজের অর্ধেক ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী তারানা।
এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ থেকে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি প্রধান শাহজাহান মাহমুদসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা যোগ দেন।
ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের ভৌত নির্মাণের ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং গ্রাউন্ড স্টেশনের জন্য যন্ত্রপাতি কেনার কাজও শেষ করেছে নির্মাতারা।
নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকার সুবিধা
২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণের জন্য স্যাটেলাইট-সিস্টেম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর অর্ধেক নিজেদের ব্যবহারের জন্য রেখে বাকি ২০টি বিদেশিদের ভাড়া দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।
সরকারের আশা, নির্মীয়মান স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের পর বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে দেশের ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। উৎক্ষেপণের পরবর্তী সাত বছরে স্যাটলোইটটি নির্মাণের খরচ উঠে আসবে বলে জানায় বিটিআরসি সূত্র। বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, স্যাটেলাইট থেকে আয়ের ৭০ শতাংশ আসবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ আসবে স্থানীয় পর্যায় থেকে।
এক হিসাবে দেখা গেছে, স্থানীয় আয়ের মধ্যে দেশি ২৪টি স্যাটেলাইট টিভি থেকে বছরে আসবে অন্তত দেড় কোটি ডলার। এ পরিমাণ অর্থ প্রতি বছর হংকং ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে তাদের স্যাটেলাইট ব্যবহারের কোরণে। নিজেদের স্যাটেলাইট চালু হলে এসব চ্যানেলের তখনেআর বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে হবে না। ফলে আয় উঠে আসতে বেশি সময় লাগবে না। তবে বিটিআরসির এই হিসাব নিয়ে দ্বিমত আছে। বেসরকারি চ্যানেলগুলোকে নিজেদের স্যাটেলাইট সংযোগ নিতে বাধ্য করা যাবে কি না- অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপনের খরচ ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা নিজেদের তহবিল থেকে এবং বাকি ১ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ হিসাবে নেবে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থালিস এলিনিয়ার ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী প্রায় সাড়ে তিন টন ওজনের এই কৃত্রিম উপগ্রহের আয়ুষ্কাল হবে ১৫ বছর। উইকিপিডিয়া, বিটিআরসি
নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে
