১৯৪৮ সালের পর সবচেয়ে বড় ‘সুপার মুন’ হবে সোমবার!
বিজ্ঞান ডেস্ক
নিউজওয়ান২৪.কম
প্রকাশিত : ০৬:২৭ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার | আপডেট: ১১:০৮ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৬ সোমবার
ফাইল ফটো
আগামী সোমবার (১৪ নভেম্বর) পূর্ণিমার চাঁদটি দেখা দেবে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০% বেশি উজ্জ্বল। আকারেও দেখাবে ১৪% বড়। এ তথ্য জানিয়েছে আইরিশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএএ)।
হেমন্তের এই সময়ে আকাশ প্রায় মেঘমুক্ত থাকায় বাংলাদেশসহ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলো এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও সূর্যান্তের কিছু সময় পর থেকেই ভাল মতো দেখা যাবে এই বিশেষ চাঁদকে। দুনিয়ার অন্যান্য এলাকা থেকেও দেখা যাবে সুপার মুন। তবে শহরাঞ্চলের বাইরে (যেখানে আলোক-দূষণ নেই) সেদিনের চাঁদকে বেশি আকর্ষণীয় আর উপভোগ্যভাবে দেখা যাবে।
যদিও ‘সুপার মুন’ অর্থাৎ পূর্ণিমার চাঁদকে বড় আকারে দেখা যাওয়া বিরল কিছু নয়। এমনিতে গড়ে প্রতি ১৪ মাস অন্তর এমনটি ঘটে থাকে। কিন্তু ১৪ নভেম্বর যে সুপার মুন দেখা যাবে, নাসা এটাকে বলছে ‘এক্সট্রা সুপার মুন’। সাধারণ সুপার মুনের চেয়ে এসময় চাঁদকে দেখাবে আরও একটু বেশি বড় ও উজ্জ্বল।
এখানে একটি মজার প্রসঙ্গ আছে। তা হলো সন্ধ্যার পর থেকে ঘণ্টা দুয়েক পর্যন্ত দিগন্ত রেখার কাছাকাছি থেকে চাঁদকে অস্বাভাবিক বড় আর উজ্জ্বল দেখালেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদ যখন মাথার উপরে চলে আসবে তখন কিন্তু তাকে প্রায় চিরকেলে স্বাভাবিক চাঁদের মতোই লাগবে। চন্দ্রোদয়কালে আমাদের দৃষ্টিগত বিভ্রমের কারণে এমনটি হয় বলে জানান উত্তর আয়ারল্যান্ডে স্থাপিত আরমাঘ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক মার্ক বেইলি।
এর ফলে সারারাত আকাশে চাঁদের আকার আর উজ্জ্বলতা একই থাকলেও দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থানে থাকাকালে একে দেখাবে বৃহৎ এবং উজ্জ্বলতর।
সুপার মুনের কালে আরেকটি বিষয় ঘটে। তা হলো স্বাভাবিক পূর্ণিমার চেয়ে এসময়টায় সাগর-নদীতে জোয়ারের তীব্রতা বেশি থাকে। এসময় অবশ্য কোনো কোনো উপকূলীয় অঞ্চলে সার্ফারদের আনন্দে মাততে খো যায়- শুধু ঊঁচু ঊঁচু ঢেউয়ে সার্ফিং করার আনন্দই না- ফুটফুটে চাঁদনি রাতে সার্ফিংয়ের দুর্লভ সুখটাও যে আছে।
ফটোগ্রাফাররা যারা চাঁরে চবি তুলতে চান তারা জুম বা টেলিফটো লেন্সসহ শহরের কিছুটা দূরে গ্রামীণ, বন-বনানীতে ছাওয়া বা পাহাড়ি অঞ্চলে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে আইএএ’র পরাশর্শ হচ্ছে, যেখানে দিগন্ত রেখায় কোনো টাওয়ার-মিনার, বিশাল গাছ বা পরিচিত কোনো স্থাপনা, তাহলে সেগুলিতে পটভূমিতে রেখে তুলতে পারেন স্মরণীয় সব ছবি- এতে প্রিয় চাঁদ আর সঙ্গের অনুষঙ্গ দুটোই দেখাবে উজ্জ্বলতর।
সৌর নিয়মানুসারে বিভিন্ন সময় ও অবস্থানে চাঁদের অক্ষের পরিবর্তন-তারতম্য ঘটে। সেসূত্রে কখনো এটা স্বাভাবিকের চেয়ে পৃথিবীর কিছুটা কাছে চলে আসে। তবে এবারের কাছে আসাটা হতে যাচ্ছে ১৯৪৮ সালের পর থেকে সবচেয়ে কাছে (৩লাখ ৫৬ হাজার ৫০৯ কিলোমিটার। তবে এবারের সুপারমুনকালে গড় দূরত্ব হবে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার)। এরকম ঘটনা আবার দেখা যাবে ২০৩৪ সালে। তবে ওইসময় চাঁদকে আগামী ১৪ নভেম্বরের চেয়ে বেশি বড় আর উজ্জ্বল দেখাবে। কারণ, সেবার চাঁদ থাকবে এবারের চেয়ে পৃথিবীর আরও ৬৪ কিলোমিটার কাছে।
সর্বশেষ সুপার মুন দেখা গিয়েছিল ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে
