NewsOne24

প্রাকৃতিক কিছু বিষাক্ত পদার্থ (পর্ব-২)

নিউজ ডেস্ক

নিউজ ওয়ান২ ৪

প্রকাশিত : ০১:৩৩ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

 

প্রাকৃতিক কিছু বিষাক্ত পদার্থের প্রথম পর্বে জেনেছেন প্রকৃতির সবচেয়ে বিষাক্ত ১০ পদার্থের ৫টি সম্পর্কে। আজ থাকছে সেরা ৫টি প্রাকৃতিক বিষের বৃত্তান্ত-

(৫) সারিন

সারিন হলো একজাতীয় 'নার্ভ গ্যাস'। সারিনকে শুরুতে জার্মানিতে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র এটিকে রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। ১৯৯৫ সালে জাপানের টোকিওতে সাবওয়ে সারিন অ্যাটাক নামে খ্যাত কুখ্যাত হামলায় প্রাণ হারায় ১২ জন। সারিনের বিষাক্ততা সায়ানাইডের তুলনায় ২৬ গুণ! এ গ্যাস গ্রহণ করলে প্রথমে চোখ জ্বালা শুরু হয়, ক্রমাগত প্রস্রাব ও মলত্যাগ শুরু হয়, হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে মৃত্যু ডেকে আনে এ গ্যাস।

(৪) রাইসিন

2.বিষাক্ত প্রাকৃতিক পদার্থ (পর্ব-২)

রাইসিন মূলত একটি প্রোটিন। ক্যাস্টর বিন নামক ফল থেকে এটি নিঃসৃত হয়। রাইসিন খুবই সহজে প্রস্তুত করা যায়। এটির উৎপাদন কৌশল এতই সহজ যে কেউ বাড়িতে বসেই গুগল করে রাইসিন প্রস্তুত করতে পারেন! একটি বালির কণার অর্ধেক পরিমাণ রাইসিন গ্রহণই যে কোনো মানুষের ইহলীলা সাঙ্গ করবার জন্য যথেষ্ট! তবে একটি ভালো ব্যাপার হচ্ছে, কেউ যদি আপনাকে খুন করার পরিকল্পনা না করে থাকে তবে আপনার এ ভয়ানক বিষের সংস্পর্শে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় রাইসিন থাকে না, প্রাকৃতিক উপাদান থেকে একে তৈরি করে নিতে হয়। রাইসিনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় অনেক ধীর গতিতে। শরীরে প্রবেশের দশ ঘণ্টা পরে! প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রচণ্ড বমি ও ডায়রিয়া দেখা দেয়। ধীরে ধীরে যকৃৎ, প্লীহা ও কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। মৃত্যু তখন অবধারিত!

(৩) পারদ

বাতাস, পানি বা মাটিতে পারদের অস্তিত্ব অহরহই পাওয়া যায়। কিন্তু এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যখন এটি কিছু কিছু প্রজাতির মাছের দেহে তৈরি হয় মিথাইলমারকুরি যৌগ হিসেবে। এভাবে মাছের মাধ্যমে মানুষ এ ভয়ানক বিষ দ্বারা আক্রান্ত হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধাতুতেও পারদের অস্তিত্ব পাওয়া যায় এবং এর মাধ্যমেও আমাদের দেহে প্রবেশ করতে পারে। তালিকায় পারদের অবস্থান উপরে থাকার কারণ, খুব অল্প পরিমাণ পারদ হতে পারে চূড়ান্ত বিপদের কারণ। মৃত্যু যদি নাও হয়, এটি আমাদের দাঁত ও চুল ঝরিয়ে দিতে পারে এক মুহূর্তের মধ্যে। মৃত্যুও আশ্চর্যজনক নয়, ১৯৯৬ সালে একজন ব্রিটিশ নারী বিজ্ঞানী হয়েছিলেন এর করুণ শিকার। গবেষণাগারে পারদ নিয়ে কাজ করার সময় তিনি সম্ভাব্য সব রকম সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তারপরো ভুলক্রমে দুই ফোঁটা পারদ তার হাতের দস্তানায় পড়ে যায়। হাতে দস্তানা থাকায় তিনি ব্যাপারটিকে খুব একটা আমলে নেন নি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতার স্বীকার হয়ে কোমায় চলে যান এবং করুণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

(২) ব্যাট্রাকোটক্সিন

4.বিষাক্ত প্রাকৃতিক পদার্থ (পর্ব-২)

এই বিষের সবচেয়ে শক্তিশালী নমুনাটি পাওয়া যাওয়া গোল্ডেন পয়জন ফ্রগ নামে পরিচিত এক প্রজাতির ব্যাঙের দেহে। এ ব্যাঙেরা পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর প্রাণী হিসেবে স্বীকৃত। এই প্রজাতির একটি ব্যাঙ মাত্র এক মিলিগ্রাম ব্যাট্রাকোটক্সিন বহন করে, যা দশ থেকে বিশজন মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট!

(১) বটুলিনাম টক্সিন

এই বিষের খ্যাতি জগত জোড়া। যত দূর জানা যায়, বৃদ্ধদের চেহারায় তারুণ্য আনার জন্য বোটক্স নামের যে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, তাতে বটুলিনাম টক্সিনের অস্তিত্ব বিদ্যমান। এই বিষ সায়ানাইডের থেকে চার কোটি গুণ বেশি শক্তিশালী। মাত্র ৮০ ন্যানোগ্রাম শরীরে প্রবেশ করলেই খেল খতম, মৃত্যু একদম অবধারিত! দূর্ভাগ্যজনকভাবে, মেয়াদোত্তীর্ণ ক্যানজাত খাদ্যে এদের অস্তিত্ব পাওয়া যায় অনেক সময়, প্রথম পর্ব যে ব্যক্তির গল্প দিয়ে শুরু হয়েছিলো, উনিও তার একজন ভুক্তভোগী ছিলেন!

আরো পড়ুন>>> প্রাকৃতিক কিছু বিষাক্ত পদার্থ (পর্ব-১)

নিউজওয়ান২৪/আরএডব্লিউ