ক্রুদের বেতন না দেওয়ায় যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের ট্যাঙ্কার আটক
স্টাফ রিপোর্টার
নিউজওয়ান২৪.কম
প্রকাশিত : ১২:৫৩ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৬ শুক্রবার
চট্টগ্রাম জেটিতে নোঙর করা মীর কাসেমের পরিবারের মালিকানাধীন এডেন লাইন লিমিটেডের জাহাজ ফজলে রাব্বী -ফাইল ফটো
ঢাকা: যুদ্ধাপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া মীর কাসেম আলীর পরিবারের মালিকানাধীন একটি তেলপরিবহন জাহাজ আটকের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। জাহাজটিতে কর্মরত ক্রুদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করায় দায়ের করা মামলায় ‘এমটি ফজলে রাব্বী’ নামের ওই জাহাজটিকে হাই কোর্টের অ্যাডমিরালটি একক বেঞ্চের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আটকের নির্দেশ দেন।
জাহাজের ক্যাপ্টেন জুয়েল রহমানের গত ১০ অক্টোবর মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ক্যাপ্টেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জাহাজটিতে কর্মরত ১৮ ক্রুর ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, গত২ে২ সেপ্টেম্বর থেকে জাহাজে অবস্থানরত ক্রুদের খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছে শিপিং এজেন্ট।
জুয়েল রহমান বৃহস্পতিবার জানান, মামলা দায়েরের দিনই শুনানি শেষে বিচারক জাহাজটি আটক করতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ২১ নভেম্বর জাহাজের মালিকপক্ষকে আদালতে হাজির হতে বলেন।
একাত্তরের ঘাতক আলবদর কমান্ডার মীর কাসেমের ছেলে সালমান বিন কাসেম পরিচালিত এডেন লাইন লিমিটেডের মালিকানাধীন জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রামের ড্রাই ডক জেটিতে রয়েছে।
বাদী জুয়েল রহমান জানান, অয়েল ট্যাংকার এমটি ফজলে রাব্বীতে চুক্তিভিত্তিক মাসিক বেতনে চাকরিতে ঢোকেন তিনিসহ ওই ১৮ ক্রু। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের বকেয়া বেতনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। জাহাজটি চালু থাকার পরেও তা পরিশোধ করা হয়নি। এর মধ্যে কারও পাঁচ মাস, কারও আট মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাননি তারা। শেষে নিরূপায় হয়ে অ্যাডমিরালিটি আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান জুয়েল।
জানা গেছে, জাহাজটি আটকের নির্দেশের অনুলিপি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।
এমটি ফজলে রাব্বীতে কাজ করা থার্ড ইঞ্জিনিয়ার দেবাশীষ পাল অভিযোগ করেন, জুন মাসে জাহাজটি অপারেশনে থাকলেও মালিকপক্ষ আমাদের বেতন পরিশোধ করেনি। বিভিন্ন সময়ে কাজ করা অনেক ক্রুর বেতন বকেয়া রয়েছে। তিনি আরও জানান, চুক্তি ভিত্তিতে আট মাস কাজ করার পর তার পুরো বেতনের সাড়ে ১৫ লাখ টাকা বকেয়া পড়েছে মীর কাসেমের ছেলের কাছে।
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ সিঅ্যান্ডএফ টাওয়ারে অবস্থিত এডেন লাইন লিমিটেডের অফিসটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি গত ৩ সেপ্টেম্বর কার্যকর করা হয়। একাত্তরে মহান মুক্তযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে তাকে ফাঁসির দণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
এদিকে, ক্যাপ্টেন জুয়েলের আইনজীবী জিনিয়া আমিন জানান, জাহাজটি এখন হাইকোর্টের অ্যাডমিরালটি আদালতের হেফাজতে আছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কাছে আদালতের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ফজলে রাব্বী নামের জাহাজটির ক্যাপ্টেন ও চিফ ইঞ্জিনিয়ারের তিন মাস এবং ক্রুদের ১৪ মাস ধরে বেতনভাতা দেওয়া হচ্ছে না। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে জাহাজে খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছে শিপিং এজেন্ট। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ক্যাপ্টেন জুয়েল নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের মুখ্য কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন।
ক্যাপ্টেন জুয়েলসহ বেতন-ভাতা না পাওয়অ ১৮ ক্রু বর্তমানে জাহাজটিতেই অবস্থান করছেন।
নিউজওয়ান২৪.কম/একে
