NewsOne24

কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে `জঙ্গি আস্তানা`, অভিযানে নিহত ৯

স্টাফ রিপোর্টার

নিউজওয়ান২৪.কম

প্রকাশিত : ০৮:৪৮ এএম, ২৬ জুলাই ২০১৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০১:২৫ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৬ সোমবার

কল্যাণপুরের আলোচিত জাহাজ বিল্ডিংয়ের গলি, মঙ্গলবার ভোররাতের দৃশ্য

কল্যাণপুরের আলোচিত জাহাজ বিল্ডিংয়ের গলি, মঙ্গলবার ভোররাতের দৃশ্য

ঢাকা: রাজধানীর কল্যাণপুেরর ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামক ভবেন জঙ্গিদের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ব্যাপক গোলাগুলিতে নয় জন নিহত হয়েছে। এরা সবাই জঙ্গি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এবং আটক করা হয়েছে দুই জনকে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান জানান, মিরপুর থানা এলাকার কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কে গার্লস হাই স্কুলের পাশের বিল্ডিংটি ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামে পরিচিত। এই ভবন ঘিরে রাতভর ‘অপারেশন স্টর্ম ২৬’ নামের এই অভিযান চালায় পুলিশ ও সোয়াটের বিশেষ টিম। খবর পেয়ে র‍্যাব, ডিবি পুলিশও ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

মূল অভিযানের ব্যাপ্তিকাল এক ঘণ্টা ছিল বলে জানা গেছে। তবে রাতভর ওই ভবন ঘিরে তৎপরতা চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সূত্র জানায়, শুরুর দিকে জঙ্গিরা ভবনের ভেতর থেকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে বাইরে থেকে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় গোলাগুলি।

পরে মঙ্গলবার ভোরে সেখানে নয় জনের লাশ পাওয়া যায় বলে হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নিহতরা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল এবং গুলশান হামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্র দাবি করেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় না জানালেও অতিরিক্ত কমিশনার মারুফ জানান, জাহাজ বিল্ডিং থেকে জিহাদি বই, বোমা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

আইজিপি আরও জানান, ছয়তলা ওই বাড়িতে অবস্থানরত জঙ্গিরা বড় হামলার পরিকল্পনা করছে- এমন তথ্য পুলিশের কাছে আগে থেকেই ছিল।

‘জঙ্গিরা’ দরজা খুলে পালানোর চেষ্টা করে

পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পুলিশ জাহাজ বিল্ডিং নামের কল্যাণপুরে অবস্থিত ওই ছয়তলা বাড়িটিতে যায়। এসময় তিনতলা পর্যন্ত ওঠার পর ওপর থেকে দুজন ‘আল্লাহু আকবর’ বলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও বিস্ফোরকদ্রব্য ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে হাসান নামের একজনকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, হাসান একজন জঙ্গি। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, সকালে অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ জানান, পুলিশের সঙ্গে স্পেশাল উইপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকস (সোয়াট), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল অভিযানে অংশ নেয়।

প্রথম দফায় রাত দেড়টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে ‘জঙ্গিদের’ গুলিবিনিময় চলে। খবর পেয়ে সোয়াট, র‍্যাব ও ডিবি ঘটনাস্থলে যায়। এরপর রাত সাড়ে তিনটার দিকে আরেক দফা গুলিবিনিময় চলে। সকাল পাঁচটা ৫০ থেকে অভিযান শুরু হয়। পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে ‘জঙ্গিরা’ দরজা খুলে পালানোর চেষ্টা করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গুলিবিনিময়ে নয়জন নিহত হয়।

নিউজওান২৪.কম/এসএল