ম্যাগির পরে বৃটিশ মসনদে দ্বিতীয় নারী মে
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক
নিউজওয়ান২৪.কম
প্রকাশিত : ০৩:৪২ এএম, ১৪ জুলাই ২০১৬ বৃহস্পতিবার
সদ্য সাবেক ও সদ্য গদিনশীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী -ফাইল ফটো
তার ছেলেবেলার স্বপ্ন ছিল ব্রিটেনের প্রথম নারী সরকার প্রধান হওয়ার। স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে, তবে বলা যায় আধাআধি।
গণভোটের রায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের এক্সিট করা অর্থাৎ বেরিয়ে যাওয়ার অনিবার্যতায় দেশটির নয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা টেরিজা মে। তিনি যেদিন প্রধানমন্ত্রী হলেন, একইদিন পদত্যাগ করেন তার পূর্বসূরী ডেভিড ক্যামেরন।
টেরিজা যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী সরকার প্রধান হতে পারেননি, কারণ. তার অনেক আগেই এই পদ অলংকৃত করে গেছে ‘আয়রন লেডি’ম্যাগি অর্থাৎ মার্গারেট থ্যাচার। তবে ৫৯ বছর বয়সী ফ্যাশন সচেতন, কনজারভেটিভদের মধ্যে আধুনিকতাপন্থি, স্বভাবে অনাড়ম্বর আর স্বল্পভাষী এই নারীর অনমনীয় ব্যক্তিত্বে অনেকেই‘লৌহমানবী’ থ্যাচারের ছায়া দেখতে পান- অন্তত তার সহকর্মীদের মত এমনই। তার সম্পর্কে অন্যদের মূল্যায়ন- নিজেকে জাহির না করেও লক্ষ্যের দিকে স্থির অবিচল এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা ধারণ করেন তিনি যা এ মুহূর্তে ব্রিটিশদের খুবই দরকার। প্রসঙ্গত, শখ হিসেবে পাহাড়ে চড়া পছন্দ সন্তানহীন এই নয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর।
এদিকে, সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বুধবার লন্ডনে ব্রিটিশ রাজবাড়ি বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর টেরিজা মেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মে সরকারের দায়িত্ব নিলেন যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ইতিহাসের আপাত অনিশ্চিত এবং ঈষৎ কঠিন এক সময়ে। গদিতে বসেই টেরিজা মে-কে ক্রান্তিকাল মোকাবেলায় অনেক ঝামেলেই পোহাতে হবে যা দুনিয়ার খুব কম সরকার প্রধানকেই করতে হয়। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া নয়া প্রধানমন্ত্রীকেই তদারকি করতে হবে, যদিও মে নিজে এই বিচ্ছেদের সঙ্গে একমত ছিলেন না।
এই কট্টর কঠিন বাস্তবতা মোকাবেলায় তার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে সাত বছরের দায়িত্ব পালন।
গদিতে বসার লগ্নেই শান্ত স্বভাবের অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের ইইউ-তে থাকা না থাকার প্রশ্নে আর কোনো গণভোট হবে না। এমনকি অন্য কোনো কায়দায় (কারও কারও মতে ‘পেছনের দরজা দিয়ে’) ইইউতে ফেরার চেষ্টায়ও তিনি প্রবৃ্ত হবেন না- এটাও পরিষ্কার জানিয় দিয়েছেন।
টেরিজা মের জন্ম ১৯৫৬ সালে, সাসেক্সে। তবে জন্ম সাসেক্সে হলেও বেড়ে ওঠেন অক্সফোর্ডশায়ারে। মে ১৯৯৭ সালে বার্কশায়ারের মেইডেনহেড থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১০ হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্র, ছিলেন প্রধানমন্ত্রহওয়ার আগ পর্যন্ত।
প্রথম ব্রিটিশ নারী প্রধানমন্ত্রী থ্যাচারের মতো নিও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কিশেঅর বয়সে পকেট খরচ জোগাতেন সপ্তাহে একদিন, প্রতি শনিবার বেকারিতে কাজ করে। বাবা হুবার্ট ব্রেজিয়ার ছিলেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের ‘ভাইকার’ (ডেপুটি)।
সেন্ট হিউ কলেজে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন অক্সফোর্ডে, সেখানেই খুঁজে পান জীভন সঙ্গী অক্সফোর্ড ইউনিয়নের তখনকার প্রেসিডেন্ট ফিলিপ মে-কে। তাদের দুজনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন অক্সফোর্ডের কথনকার স্টুডেন্ট বেনজির ভুট্টো, যিনি পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮০ সালে বিয়ের পর টেরিজা ব্রেজিয়ার হয়ে যান টেরিজা মে।
২০১০ সালে লেবার দলের পরাজয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে জোট সরকার গড়ে কনজারভেটিভরা। তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মে।
মে-র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীত্বকালে ডাউনিং স্ট্রিটের অনেকের সমালোচনা ছিল- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিজের ‘জমিদারিতে’ পরিণত করেছেন মে। তবে ঠাণ্ড মাথার মে সেসব কথায় কান না দিয়ে নিরাপত্তাসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
টেরিজা সম্পর্কে কোয়ালিশন সরকারের অংশীদার লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলের নেতা ডেভিড লয়ের মন্তব্যটি আগ্রহোদ্দীপক। তিনি বলেন, ২০১০ সালে ট্রেজারি অফিসে মে’র সঙ্গে প্রথম দেখা আমার। সেসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে তাকে বেশ বিস্মিত মনে হচ্ছিল। সত্যি বলতে, আমিও ভাবিনি দুই বছরের বেশি তিনি ওই দায়িত্বে থাকতে পারবেন।
বাস্তব হলো টেরিজা ঝুঁকিপূর্ণ পদ হিসেবে চিহ্নিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিায়িত্বে ছিলেন টানা সাত বছর যা বৃটিশদের গত ১০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অর্থাৎ প্রধনামন্ত্রী হিসেবেও তার পারফর্মেন্স অন্য অনেকের চেয়ে ভাল হবে- এটা অনেকেই মনে করছেন। ব্রিটিশদের দ্বিতীয় এই নারী প্রধানমন্ত্রীকে তাই দ্বিতীয় মার্গারেট থ্যাচার বলে আগে থেকেই মানছে পক্ষ-বিপক্ষের কেউ কেউ।
নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে
