গুলশান হত্যাযজ্ঞের রাতে আটক শাওনের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার
নিউজওয়ান২৪.কম
প্রকাশিত : ১২:৫৩ পিএম, ৯ জুলাই ২০১৬ শনিবার | আপডেট: ১০:০৭ পিএম, ৯ জুলাই ২০১৬ শনিবার
জাকির হোসেন শাওন -ফাইল ফটো
ঢাকা: এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেলেন জাকির হোসেন শাওন (২২)। গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলার কাছাকাছি সময়ে ওই এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ আটক করেছিল তাকে।
ঢামেক হাসপাতাল ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই সেন্টু চন্দ্র দাশ জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শাওনকে শুক্রবার দুপুরে ক্যাজুয়ালটি থেকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। একইদিন বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে মৃত্যু হয় শাওনের।
পরিবারের দাবি, গত প্রায় একবছর ধরে হলি আর্টিজান বেকারিতে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করা শাওন কোনো অপরাধে জড়িত ছিল না
কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের ওই স্প্যানিশ ক্যাফেতে হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি প্রায় ৩৫ জনকে জিম্মি ও পরে তাদের থেকে ২০ জনকে হত্যা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। পরদিন কমান্ডো অভিযানে ছয় সন্দেহভাজন অস্ত্রধারী নিহত হয়। এসময় সেখান থেকে দেশি-বিদেশি ১৩ জনকে মুক্ত করা হয়।
কমান্ডো অভিযানের কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকা থেকে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় শাওনকে আটক করেছিল বলে জানা যায়। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে পুলিশি পাহারায় ভর্তি করা হয় ঢামেক হাসপাতালে।
এদিকে, শাওনের কোনো খোঁজ-খবর না পেয়ে গত ৪ জুলাই এক সাংবাদিকের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে শাওনকে পান তার মা পিঠা বিক্রেতা মাসুদা বেগম। চিকিৎসাধীন শাওনের হাতে হাতকড়া না থাকলেও আইসিইউর বাইরে সারাক্ষণ পুলিশ পাহারা ছিল বলে তার মা জানান।
মাসুদা জানান, ছেলে শাওন চার হাজার টাকা দিত পরিবারকে। ওর ছোট তিনজন ভাই আছে। ওদের বাবা আব্দুস সাত্তার পেশায় রিকশাচালক, তবে এখন শয্যাশায়ী।
মাসুদা বেগম শাওনকে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন পুলিশের বিরুদ্ধে। গত সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, শাওন বাঁচবে কি না সেটা জানি না। এমন পিটান পিটাইছে চেহারা দ্যাহা যায় না। হাত-পা সব ফোলা।
নিউজওয়ান২৪.কম/এসবিএন
