এবার কাণ্ড অগ্রণীতে: এমডি হামিদ অপসারিত, ডিএমডিসহ গ্রেপ্তার ৩
স্টাফ রিপোর্টার
নিউজওয়ান২৪.কম
প্রকাশিত : ১২:৫৮ এএম, ১ জুলাই ২০১৬ শুক্রবার | আপডেট: ০১:০২ পিএম, ৪ জুলাই ২০১৬ সোমবার
অপসারিত এমডি আব্দুল হামিদ -ফাইল ফটো
ঢাকা: ক্ষমতার অপব্যবহার করে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি জমিতে ভবন নির্মাণের নামে আয়-ব্যয়ের ভুয়া হিসাব দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ১০৮ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবদুল হামিদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান খান, ডিজিএম আখতারুল আলম ও এজিএম শফিউল্লাহ।
এ অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণ করা হয়।
পরে চক্রের অপর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিন দুপুরেই মিজানুর রহমান খানসহ আটজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উপপরিচালক বেনজীর আহমেদ।
ঋণে অনিয়মের অভিযোগ
৭৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়ম পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হামিদকে অপসারণের নির্দেশ পাঠান। তাদের করা অনিয়মের মধ্যে মুন গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজকে দেওয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে, যার অনুসন্ধান চালাচ্ছিল দুদক।
ওই অবৈধ ঋণ তুলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মতিঝিল থানায় মামলা করেছে দুদক। একই মামলায় মতিঝিল থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দুদক মুখপাত্র প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান।
প্রসঙ্গত, মুন গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে গত জানুয়ারিতে মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অগ্রণী ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সূত্রে তাকে তখন ব্যাংকের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াও হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার প্রণব আরও জানান, বিকালে মতিঝিল থেকে মিজানের সঙ্গে ব্যাংকটির ডিজিএম আখতারুল আলম এবং এজিএম শফিউল্লাহকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার একটি জমিতে ভবন নির্মাণের নামে আয়-ব্যয়ের ভুয়া হিসাব দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ১০৮ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, মুন গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওই জমিটির (মিজান টাওয়ার) মালিকানা দাবি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেও তার মালিকানা স্বত্বের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করে প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ওই জমির গ্রাহক মিজানুর রহমানকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করে পর্যায়ক্রমে ৯৪.৮ কোটি টাকা উত্তোলন ও গ্রহণ করে ব্যাংকের তথা রাষ্ট্রের সম্পদের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাৎ করেছেন।
নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে
