কী বোকা সুইসরা: গণভোটে বাতিল `মার্কসবাদী স্বপ্ন`
অথ-কড়ি ডেস্ক
নিউজওয়ান২৪.কম
প্রকাশিত : ০২:১১ পিএম, ৬ জুন ২০১৬ সোমবার | আপডেট: ০২:১২ পিএম, ৬ জুন ২০১৬ সোমবার
ঘটনা জেনে অনেকেই হয়তো আক্ষেপ করবেন- `কী বোকা সুইসরা` বলে। তবে সুইজারল্যান্ডের জনগণ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, না, দরকার নেই বিনাশ্রমে টাকার।
নাগরিকদের প্রত্যেককে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট হারে বেতন (বেসিক ইনকাম) বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর পক্ষে যুক্তি ছিল, চাকরির আক্রার এই বাজারে এটা গরিবী হঠাতে এবং ধনী দরিদ্রের বৈষম্য দূর করতে সহায়ক হবে।
কিন্তু বিশ্বের শীর্ষ ধনী আর সমৃদ্ধ দেশ সুইজারল্যান্ডের `আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন` জনগণ এমন `রসগোল্লা` টাইপের লোভনীয় প্রস্তাবকেও বলা যায় পায়ে ঠেলে সরিয়ে দিল। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রগুলোতে বেকারদের জন্য এমন মাসিক ভাতার ব্যবস্থা নতুন নয়। কিন্তু এই প্রস্তাবটি ছিল গণহারে সব্বাইকে মাসিক বেতন দেওয়ার।
রবিবার এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আয়োজিত গণভোটে ব্যাপকহারে নিজেদের অস্বীকৃতি জানিয়ে দিয়েছে সুহাইজারল্যান্ডের জনগণ। এই গণভোটে অংশ নেওয়াদের মধ্যে ছিল যারা পাঁচ বছর স্থায়ী বসবাস সূত্রে নাগরিক- তারাও।
শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হয়ে ভোটদান দুপুর পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও তা শেষপর্যন্ত সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। সুইস সরকার এবং প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দলই জনগণকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোটদানের অনুরোধ জানিয়েছিল। ফলাফলে দেখা যায়, নাগরিকরা তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে ভালভাবেই।
প্রস্তাবে প্রতিমাসে কী পরিমাণ অর্থ বেতন দেওয়া হতো তা নির্দষ্ট করা হয়নি। তবে বেসিক ইনকাম (মৌলিক আয়) প্রস্তাবের সমর্থক প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল পূর্ণবয়স্কদের মাথাপিছু ২৫০০ সুইস ফ্রাঁ (দুই লাখ ১২৯৪ টাকা) আর বাচ্চাদের (১৮ বছরের নিচে) ৬২৫ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ৫০ হাজার ৩২৩ টাকা) দেওয়ার।
প্রস্তাবের বিরোধীরা একে `মার্কসবাদী স্বপ্ন` বলে সমালোচনা করে। তাদের মতে এর ফলে সুইসদের মাঝে চাকরিত্যাগের প্রবণতা আশংকাজনক হারে দেখা দেবে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো মুশকিল হবে।
তবে এর জবাবে মৌলিক আয় সমর্থকদের বক্তব্য ছিল- প্রকৃতিগতভাবেই মানুষ চায় একটি নিয়মিত নির্দিষ্ট আয় যা দিয়ে সে তার মনপসন্দ কাজকর্ম সারতে পারে।
প্রস্তাবটি তুলেছিলেন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ব্যাসেল ক্যাফের মালিক ড্যানিয়েল হাএনি।বিপক্ষে ৭৯.৯% পড়ার পরও তিনি হতাশ নন। সুইজারল্যান্ডের ডাইরেক্ট ডেমোক্রেসির অধীনে অনুষ্ঠিত এ ভোটে মাত্র ১৫% ভোট পেয়েও ড্যানিয়েল একে নৈতিক বিজয় বলছেন।
তিনি বলেন, আমাদের বিষয়টিতে দেশ এবং দেশের বাইরের মিডিয়ার যে আগ্রহ দেখলাম, তাতে বলতি পারি- আমরা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলাম।
প্রসঙ্গত, এ ধরনের প্রস্তাবের ওপর গণভোট বিশ্বে এই প্রথম অনুষ্ঠিত হলো।
প্রস্তাবের অন্যতম প্রচারক রফ্ল কনডগের মতে, জনগণের জন্য মৌলিক আয়ের ব্যবস্থা করার শতাব্দী প্রাচীন প্রসঙ্গটি একসময় ছিল একটি ধারণা। কিন্তু এখন তা শুধু বাস্তবই নয়- খুব জরুরিও।
তবে ড্যানিয়েল-রল্ফদের মতে যত জরুরিই হোক, আপাতত সুইসরা এতে রাজি নয়- গণভোটের ফল তাই বলে দিয়েছে।
নিউজওয়ান২৪.কম/একে
