NewsOne24

হাসপাতালের অমীমাংসিত কিছু রহস্যের

নিউজ ডেস্ক

নিউজ ওয়ান২ ৪

প্রকাশিত : ১২:৫৩ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০১৮ শনিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

 

আকস্মিক কত কিছুই তো ঘটে এই বিশ্বে , তাই না? এদের মাঝে হাসপাতালই বা বাদ থাকবে কেন? 

চলুন আজ এমনই কিছু হাসপাতালে ঘটে যাওয়া অমীমাংসিত রহস্যের কথা জেনে নেয়া যাক-

জোয়ান ক্রফট অন্তর্ধান রহস্য: 

প্রাকৃতিক দূর্যোগে কারো যায় প্রাণের ওপর দিয়ে, কারো আবার সম্পদের ওপর দিয়ে। আবার কাউকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না, এমনটা ভেবে নেয়াও যেন ভবিতব্য। তবে চার বছরের শিশু জোয়ান গে ক্রফটের অন্তর্ধান রহস্যটি যেন বাকি সবার থেকে কিছুটা আলাদা। ১৯৪৭ সালের ৯ই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দিয়ে বয়ে যায় একটি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। টেক্সাস, ওকলাহোমা, ক্যানসাসসহ বেশ কিছু শহর ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এদের মাঝেই একটি শহর ওকলাহোমার উডওয়ার্ড। মারা যান ১৮৫ জন, আহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। ঝড়ে মাকে হারায় জোয়ান। বাবা মারাত্মকভাবে আহত এবং তার আট বছরের বোন জেরিও ছোটখাট আঘাত পায়। দুই বোনকে নিয়ে যাওয়া হয় কাছেরই একটি হাসপাতালে। তাদেরকে রাখা হয় বেজমেন্টে, যেখানে ঠাঁই নিয়েছিল আরো কিছু মানুষ।

রাতের বেলা সেনাবাহিনীর দু’জন লোক এসে জোয়ানকে নিয়ে যায়। হাসপাতালের স্টাফরা বাঁধা দিলো যাতে জোয়ানকে নিয়ে যাওয়া না হয়। তবে তাদেরকে বোঝানো হলো যে বাচ্চাটির নিরাপত্তার জন্যই তাকে আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। জোয়ানকে তারা নিয়ে গেলেন ঠিকই, তবে জেরির জন্য আর ফিরে এলেন না। জোয়ানকে আর কখনো দেখা যায়নি। আশ্চর্যের বিষয়, লোক দুটো বেজমেন্টে ঢুকে জোয়ানের খোঁজ এমনভাবেই করছিল যেন তারা তাকে চিনত। পরের কয়েক দশক এই কেসটি বেশ চাঞ্চল্যকর হয়ে রইল কিন্তু জোয়ানকে আর ফিরে পাওয়া গেল না। ১৯৯৯ সালে দ্য ওকলাহোমান পত্রিকার সম্পাদক একটি ই-মেইল পান। একজন নারী নিজেকে জোয়ান বলে দাবী করছেন। সম্পাদক তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে ফিরতি একটি মেইল পাঠালেন। তবে আর কখনোই প্রত্যুত্তর পাননি। শিশু অপহরণের ইতিহাসে জোয়ান গে ক্রফটের অন্তর্ধান একটি অন্যতম রহস্য হয়ে আছে আজও।

অ্যান আরবার হাসপাতালে খুন: 

১৯৭৫ সালের গ্রীষ্মটা অ্যান আরবার হাসপাতালের রোগীদের জন্য নরক হয়ে এসেছিল। ছয় সপ্তাহের মাঝে অন্তত ৩৫ জন রোগী শ্বাসজনিত সমস্যায় ভোগা শুরু করেন এবং এদের মাঝে ১১জন আর বেঁচে ফিরে আসেননি। কী হয়েছে, জানার জন্য এফবিআই তদন্ত শুরু করল। তদন্তে মিললো, পাভুলন নামক একটি অনুনোমোদিত ইঞ্জেকশন পুশ করা হতো, যেটি মাসল রিলাক্সেশনে সহায়তা করে। যে টিউব দিয়ে তাদের খাবার দেয়া হতো, সেখানেই পুশ করা হতো এই ইঞ্জেকশন। ফলে শ্বাস আটকে গিয়ে করুণ মৃত্যুবরণ হতো। দু’জন ফিলিপিনো নার্স লিওনোরা পেরেয এবং ফিলিপিনা নারসিকোর ওপর সন্দেহ পড়ল। বেঁচে যাওয়া একজন রোগী পেরেযকে চিনতেও পারলেন। বললেন, শ্বাস আটকে আসার দিনে তিনি ঘরে খুটখুট জাতীয় শব্দ শুনতে পান এবং দেখেন পেরেয ঘর থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

নার্স দু’জন তাদের ওপর আনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করল। তবে সকল সাক্ষ্য প্রমাণ তাদের বিরুদ্ধে। ১০ জন রোগীকে বিষ প্রয়োগ, ৫ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হলো তাদের ওপর। ১৯৭৭ সালে তাদের ওপর আনা অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারকার্য শুরু করা হয়। বলা হলো, ফিলিপাইনের এই নার্সরা মার্কিন বয়োবৃদ্ধদের ওপর রোষের কারণে এই ঘৃণ্য কাজ করে যাচ্ছেন। পেরেয এবং নারসিকো একই হাসপাতালে কাজ করলেও দু’জন একে অপরকে খুব ভালো চিনতেন না। তবে উদ্দেশ্য একই থাকার কারণে তাদের পথ এক হয়ে গেল। তবে এই বিচার চলাকালীন পাশার ছক যেন উল্টে গেল। 

হাসপাতালের অপর এক নার্স আত্মহত্যা করে বসলেন। সুইসাইড নোটে লিখলেন হাসপাতালে ঘটে যাওয়া খুনগুলোর জন্য তিনিই দায়ী। নির্দোষ প্রমাণিত হলো পেরেয এবং নারসিকা। এফবিআই ও আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী অপর বাহিনীর সদস্যরা মাথা চুলকাতে শুরু করলেন। আজও এই খুনগুলোর জন্য প্রকৃত দোষী কে, সেটি সাব্যস্ত হয়নি।

খুনী ‘ডাক্তার এক্স’: 

১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এক বুযুর্গ ব্যক্তি কার্ল রোরবেক ওরাডেলের রিভারডেল হাসপাতালে এলেন হার্নিয়ার অপারেশনের জন্য। একদম শেষ মূহুর্তে সার্জন ডাক্তার মারিও জ্যাসকালেভিচ একটি চরমতম সিদ্ধান্ত নিয়ে বসলেন। তিনি অপারেশন করবেন না। কিছু সময় পরই মৃত্যুবরণ করলেন রোরবেক। অপারেশনটি এমন কঠিন কিছু ছিল না। তবে মারিও কেন সেটি করতে রাজি হলেন না, সেটি একটি বিস্ময়! 
পরের দশ মাসে হাসপাতালে সাধারণ কোনো অপারেশনের জন্য আসা রোগীরা আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করতে লাগলেন। ১৯৬৬ সালের অক্টোবর মাসে ডাক্তার মারিওর লকারে টিউবোকুরারিন নামক একটি মাসল রিলাক্সেশন অ্যানেস্থিটিকের খালি বোতল পাওয়া যায়। রোগীরা মারা যাওয়ার সময় যেহেতু তিনি তাদের কাছেই ছিলেন, তাই ধারণা করা হলো দোষটা তারই।

মারিও তার ওপর আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বললেন, তিনি শুধুমাত্র মরতে বসা কুকুরদের ওপর এই অ্যানেস্থিটিকের প্রভাব লক্ষ্য করতেন। আভ্যন্তরীন কিছু তদন্ত করে ডাক্তার মারিওকে চুপচাপ হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে বলা হলো, তিনি চলেও গেলেন। এর কিছু বছর পর নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক মাইরন ফার্বার একটি বেনামী পত্র পেলেন। রিভারডেল হাসপাতালের খুনগুলোর জন্য কে বা কারা দায়ী, তা নিয়ে সেখানে কিছু লেখা আছে। 

কী ঘটেছিল আসলে, তা জানার জন্য ফার্বার আবার গেলেন সে হাসপাতালে নতুন করে প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য। বেশ কিছু প্রতিবেদন তৈরিও করলেন। ডাক্তার মারিওর নাম দিলেন ‘এক্স’, যাতে সাধারণ মানুষ তাকে চিনতে না পারে।

প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা পাঁচজনকে নিয়ে। তিনটি শরীরে টিউবোকুরারিনের আলামত পাওয়া যায়। ফার্বারের মতে, মারিও তার সহকর্মীদের ক্যারিয়ার সাবোটাজ করারর জন্য এমন সব কাজ করতেন। তারপরও দুটি খুনের কোনো প্রমাণ না থাকার কারণে মারিওকে এই দুটো খুনের জন্য রেহাই দেয়া হলো। 

তবে ১৯৭৮ সালে বাকি তিনটি খুনের জন্য ট্রায়ালের সামনে দাঁড় করানো হলো। এই ট্রায়ালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। তিন খুনের দায় যদি মারিওর হয়, তবে বাকি দুটি খুন করলো কে? 

নিউজওয়ান২৪/আএডব্লিউ