NewsOne24

গলার কাছে ‘নারকেলের দড়ি’ রোয়ানু: তজুমদ্দিনে নিহত ২

ডেস্ক রিপোর্ট

নিউজওয়ান24.কম

প্রকাশিত : ১০:২৩ এএম, ২১ মে ২০১৬ শনিবার | আপডেট: ১২:৩৯ পিএম, ২৪ মে ২০১৬ মঙ্গলবার

ঢাকা: ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু (মালদ্বীপীয় ভাষায় অর্থ নারকেল ছোবায় তৈরি দড়ি) এখন বাংলাদেশ উপকূলের পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করছে, প্রতি মুহূর্তে এগিয়ে আসছে আরও কাছে । মধ্য-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শনিবার ভোর থেকেই উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রবল ঝড়ো হাওয়ার তাণ্ডব শুরু হয়ে গেছে।

এর প্রভাব পড়ছে দক্ষিণাঞ্চল ছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়, আগের দিন থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আরও বেগ পেয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকায় আগের মতোই ৭ নম্বর এবং কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত জারি রয়েছে। তবে দেশীয় আব্হাওয়াবিদরা বলেছেন, রোয়ানু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, এই ঝড় আইলা বা সিডরের মতো প্রলয়ংকরী কিছু নয়। এটি ছোট বা মাঝারি আকারে একটি ঝড়।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, রোয়ানু আরও পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে এসে সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কোনো এক সময় বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর আগে বলা হয়েছিল ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা লগ্নে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এরইমধ্যে ক্ষয়ক্ষতি
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
শুক্রবার দিনগত শেষরাতে ঘরের উপর গাছ পড়ে ভোলার তজুমদ্দিনে এক নারী ও এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল শনিবার স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে আগের মতোই ৭ নম্বর এবং কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৬ টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ২৫৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ২৩০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করার সময় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলা এবং সংলগ্ন দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এসময় ঝড়ো হাওয়া ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার বেগে বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

অতি ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসেরও শঙ্কা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রস্তুতি

ঘুর্ণিঝড় রোয়ানু মোকাবেলায় সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি মহল। তবে জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, রোয়ানু নিয়ে বেশি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আশা করা যাচ্ছে, ঝড়ো আবহাওয়ায় জানমালের ক্ষতি হবে না বাংলাদেশে। সরকারও ইতোমধ্যে দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে তার এ কথার পর শুক্রবার শেষরাতে ঘরের ওপর গাছ পড়ে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় এক নারী ও এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ১৮ জেলার সাড়ে ২১ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া। এ কাজে ব্যবহার হচ্ছে ৩৮৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসেবে উপকূলীয় জেলাগুলোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটির ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক এবং রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউট ও আনসার-ভিডিপির কর্মীরা কাজ করছেন।

শুক্রবার মধ্যরাতে আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে চট্টগ্রাম, পায়রা ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর ‘বিপদ সংকেত’ দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কক্সবাজারকে দেখাতে বলা হয়েছে ৬ নম্বর ‘বিপদ সংকেত’।

আবহাওয়ার বুলেটিনে বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোসাগর এলাকা থেকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মধ্যরাতে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছিল।

এ সময় ঝড়টির অবস্থান ছিল মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম, পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিম এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে।

এই ঝড় আরও পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সকাল বা দুপুর নাগাদ বরিশাল-চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে বুলেটিনে বলা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ভোর থেকেই উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আভাস রয়েছে।

ঝড়ে সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার থাকবে।”

নামকরণ
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর নামকরণ করেছে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ মালদ্বীপ। ‘রোয়ানু’ অর্থ নারকেলের ছোবা দিয়ে তৈরি দড়ি। এর আগে জানানো হয়, রোয়ানুর কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকছে।

নিউজওয়ান২৪.কম/ডিএন