আটক ১৬
বর্জ্য থাকে অপারেশন থিয়েটারেই, মানসিক রোগীদের নির্যাতন!
স্টাফ রিপোর্টার
নিউজওয়ান24.কম
প্রকাশিত : ০৭:৪৭ পিএম, ৯ মে ২০১৬ সোমবার | আপডেট: ০২:৩২ পিএম, ২০ মে ২০১৬ শুক্রবার
প্রতীকি চিত্র
ঢাকা: এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া চিকিৎসক সেজে ক্লিনিক/, মানসিক ও মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র বা ডায়াগনষ্টিকের রমরমা ব্যবসা করে চলেছে। সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব ভুয়া চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এক অভিযান পরিচালনা করে র্যাব।
রাজধানীর মিডফোর্ড হাসপাতাল রোডে মুন লাইট ক্লিনিকসহেএমনি আটটি হাসপাতাল, ডায়গনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকে র্যাব-২ এর অভিযানে মালিকসহ ১৬ জনকে বাইশ লাখ বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত রাজধানীর কোতোয়ালী থানার মিটফোর্ড এলাকায় র্যাব-২ বাঁধন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার, আল আরাফাত হাসপাতাল, মুন লাইট ক্লিনিক ,মিডফোর্ড ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার, ডক্টর্স ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল এবং পুষ্প ড্রাগে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে।
র্যাব-২ এর উপ-পরিচালক আতাউর রহমানেরর নেতৃত্বে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিনের পরিচালনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহজাহান, ডা. মনজুর আহমেদ, ডা. একেএম আব্দুর রব এবং ড্রাগ অধিদপ্তরের ড্রাগ সুপার সৈকত কুমার করের সহায়তায় অভিযানে ওইসব প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসা সেবার নাম করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা করে আসছে এরা। এসময় আরও দেখা যায়, ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা মানসিক ও মাদকাসক্ত হাসপাতালের নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগীদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
মোবাইল কোর্ট আরও দেখতে পায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলামের (সাদী) নাম ব্যবহার করে ডায়গনস্টিক রিপোর্ট তৈরি এবং ভূয়া স্বাক্ষর প্রদান করা, অপারেশন থিয়েটার রুমের ভেতরে বাথরুম ও স্টোর রুম এবং অফিস রুম স্থাপন, অনভিজ্ঞ লোক দ্বারা রুক্ত সংগ্রহ করা, অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় মালামাল গুদামজাত করে রাখা; অপারেশন করার পর অপারেশনের বর্জ্য না সরিয়ে অপারেশন রুমেই রেখে দেওয়া, অনুমতির অতিরিক্ত বেড পরিচালনা করা, স্ক্রিনিং ব্যতীত ফ্রিজে রক্ত মজুদ রাখা, অটোক্লেব রুমে থাকা খাওয়া ও কাপড় শুকানো; রেডিওলজিস্ট ও সনোলজিস্ট না থাকা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকা; অনুমতির অতিরিক্ত বেড ব্যবস্থা করে গাদাগাদি করে রুগি রাখা, নার্সের কাউন্সেলিং সার্টিফিকেট না থাকা, ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা (লাইসেন্সবিহীন ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা ও সাধারণ নিয়মে রক্ত সংরক্ষণ করা), অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ব্লাড ট্যান্সমিশন বিশেষজজ্ঞের অনুপস্থিতি, গৃহস্থালির কাজে ব্যাবহৃত সাধারণ ফ্রিজে রক্ত সংরক্ষণ করা এবং হালনাগাদ লাইসেন্স ব্যতীত হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অপরাধে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
আটকদের দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ধারায় মুন লাইট ক্লিনিকের মালিক চাঁদপুরের খালপাড় বাসিন্দা শাজাহানকে (৪৫) পাঁচ লাখ টাকা, কুমিল্লার চান্দিনার সৌখিন চন্দ রায় (২৫) ও চাঁদপুরের কচুয়ার আরিফুর রহমানকে (২৫) দুই লাখ টাকা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সালেহা বেগমকে (২৮) বিশ হাজার টাকা, বাঁধন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কুমিল্লার দাউদকান্দির সুবত্র মল্লিককে (৫৫) দুই লাখ টাকা জরিমানা, লক্ষীপুরের রায়পুরের বদিউজ্জামানকে (২৮) দুই লাখ টাকা, ভোলার চর তমিজউদ্দিনের কর্ণ কুমার (২৫) ও ময়মনসিংহের গৌরিপুরের ফরিদ আহমেদকে (২৪) দুই লাখ টাকা, আল আরাফাত হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিরাজগঞ্জের চৌহালীর রজব আলীকে (২৪) দুই লাখ টাকা, নরসিংদীর দত্তপাড়ার তাহরিমা আক্তার (২২) ও মুন্সগুঞ্জের সিরাজদিখানের নয়ন হোসেনকে (২৮) এক লাখ টাকা, মিডফোর্ড ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টারের মালিক ভোলার লালমোহনের ডা. শাজাহানকে (৬০) পঞ্চাশ হাজার টাকা, পুষ্প ড্রাগের মালিক মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের ফরিদুর রহমানকে (৩৯) পঞ্চাশ হাজার টাকা, ডক্টর্স ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুনামগঞ্জের দিরেইয়ের আব্দুল আউয়াল আব্বাসকে (৪৫) দুই লাখ টাকা, কুমিল্লার মুরাদনগরের রায়হান হোসেন (২৩) ও ঢাকার ধামরাইয়ের বিকাশ কুমারকে (৩৩) তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে বাঁধন হাসপাতালে অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারকে বন্ধের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
নিউজওয়ান২৪.কম/এসএল
