আট জেলায় এইডস রোগী শনাক্ত ১৯৩ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজ ওয়ান২ ৪
প্রকাশিত : ০৫:১৬ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রোববার | আপডেট: ০৫:৫৪ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রোববার
ফাইল ছবি
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আট জেলায় অন্তত ১৯৩ জন মানুষ এইচআইভি`র জীবাণু বহন করছে বলে জানা গেছে। এইডস নিয়ে কাজ করা ‘মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র খুলনা জেলায় ৮৪ জনের শরীরে এইচআইভি জীবাণু শনাক্ত করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৫৩ জন পুরুষ ও ৩১ জন নারী। এছাড়া ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল ও মাগুরায় ১০৯ জন এইডস আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। খবর ইউএনবি`র
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও আমেরিকা থেকে ফিরে আসা শ্রমিকেরা খুলনাঞ্চলে এইচআইভি জীবাণু ছড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ভারত থেকে ফিরে আসা। আক্রান্তের তালিকায় দুজন হিজড়ার নাম রয়েছে। তবে এ অঞ্চলের পতিতালয়ে যৌন কর্মীদের শরীরে এইচআইভি`র পজিটিভ পাওয়া যায়নি। প্রতিবছর এইডস আক্রান্ত হয়ে এ অঞ্চলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে এইডস আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৭ সালে ১২ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে আটজন পুরুষ এবং চারজন নারী। গতবছর ২১ জন পুরুষ, ১৫ জন মহিলা ও ১ জন হিজড়া নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে।
এ সংগঠনের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মুক্ত আকাশের মুখপাত্র জানান, অভাবের তাড়নায় দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষ কাজের আশায় বছরে তিন-চার বার ভারতে যায়। এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও আমেরিকা থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরা এ অঞ্চলে এইডস ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে বেনাপোল, চৌগাছা ও খুলনা শহরে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (খুমেক) সূত্র জানান, শুধুমাত্র খুমেকে এ বছর এইচআইভিতে নতুন আক্রান্ত হয়ে ৩১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ হাসপাতালে মারা গেছেন তিনজন।
মুক্ত আকাশ বাংলাদেশের সমন্বয়কারী রেহেনা বেগম জানান, এ সংগঠনের পক্ষ থেকে মরণব্যাধী রোগ এইডস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের পুষ্টি ও ওষুধ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।
নিউজওয়ান২৪
