হিন্দু হয়েও যদি বন্দুকের লাইসেন্স মেলে!
সাতরং ডেস্ক
নিউজওয়ান24.কম
প্রকাশিত : ০৪:০২ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১১:০৩ এএম, ১৮ মে ২০১৬ বুধবার
মাথা ন্যাড়া করা ফুরকান কপালে তিলক লাগাচ্চ্ছেন
সিকিউরিটি গার্ডের চাকরির চেষ্টা করছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের বাগপাত জেলার ফুরকান আহমেদ। চাকরির যোগ্যতা হিসেবে তার বন্দুকের লাইসেন্স থাকতে হবে। সেমতে সরকারি দফতরে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে।
কিন্তু গত ছয় বছর ধরে প্রশাসনের দরজায় এর ওর কাছে ধর্না দিয়েও তার ভাগ্যে বন্দুকের শিঁকে ছেড়েনি। তাই চাকরিও মেলেনি। এ অবস্থায় রিকাশা চালিয়ে পরিবার-পরিজনকে পালন করতে হচ্ছে তার। কিন্তু ফুরকান রিক্সা চালাতে চান না। তার যা যোগ্যতা তাতে এর চেয়ে ভাল কাজ যেমন অস্ত্রধারী সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি অবশ্যই তিনি করতে পারেন।
লাইসেন্সের জন্য পাগলপাড়া ফুরকান সরকারের দফতরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার আবেদনের সময়কালে ওই জেলায় ৩৭৮টি লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু তার ফাইলটি ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেনি সরকারের লোকজন। এরপর সংক্ষুব্ধ ফুরকান যা করেন তা সবাইকে চমকে দেয়।
তিনি মাথা পুরো ন্যাড়া করে ফেলেন। শুধু পেছনে এক গোছা চুল রেখে দেন টিকি হিসেবে। হিন্দু ব্রাহ্মণদের মতো কপালে তিলকও আঁকেন এবং নিজের নামটি বদলে ফুল সিং বলে ঘোষণা দেন।
হতাশ ফুরকান আহমেদ ওরফে ফুল সিং জানান, ২০১০ সালে বন্দুকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন তিনি। এরপর পরের তিনটি বছর জুড়ে বিভিন্ন ক্লিয়ারেন্স আর মঞ্জুরির জন্য সরকারের এক অফিস থেকে আরেক অফিস ছুটে বেড়ান। কিন্তু ২০১৪তে এসে দেখা যায় তার ফাইলটি হাওয়া হয়ে গেছে।
তাকে বলা হয় আবার নতুন করে শুরু করতে। কষ্ট চেপে তিনি ফের প্রথম থেকে আবেদন করেন। এখন তার ফাইলের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে তারও কয়েক মাস পার হয়েছে।
“কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাকে লাইসেন্স দেওয়া হয় নাই।” নবভারত টাইমসকে অভিযোগ করে জানান ফুরকান।
তার মনে হয়েছে মুসলমান বিধায় তাকে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। তাই তিনি বেশভূষা বদলে নিজেকে হিন্দু বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে বাগপাত জেলা প্রশাসক হরদেব শংকর তিওয়ারিকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “প্রশাসন কাউকে লাইসেন্স দিতে বাধ্য নয়। এই মামলার ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি তদন্ত-যাচাই শেষে লাইসেন্স প্রদান করা হবে।”
ফুরকান এই ঘটনার প্রতিকার চাইতে হাইকোর্টের কড়া নাড়বেন বলে জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ। কিন্তু প্রায়ই সংখ্যালঘুরা নানাভাবে নিপীড়ন-নিগ্রহের বা অধিকার বঞ্চনার শিকার হয়। সাম্প্রতিক সময় এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নিজ ধর্ম ত্যাগে হুমকি দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে দেশটির উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলায় দলিত সম্প্রদায়ের এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়। পরে ক্ষোভে-অপমানে ৮ম শ্রেণির ওই কিশোরী আত্মহত্যা করে। এ ঘটনার বিচার দাবিতে গাজিয়াবাদের বামহেটা গ্রামের দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত ১০০০ পরিবার হুমকি দেয় যে, উপযুক্ত বিচার না পেলে তারা সবাই ইসলাম কবুল করবে। এরপর চলতি সপ্তাহে রাজস্থান রাজ্যের যোধপুরের ভাদবাসিয়া এলাকায় মদের দোকান খোলার বিরোধিতাকারী একদল বাসিন্দা ঘোষণা করে- আবাসিক এলাকায় মদের দোকান বন্ধে সরকার ভূমিকা না নিলে তারা সবাই মুসলমান হয়ে যাবে।
নিউজওয়ান২৪.কম/একে
