NewsOne24

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গাড়িটি আপনার হেফাজতে প্রদান করলাম!

স্টাফ রিপোর্টার

নিউজওয়ান24.কম

প্রকাশিত : ০১:২৯ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৬ বুধবার | আপডেট: ১২:১৩ এএম, ২ মে ২০১৬ সোমবার

ঢাকা: ঘটনা মঙ্গলবার রাত ২ টার দিকে। স্থান- সিলেট শুল্ক গোয়েন্দা অফিসের সামনের প্রাঙ্গণ। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা একটি বিলাসবহুল লেক্সাস গাড়ি সেখানে রাখা ছিল। পরে চালক-মালিকহীন অবস্থায় পড়ে থাকা গাড়িটি জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

গাড়ির সঙ্গে থাকা চিঠিটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। চিঠি পড়ে অভিজ্ঞ মহল ধারণা করছে- শুল্ক ফাঁকির আইনে বেকায়দায় পড়ে যাওয়া মালিক ঝামেলা এড়িয়ে গাড়িটি বৈধভাবে সরকারের কাছ থেকে ফিরে পাওয়ার কৌশল হিসেবে চাতুর্যের সঙ্গে `এই নাটক` সাজিয়েছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ড. মঈনুল খান এ বিষয়ে জানান, গাড়িটির সাথে একটি চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে গাড়িটি শুল্ক বিভাগে হস্তান্তরের অনুেরাধ জানানো হয়েছে। লেক্সাস ব্রান্ডের বিলাসবহুল গাড়িটি ২০০৭ সালে তৈরি। চেসিস নম্বর জেটিজেএইচকে ১ইউ৬০২০১৫৭৮২। ইঞ্জিন নম্বর ২জিপিএ০৫৬৯৬৪।

পাঁচ সিটের সিলভার রঙের এই গাড়িটির আনুমানিক মূল্য দেড় কোটি টাকা বলে জানান তিনি।

ড. মঈনুল আরও বলেন, “গাড়িটি ২০১১ সালে ইউকে (যুক্তরাজ্য) থেকে কেনা। পরে গাড়িটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে এনে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চালানো হচ্ছিলো।”
চিঠিতে কলা হয়,

সিলেটের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের উপপরিচালকের বরাবরে লেখা চিঠিতে বলা হয়- মহোদয়, আিম নিম্ন স্বাক্ষরকারী প্রায় ৪৯ বছর যাবত লন্ডনে প্রবাসী হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছি।ধীর্ঘদিন যাবত ফরেন ইনভেস্টর হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছি। ২০১১ সালে আমার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সুবিধায় এক বছর মেয়াদের জন্য লেকসাস গাড়ি নিয়ে আসি। পরবতীতে আমি মনে করেছিলাম যে ফরেন ইনভেস্টর হিসেবে প্রতিবছর গাড়িটি পুনরায় রিনিউ করার সুযোগ পাবো। কিন্তু সরকার হতে কোনো রকমের সুযোগ-সুবিধা না পাবার কারণে ধার্যকৃত শুল্ককরাদি আমার পক্ষে পরিশোধের বাহিরে থাকায় আমি তা পরিশোধ করিনি। এবং গাড়িটি আমি ফেরত না পাঠিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমি আর ব্যবহার করিনি।বর্তমানে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আপনার নিকট হস্তান্তর করবো। তাছাড়া গাড়িটি ক্রয়ের রশিদসহ যাবতীয় দলিলাদি লন্ডন থেকে এনে অতি তাড়াতাড়ি আপনাদের নিকট হস্তান্তর করবো। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সরকার কর্তৃক সকল সুবিধাদি আমি পাবো এবং কোনো প্রকার হয়রানির শিকার হবো না।আমার বাহক মারফত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গাড়িটি আপনার হেফাজতে প্রদান করলাম।

অতএব আপনাদের কাছে আমার বিনীত নবেদন এই যে, গাড়িটি দেশে রাখা অথবা পুনরায় বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমুদয় শুল্ককরাদি পরিশোধের সঠিক হিসাব আমাকে জানানোর জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি এবং পুনরায় সরকারের নিকট সহযোগিতা কামনা করছি।

চিঠির নিচে লেখা রয়েছে ‌`বিনীত নিবেদক, লেকসাস গাড়ির মালিক, সিলেট`।
নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে