NewsOne24

সব আশঙ্কাকে বুড়ো আঙ্গুল: কাজ চলছে হেলে পড়া ভবনে

স্টাফ রিপোর্টার

নিউজওয়ান24.কম

প্রকাশিত : ০৬:৪২ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৬ রোববার | আপডেট: ১১:০০ এএম, ১৮ মে ২০১৬ বুধবার

ঢাকা: সম্প্রতি গার্মেন্ট ভবন হেলে পড়া সংক্রান্ত খবর নিউজওয়ান২৪.কমসহ অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর বিজয় সরণি মোড়ে অবস্থিত কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টকে ঝুঁকিপূর্ন পরিবশে শ্রমিকদের কাজ না করানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অগ্রাহ্য করে এখনো জোরপূর্বক শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনে।

রোববার দুপুরে সরেজমিনে এয়ারপোর্ট রোডের ১৪৫ মনিপুরিপাড়ায় সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায় কন্টিনেন্টাল অ্যাপারেলস নামের ওই গার্মেন্টে গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ন ভবনেই শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। কথা হলো বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে। তারা জানালেন নিরবিচ্ছিন্ন আতঙ্কের কথা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর তাদের মাঝে আতঙ্কের মাত্রা আরো কয়েক গুন বেড়ে গেছে বলে জানান অনেকেই।

কথা হলো গার্মেন্টের সহকারী ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মোহাম্মদ হোসেন খান ওরফে মিতুলের সঙ্গে। শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে ওই গার্মেন্টের প্রতি লিখিতভাবে নির্দেশনা জারির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, “শ্রম মন্ত্রণালয় বলেছে বুয়েট থেকে টেস্ট না করিয়ে এখানে কাজ না করানোর জন্য। সেই নির্দেশনা মেনেই আমরা বুয়েটে পরীক্ষা করানোর জন্য আবেদন করেছি।”
কিন্তু টেস্ট করানোর আগে এখনো শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে কেন? জবাবে মিতুল বলেন, “আমাদের আগের কিছু অর্ডার নেওয়া রয়েছে। ওই কাজগুলো শেষ না করেতো আর বন্ধ করতে পারছি না। তাই আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বন্ধ রেখে সামনের দিকে কাজ করা হচ্ছে।”

ভবন হেলে পড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গার্মেন্টের সহকারী ম্যানেজার মিতুল বলেন, “ভবনটি হেলে পরেছে তা পুরোপুরি ঠিক না। পেছনের একটি বাড়ি নির্ধারিত ফাঁকা জায়গা না রেখেই ভবন নির্মাণ করেছে। তার ওই ভবনের কিছু অংশ আমাদের এই ভবনের সাথে লেগে গিয়েছে।”

আপনাদের ভবনের সাথে গা লাগিয়ে আরেকটি ভবন হয়ে গেলো, অথচ আপনাদের মালিক কিছু বললো না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিষয়টি এতোদিন মালিকের নজরে আসেনি। তাই এভাবেই কাজ চালানো হচ্ছিলো। তাছাড়া ভবনটি বেশ পুরোনো। সে কারণে এর বেশ কিছু অংশে ফাটলও রয়েছে। মালিক জানিয়েছে একবারে পুরো ভবনটিই মেরামত করবে।”

বিষয়টির উল্লেখ করে তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলামকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমরা আগেই গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষকে কাজ বন্ধ করার ব্যাপারে বলেছি। তারাও বলেছিলো দু’একদিনের মধ্যে খালি করে ফেলা হবে। কিন্তু এখনো যে তারা ভবনটিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এটা জানা ছিলো না।”

এ ব্যাপারে ঊর্দ্ধতনদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে নির্মিত ‘সুপার মার্কেট’নামের ওই ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় ভাড়া নিয়ে কাজ করছে কন্টিনেন্টাল অ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ওই ভবনের নিচে রয়েছে বেশ কয়েকটি দোকান ও বিভিন্ন ট্যুরিস্ট এজেন্সির অফিস।

নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে