NewsOne24

জাপানি বিনিয়োগে বাংলাদেশে ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

নিউজওয়ান২৪ ডেস্ক

নিউজওয়ান২৪

প্রকাশিত : ০৭:২৬ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি- পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি- পিএমও


আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ করতে পারে জাপান। এর মাধ্যমে দেশে ২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ২ দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ ‘বিগ-বি’কে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফরে ২ দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সফর উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে ৬টি সহযোগিতা ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

লিখিত বক্তব্যে তিনি সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এবং জাপানের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ উদ্যোগ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দুই দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ বিগ-বিকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন, বাংলাদেশকে বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই দেশ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা
বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, এমআরটি লাইনের কাজ দ্রুত অগ্রসর করা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় জাপানের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে জাপানের ৫ হাজার কোটি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ুবিষয়ক লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান দুই প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারকের আওতায় সরকারি-বেসরকারি সংলাপের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

১ লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা
বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি সফরে গুরুত্ব পায়। আগামী ৫ বছরে জাপান থেকে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েন পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগ এবং এর মাধ্যমে ২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানান দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক বিনিময় জোরদারে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, রেমিট্যান্স ও লাইসেন্সিং-সংক্রান্ত নীতিমালা এবং স্বচ্ছতা উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নবিষয়ক সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরকেও দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান।

এ ছাড়া জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে।

৬টি সহযোগিতা ও সমঝোতা স্মারক সই
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়ন, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ইএসডিপি), উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে মোট ৬টি সহযোগিতা বা সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

এ ছাড়া বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার উন্নয়নসংক্রান্ত দুটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জাপানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক
২৬ অক্টোবর জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের সভাপতি ও জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা হয়।

জাপানের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির সভাপতি এবং মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্পে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে বৈঠকে জাইকা ও জাপানের সহায়তায় চলমান বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। এ সময় বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকা উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

জ্বালানি, লজিস্টিকস ও শিল্প খাতে সহযোগিতা
২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন।

২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার অনুরোধ জানানো হয়।

জাপানের পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিংয়ের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।

জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

এ ছাড়া মিতসুবিশি করপোরেশন, টয়োটা তুশো করপোরেশন, মারুবেনি করপোরেশন, আজিনোমোতো, এনআইসিসিএ কেমিক্যাল, টোকিউ কনস্ট্রাকশন, পেন্টা-ওশান কনস্ট্রাকশন, নাগাসি অ্যান্ড কোম্পানি, ইউগ্লেনা, জেটিআই, ইচিনেন হোল্ডিংস, মাতসুওকা করপোরেশন ও জাপান লজিস্টিকস সিস্টেমসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপনের আগ্রহ
২৮ অক্টোবর জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, ব্যবসায়িক উদ্যোগ সহজীকরণ এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

বেসরকারি পর্যায়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। ওই দিন তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

২৯ অক্টোবর নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন এবং গাড়ি ও অন্যান্য যন্ত্র উৎপাদনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা তাদের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা সংকট ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা
২ প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা ও সংঘাতমুখী ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা, নৌ ও আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং পণ্যের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা করেন ২ প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের টেকসই নগরায়ণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা, ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।

লিখিত বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে ভিত্তি করে এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে এ সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফরের মাধ্যমে জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ, পরিবেশ, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থাপনা, টেকসই অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন। একই সঙ্গে এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও নিবিড় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

নিউজওয়ান২৪.কম/গাজী Newsone24.com/Gazi