টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর
কক্সবাজার প্রতিনিধি
নিউজওয়ান২৪
প্রকাশিত : ০৭:৩২ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার
ছবি: অন্তর্জাল
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এই মরদেহগুলো স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দেয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত ১০ জনের দেহের ধ্বংসাবশেষ বা কংকাল শনাক্ত করা হয়। নিহতদের মধ্যে ঢাকার ২টি পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।
একটি পরিবারের ৪ জন হলেন—ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের ২ মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
অন্য পরিবারটির ৬ সদস্য হলেন—মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ৬ বছরের ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। নিহতদের মধ্যে নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, মৌলিতা মেহজাবিন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
চেইন দেখে শিক্ষিকার কংকাল শনাক্ত
নিখোঁজদের তালিকায় থাকা সাভারের আশুলিয়ার ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুল’-এর শিক্ষক নাসরিন জাহান মুক্তার ডিএনএর সঙ্গে প্রথম দফায় উদ্ধার হওয়া কোনো মরদেহের মিল পাওয়া যায়নি। এতে তার পরিণতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আকতার ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বিত টিম রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপের দ্বিতীয় তলায় ফের উদ্ধার অভিযান চালায়। এ সময় একটি দেহাবশেষের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন দেখে তাকে নিজের স্ত্রী নাসরিন জাহান মুক্তা বলে শনাক্ত করেন তার স্বামী, ছাত্রদলের সাবেক নেতা দেওয়ান ফয়সাল।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষটি নিখোঁজ শিক্ষক মুক্তার কি না, তা নিশ্চিত হতে পরবর্তীতে আবারও ডিএনএ টেস্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তা হস্তান্তর করা হবে।
আলোচিত এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামিসহ রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোর্শেদ পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পলাতক ও অজ্ঞাত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, সিআইডি ও এসবি যৌথভাবে কাজ করছে।
নিউজওয়ান২৪.কম/গাজী Newsone24.com/Gazi
