‘শিক্ষার বাতিঘর’
নিউজওয়ান২৪ ডেস্ক
নিউজওয়ান২৪
প্রকাশিত : ০৩:১৫ পিএম, ১ মে ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বাংলাদেশের কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের একজন প্রবাসী দানবীর, যিনি শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে অসাধারণ অবদান রেখে এলাকায় ‘শিক্ষার বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত।
মোশাররফ হোসেন সেই ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামী জীবন কাটান। এসএসসি পরীক্ষার আগেই বাবাকে হারান, ফলে পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে।
এক সময় সংসারের ভার কমাতে তিনি কাতারে প্রবাস জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্মাণশ্রমিক থেকে ট্যাক্সি চালক পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ করেন এবং দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন।
যদিও নিজে বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি তিনি, কিন্তু শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি নিজের উপার্জিত অর্থ এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে ব্যয় করেন। তিনি তার গ্রামে ও আশপাশে ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন—২টি কলেজ, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, ২টি মাদরাসা এবং একটি কিন্ডারগার্টেন। পাশাপাশি ২টি পাঠাগারও গড়ে তোলেন।
মোশাররফ হোসেন প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে জমি দান করেন ডায়াবেটিক হাসপাতাল নির্মাণের জন্য।
১৯৮৯ সালে তিনি প্রথম উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা এখন হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পরে তিনি কলেজ ও মাদরাসাসহ আরও একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তার প্রতিষ্ঠিত কলেজ কুমিল্লা বোর্ডের সেরা কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম।
এছাড়া তিনি একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেন, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। তিনি ১০টি গৃহহীন পরিবারকে ঘরও তৈরি করে দিয়েছেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ২ সন্তানের জনক হলেও প্রবাসে মেসে সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং পরিবারকে দেশে রাখেন, যাতে অতিরিক্ত খরচ না হয় এবং সেই অর্থ সমাজকল্যাণে ব্যয় করা যায়।
বর্তমানে ৬২ বছর বয়সে তিনি আবারও পড়াশোনা শুরু করেছেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন শিক্ষার কোনো বয়স নেই।
মোশাররফের মূল দর্শন হলো—ভোগ নয়, ত্যাগ ও মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করা। তিনি চান তার কাজের মাধ্যমে ব্রাহ্মণপাড়ার প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে।
-ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
