যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ট্রাম্পের ছবি
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক
নিউজওয়ান২৪
প্রকাশিত : ০৭:৪৩ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি বা ‘সেমি কুইনসেন্টেনিয়াল’ উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও স্বাক্ষর সংবলিত একটি বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্ট প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্ট সাধারণ পাসপোর্টের চেয়ে বেশ ভিন্নধর্মী হবে। উন্নত মানের গ্রাফিক্স এবং বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংবলিত এই পাসপোর্টের প্রতিটি পাতায় থাকবে আধুনিকতার ছোঁয়া। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে পাসপোর্টের ভেতরের পাতার নকশা। প্রকাশিত নকশা অনুযায়ী, সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গম্ভীর মুখাবয়বের ছবি এবং সোনালি কালি দিয়ে তার ডিজিটাল স্বাক্ষর যুক্ত করা থাকবে। এটি মূলত একটি সংগ্রাহক সংস্করণ বা ‘লিমিটেড এডিশন’ হিসেবে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
এই বিশেষ পাসপোর্টটি পেতে আগ্রহী মার্কিন নাগরিকরা সরাসরি ওয়াশিংটনের পাসপোর্ট এজেন্সিতে আবেদন করতে পারবেন। পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বা মজুদ থাকা পর্যন্ত বিতরণ করা হবে।
তবে সাধারণ মানুষের জন্য বড় চমক হলো—এই বিশেষ সংস্করণের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ফি বা চার্জ নেওয়া হবে না। অর্থাৎ নিয়মিত পাসপোর্টের খরচেই নাগরিকরা এই ঐতিহাসিক স্মারক সংস্করণটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ, যার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতীক ও প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজের নাম এবং ইমেজকে স্থায়ীভাবে জড়িয়ে দিতে চান। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি-
ন্যাশনাল পার্ক পাস: জাতীয় উদ্যানগুলোতে প্রবেশের পাসে ট্রাম্পের ছবি সংযোজন।
ট্রাম্প সেভিংস অ্যাকাউন্ট: শিশুদের সঞ্চয় উৎসাহিত করতে বিশেষ ব্যাংকিং স্কিম।
ট্রাম্পআরএক্স (TrumpRx): দেশজুড়ে ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার একটি বিশেষ উদ্যোগ।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব উদ্যোগ যে নির্বিঘ্নে সফল হয়েছে, তা বলা যাবে না। নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন হাব ‘পেন স্টেশন’ তার নামে নামকরণের প্রস্তাবটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া ‘কেনেডি সেন্টার’ এবং ‘ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস’-এর মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর নামের সাথে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বারান্দায় বা আইনি জটিলতায় ঝুলে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি পাসপোর্টে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি দেশের নেতৃত্বের প্রতি একটি বড় সম্মান। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় নথিতে একক কোনো ব্যক্তির এমন উপস্থিতি মার্কিন ঐতিহ্যের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
