NewsOne24

মুশফিকের পিতা ও চাচার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

তাজা খবর ডেস্ক

নিউজওয়ান২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:২৭ এএম, ১৭ মে ২০১৭ বুধবার

বগুড়ায় স্কুল ছাত্র মাসুক ফেরদৌস মাসুক খুন হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম মিতুর বাবা মাহবুব হামিদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মাসুকের বাবা জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য  এ্যাড. এমদাদুল হক এমদাদ বাদী হয়ে মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ তারা ও চাচা পৌর কাউন্সিলর মেজবা উল হামিদ সহ মোট১৬ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে গত শনিবার (১৪ মে) বগুড়া শহরের মাটিডালি হাজীপাড়ায় নিজ বাড়ির দেড়’শ গজ দূরে বেলাল হোসেন নামে এক প্রতিবেশী বাসার মধ্যে খুন করা হয় এসওএস স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র মাসুক ফেরদৌস মাসুক কে। খুনের ঘটনার প্রায় ৭২ ঘন্টা পর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলো। এদিকে, মাসুক হত্যার বিচারের দাবিতে মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সকালে স্কুলের ছাত্ররা ও এলাকাবাসী  মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

বগুড়া এসওএস হারম্যান মেইনর স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র মাসুক ফেরদৌসকে গত ১৩ মে রাতে শহরের মাটিডালি হাজীপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তিনজনকে আটক করলেও সাফিন নামে এক কিশোরকে রেখে বাকি দু’জনকে ছেড়ে দেয়। আটক সাফিন নিহত মাসুক ফেরদৌসের বন্ধু। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে হত্যাকান্ডের পরপরই তারা এর মোটিভ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু জানাতে চান না।

এদিকে থানায় দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, মাহবুব হামিদ তারা (৫৫) ও তার ছোট ভাই স্থানীয় ১৭ ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মেজবাহুল হামিদ (৪৫) সাথে নিহত মাসুকের বাবা জাসদ নেতা এ্যাড. এমদাদুল হক এমদাদের পারিবারিক শত্রুতাসহ স্থানীয় মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন নিয়ে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এজন্য অভিযুক্তরা আমাকে এবং আমার পরিবারের জানমালের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করতে থাকে। এ অবস্থায় চলাকালে আমার ছেলে মাসুক ফেরদৌস মাসুককে বাসা থেকে গত শনিবার রাতে প্রতিবেশী বেলাল হোসেন ফকিরের বাড়িতে তার ছেলে নাইম দিয়ে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধান আসামী মাহবুব হামিদ তারা ও অপর আসামী লালমিয়া মাসুককে জাপটে ধরে এবং ফয়সল মাসুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিছন থেকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে আঘাত করে। এ সময় মাসুক মাটিতে পড়ে গেলে হত্যাকারীরা উল্লাস করে চলে যায়। এই আঘাতের কারনেই মাসুকের মৃত্যু হয়।

বগুড়া সদর থানার ওসি এমদাদুল হক জানান, জাসদ নেতার ছেলে খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার ১৬ জনের বিরুদ্ধে নিহতের পিতা বাদী হয়ে যে অভিযোগ দায়ের করেছেন - সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হচ্ছে । বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তবে অবিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে কি না জানতে চাইলে ওসি ইত্তেফাককে বলেন, তদন্ত করার পর  অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাসুকের বাবা এ্যাড. এমদাদ জানান, মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অবৈধ পন্থায় করা এবং ওই স্কুলের মধ্যে মুশফিকুর রহিমের পৃষ্ঠপোষকতায় আর একটি ব্যক্তিগত বিদ্যালয় স্থাপন করে মাহবুব হামিদ তারা ব্যক্তিগত ভাবে অবৈধ অর্থ উপার্জন করছিলেন। সেই বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে আমি প্রতিবাদ করি। এরপর বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ঘটনা নিয়ে মাহবুব হামিদ তারার নেতৃত্বে এলাকাবাসীর উপর দু’দফা হামলা চালানো হয়। হামলার ঘটনার পর বগুড়া সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন দু’পক্ষকেই থানায় ডেকে নিয়ে বলেন, কেউ আইন হাতে তুলে নিবেন না। যদি কারও কোন অভিযোগ থাকে তাহলে থানা কিংবা আদালতে যাবেন। দু’পক্ষই এতে রাজি হয়। এ ঘটনার কয়েকদিন পরেই আমার ছেলে মাসুক কে হত্যা করা হল। মাসুক কে হত্যা করে আমাকে মানষিক ভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই হত্যাকান্ডের মাহবুব হামিদ তারা জড়িত। আমি এর বিচার চাই।

মাসুকের মা স্কুল শিক্ষিকা ফিরোজা বেগম কেয়া বলেন, বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল এলাকার বাসিন্দা বেলালের ছেলে নাঈম। তারপর মাসুক খুন হল। আমার বড় ছেলে মিরাজকেও ডাকতে এসেছিল। মিরাজ বাসায় ছিল না। তাই সে বেঁচে গেল।

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ তারা বলেন, কোন হত্যাকান্ড হলে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করা হয়। এ হত্যাকান্ড বিষয়েও আমাকে নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে এবং অভিযোগ দেয়া হয়েছে। একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। সেই ক্ষেত্রে যদি আমি অপরাধী হই তাহলে আমারও বিচার হবে। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ দেওয়া ঠিক না। আশা করছি পুলিশ সঠিক হত্যাকারীদের চিহ্নিত করবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয় নিয়ে এ্যাড. এমদাদুল হকের সাথে তার দ্বন্দ্ব চলছিল।

নিউজওয়ান২৪.কম