NewsOne24

শুরুতেই হোঁচট সাবমেরিন ক্যাবলের

আইটি ডেস্ক

নিউজওয়ান২৪.কম

প্রকাশিত : ১১:৩৮ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৭ শনিবার

উদ্বোধনের আগেই হোঁচট খেলো ১৫শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সমৃদ্ধ দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল। ১৪ই মার্চ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাটির নিচ দিয়ে যাওয়া ক্যাবল কাটা পড়ে। এতে বিচ্ছিন্ন হয় সাবমেরিন ক্যাবলের সংযাগ। অন্যদিকে ১৫ই মার্চের মধ্যে সাবমেরিন ক্যাবলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

১লা মার্চ পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেননি। উল্টো সাবমেরিন ক্যাবলের একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে চাওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সারসংক্ষেপ বিএসসিসিএল থেকে পাঠানো হবে।

বিএসসিসিএল এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনোয়ার হোসেন এসব তথ্য জানিয়ে মানবজমিনকে বলেন, চলতি মাসে হয়তো সাবমেরিন ক্যাবল উদ্বোধন করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর থেকে ফিরলে উদ্বোধন করা হবে। যদিও বিষয়টি দেখভাল করছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কলাপাড়ায় ক্যাবল কাটা পড়ায় সাবমেরিন ক্যাবলের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই এটা ঠিক করা হবে। বিষয়টি নিয়ে বিটিসিএল কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এ প্রসঙ্গে বিটিসিএল এর গণসংযোগ পরিচালক মীর মোহাম্মদ মোরশেদ মানবজমিনকে বলেন, ক্যাবল কাটা পড়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। সাবমেরিন ক্যাবলের জন্য একটি সংযোগ চালু রয়েছে। আরেকটি সংযোগ চালু করা হবে কি না সেটা নীতি-নির্ধারকদের সিদ্ধান্তের বিষয়।

উল্লেখ্য, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ভাণ্ডারে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ১৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এ ধরনের দুটি ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হলো। ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবলে অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই ক্যাবলের মাধ্যমে প্রথমে ৪৪ দশমিক ৬ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেশে আসত। পরে ক্যাবলটির আপগ্রেড করার পর এখন ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেশে আসছে। এর ১২ বছর পর চলতি বছর দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে প্রবেশের ঘটনা ঘটলো।

নতুন এ ক্যাবল থেকে পাওয়া যাবে ১৫শ’ জিবিপিএস। ২০১১ সাল থেকে এ প্রক্রিয়ার শুরু। শেষ হয় গত ২১শে ফেব্রুয়ারি। ওইদিন ইস্তাম্বুলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকে জানানো হয়, হাই ক্যাপাসিটির ব্যান্ডউইথ বহনকারী ক্যাবলের যাত্রার কথা। সিংগাপুর থেকে শুরু হওয়া ব্যান্ডউইথ বহনকারী ওই ক্যাবল শেষ হয়েছে ফ্রান্সে। বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশের ১৯টি টেলিকম কোম্পানি ওই ক্যাবলের মালিক।
বাংলাদেশে এর ল্যান্ডিং স্টেশন করা হয়েছে সাগরকন্যা খ্যাত পটুয়াখালির কুয়াকাটায়। এরপর ওই ব্যান্ডউইথ ঢাকায় আনতে ২টি পরীক্ষা চালানো হয়।

এরপরই ঘোষণা দেয়া হয়, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের বিপুল ভাণ্ডার ব্যবহারে এখন প্রস্তুত বাংলাদেশ। সরকারের তিনটি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় খুব অল্প সময়র মধ্যে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়াকে বর্তমান সরকারের বড় ধরনের সফলতা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। যুক্তি দেখিয়ে বলা হচ্ছে, দেশে প্রথম যে সাবমেরিন ক্যাবল রয়েছে তার মেয়াদ আছে আর মাত্র ১০ বছর। এরপর এমনিতেই আরেকটি সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজন হতো। সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারের এ উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে সফল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এতবড় কাজ কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান করতে পারে তার দৃষ্টান্ত এটা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। শেষ পর্যন্ত সফলতার সঙ্গে করা সম্ভব হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশা করি দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দেশের জনগণকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইন্টারনেট সেবা দেয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের দাম আরো কমানো সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে মোট খরচ হচ্ছে ৬শ’ কোটি টাকা। যদিও এর বাজেট ছিল ৬৬০ কোটি টাকা। ২০ হাজার কিলোমিটারের এ ক্যাবল নিয়ে যে কনসোর্টিয়াম তৈরি করা হয়েছে তা সি-মি-উই-৫ নামে পরিচিত।

প্রথম ও দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সদস্য দেশগুলো হচ্ছে- সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া ও ফ্রান্স। সি-মি-উই-৫ কনসোর্টিয়ামে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিয়ে। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মালিকও দ্বিতীয় কনসোর্টিয়ামের সদস্য দেশগুলো।

নিউজওয়ান২৪.কম