ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ খুবই জরুরি

ইফতেখায়রুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১১:৫৯, ৬ আগস্ট ২০১৯  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

একটি মামলার তদন্তকারী অফিসার মামলা তদন্ত করার সময় প্রায়শই তিনটি সময়কে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায়!

(১) ঘটনা ঘটার পূর্ববর্তী সময়
(২) ঘটনাকালীন
(৩) ঘটনা ঘটার পরবর্তী সময়!

ডেঙ্গি (প্রচলিত ডেঙ্গু) নিয়ে জোরালোভাবে বলবার সুযোগ আমার জায়গা থেকে নেই! বিশেষজ্ঞ অনেকেই বলছেন, আমরা পড়ছি, বুঝতে চেষ্টা করছি।

ডেঙ্গি আমাদের যেভাবে নাজেহাল করছে তাতে এরকম সময় টার্গেট করেই এগোতে হবে আমাদের..সময় অনুসারে আগাতে পারলেই ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে আলোর মুখ হয়তো দেখা যাবে।
সারা বছর জুড়েই ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিবর্গের মাঠে নেমে যথাযথ কাজ অব্যাহত রাখতে হবে, নয়তো আগামীর সময় আরো ভয়াবহ হবে! ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সময়ে সময়ে ভূমিকা রাখা অতীব জরুরি।

(১) ডেঙ্গি জ্বরের আবির্ভাব হওয়ার পূর্বেই গৃহীত
ব্যবস্থা

(২) ডেঙ্গি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সময়কালে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা (বিভিন্ন হাসপাতালে আলাদা সেল গঠন- যা রোগ নির্ণয় শেষে চিকিৎসা প্রদানে ভূমিকা রাখবে)

(৩) ডেঙ্গি জ্বরের প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার পরবর্তী সময়ে ভূমিকা! যেটি চক্রাকারে সারা বছরজুড়ে চলবে। শুধু ফগার ম্যাশিন দিয়ে মশা মারার চেষ্টা করলে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব নয় দুঃসাধ্য হয়ে যাবে। কিছু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে!

পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার পূর্বে উদ্বেগজনক ছিল; এখন তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে! সারা বছরজুড়ে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে তাদের ২২টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন একযোগে কাজ করছে!

আমাদের এখানেও সেটি সম্ভব! সম্মানিত নাগরিকদের সচেতন করবার মূল দায়িত্বটি সিটি কর্পোরেশনকেই নিতে হবে। তাতেই আলাদা আলাদা করে গড়ে উঠা ছোট ছোট তরুণদের গ্রুপ সারা বাংলাদেশে জেগে উঠবে। অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড যে পদ্ধতিতে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছে, সেই প্রক্রিয়া প্রয়োগের প্রচেষ্টা চালাতে হবে আমাদেরও। অস্ট্রেলিয়া ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে বায়োলজিকালি ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করেছে, তা শুরু করা যেতে পারে আমাদের এখানেও বিশেষজ্ঞদের সহায়তায়। এছাড়া আমাদের দেশেও পূর্বে লেকে, ড্রেনে বিভিন্ন ধরণের মাছ ছেড়ে দেয়া হতো সেইসব পুরনো পদ্ধতিও ফিরে আসতে পারে যদি তা কোনো ভূমিকা রাখতে পারে।

একটি সমন্বিত পদক্ষেপ খুবই জরুরি। ধনাত্মক এই মূল জোয়ারটি আমাদের ঢাকা থেকেই শুরু করতে হবে। নিজের আশেপাশের এলাকা পরিস্কার রাখার অভ্যাস আমাদের নেই বললেই চলে! এটিই আমাদের উপযুক্ত সময়, নিজেদের বাঁচাতে হলে আমাদের সকলকে নিজের এলাকা ও আশেপাশের এলাকা পরিস্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের নিজেদের ও সন্তানদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।

আমি প্রতিদিনই চেষ্টা করছি ও লক্ষ্য রাখছি নিজের বসবাসরত জায়গা ও আশেপাশে কোথাও পরিস্কার পানি জমে আছে কীনা তা খেয়াল রাখতে!

দয়া করে আপনারাও রাখুন, আশেপাশের সবাইকে সচেতন করুন। ডেঙ্গি ইতোমধ্যেই এক বিশাল ভার হয়ে চেপে বসেছে জগদ্দল পাথরের মত! আমাদের সম্মিলিত সচেতনতা ছাড়া এটি থেকে মুক্তির পথ আসলেই নাই! হাসপাতালগুলোতে দেখেছি ডাক্তার ও নার্সরা পাগলের মত কাজ করছেন। ঠিক এই সময়ে আমাদের সকলকে একে অপরের পাশে থেকে কাজ করতে হবে!

আমাদের তরুণেরা আমাদের প্রাণ! তারুণ্য এক দুর্বার শক্তি। এই সময়ে তারুণ্যের জেগে উঠা অতীব জরুরি!

আমার বন্ধু তালিকা ও এর বাইরে অনেকেই আছেন যারা আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে অনুসরণ করেন। দয়া করে আপনার সচেতনতামূলক কার্যক্রম আমাদেরকে দেখান, অনুপ্রাণিত করুন আরো অনেক তরুণদের.....

আপনার দুর্বার তারুণ্যের প্রতিফলনটুকু দেখবার তীব্র প্রতীক্ষায় আছে অনেকেই.... নিরাশ হতে চায়না তারা! দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমাদের তারুণ্য প্রস্তুত তো?

লেখক: ইফতেখায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ঢাকা মেটোপলিটান পুলিশ।

বি: দ্র: এ লেখার মতামত সম্পূর্ণ লেখকের। এর জন্য সম্পাদকের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

নিউজওয়ান২৪.কম/আ.রাফি