News One24 logo
Sena Kalyan Sangstha
bangla fonts
২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ খবর
ক্ষমতা ধরে রাখতে সরকার বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে : খালেদা জিয়া জেরুজালেমকে ইফিলিস্তিনে ব্যাপক সংঘর্ষ, ইহুদি সেনাদের গুলতে নিহত ২ শাকিব-অপুর বিয়ে বিচ্ছেদের কেন্দ্রে কি তাহলে বুবলি? পারিবারিক কলহের জেরে একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর বিষপান! প্রযুক্তির সুফলতা বাংলাদেশও পেতে চায়: জয়

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ রেডিও ‘অ্যামেচার’ হবে পাথেয়: বিটিআরসি


১৯ আগস্ট ২০১৭ শনিবার, ০৮:১৯  পিএম

বিজ্ঞান ডেস্ক


বাংলাদেশে নিষিদ্ধ রেডিও ‘অ্যামেচার’ হবে পাথেয়: বিটিআরসি

১৯৯২ সাল পর্যন্ত ‘অ্যামেচার রেডিও’ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিল। তবে সাম্প্রতিককালে দৈব দুর্বিপাক এবং জরুরী অবস্থায় অ্যামেচার রেডিও ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংস্থাটি মনে করছে, ব্যক্তিগত যোগাযোগ রক্ষায় ‘অ্যামেচার রেডিও’ বাংলাদেশে পাথেয় হয়ে উঠবে।

আজ শনিবার বিটিআরসির প্রধান কার্যালয়ে এমন তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।

বিটিআরসি বলছে, অ্যামেচার রেডিও (হ্যাম রেডিও হিসাবেও পরিচিত) সাধারণত নির্দিষ্ট বেতার তরঙ্গে নিজস্ব বিনোদন, অবাণিজ্যিকভাবে তথ্য আদান প্রদান, গবেষণা, ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং জরুরী অবস্থায় ব্যবহৃত একটি টেলিযোগাযোগ সার্ভিস।

‘অ্যামেচার’ শব্দটি সাধারণত আর্থিক সংশ্লিষ্টতাবিহীন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আগ্রহী ব্যবহারকারীকে বাণিজ্যিক ব্রডকাস্টিং, জননিরাপত্তা প্রদানকারী সংস্থা অথবা পেশাদার টু-ওয়ে সার্ভিস হতে পৃথক করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

১৯৯১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ তরঙ্গ ও বেতার বোর্ডের ১৮তম সভায় এদেশে প্রথম অ্যামেচার রেডিও সার্ভিস প্রবর্তনের জন্য লাইসেন্স প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অতঃপর প্রথম এ দেশে ১৯৯৫ সালের ১৩-১৪ ডিসেম্বর অ্যামেচার রেডিও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যার ফলাফল বাংলাদেশ তরঙ্গ ও বেতার বোর্ড হতে ১৯৯৬ সালের ২০ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয়। এরপর বাংলাদেশ তরঙ্গ ও বেতার বোর্ডের অধীনে একাধিকবার অ্যামেচার রেডিও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে বিটিআরসি হতে ২০০৩ সাল, ২০০৮ সাল এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে অ্যামেচার রেডিও পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ২০১৩ সালের পরীক্ষায় ১৬৬ জন অংশগ্রহণ করেন। তারমধ্যে ১৪৭ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হন।

বর্তমানে ২৯৭ জন ব্যক্তি অ্যামেচার রেডিও লাইসেন্স গ্রহণ করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই রেডিও পরিচালনা করছে।
২০১৫ সালের ১৭ মে “ইন্সট্রাকশনস ফর অ্যামেচার রেডিও ইউজেস অ্যান্ড প্রোসেডিউর ইন বাংলাদেশ” নামক নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়। উক্ত নির্দেশিকার আলোকে আজ ১৯ আগস্ট অ্যামেচার রেডিও সার্ভিস পরীক্ষা-২০১৭ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্ণিত পরীক্ষায় আবেদনকারীগণের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি এবং বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অ্যামেচার রেডিও সার্ভিস পরীক্ষা-২০১৭ অংশগ্রহণ করার জন্য ২৫৯ জন আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ২৫৪ জন পরিক্ষার্থীর আবেদন সঠিক বলে বিবেচিত হওয়ায় সঠিক আবেদনকারীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বিটিআরসি’র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিটিআরসি বলছে, আবেদনকারীদের মধ্যে এসএসসি সনদ প্রাপ্ত হতে শুরু করে পিএইচডি ডিগ্রীধারী সমাজের বিভিন্ন স্তরের শ্রেণীপেশাজীবি প্রতিনিধি রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, অ্যামেচার রেডিও হলো একটি শখ। একটি বেতারযন্ত্র দিয়ে অন্য একটি বেতারযন্ত্রে কথা বলা বা তথ্য নেওয়া-দেওয়াই হলো অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের কাজ। এই অপারেটররা পাহাড়ের চূড়া, নিজের বাসা অথবা গাড়িতে বসে চাইলে মহাকাশযানের নভোচারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।

হ্যাম হতে চাইলে টেলিফোন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে পরীক্ষায় পাস করার পর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স পাওয়া যায়। লাইসেন্সের সঙ্গে পাওয়া যায় ‘কল-সাইন’। কল-সাইন হলো একজন অপারেটরের পরিচিতি। কল-সাইন দিয়েই প্রত্যেককে আলাদা করে চেনা যায়।
সব দেশের জন্য আছে আলাদা কল-সাইন। সেটা শুনলেই বোঝা যাবে ব্যবহারকারীর পরিচয় এবং তিনি কোন দেশের বাসিন্দা। সারা পৃথিবীতে একজনের এককটি মাত্র কল-সাইন থাকবে। তবে অ্যামেচার রেডিও কোনো বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যায় না। ধর্মীয় বা রাজনৈতিক আলোচনাও এতে নিষিদ্ধ।

নভোচারীদের সবাই হ্যাম। মহাকাশে যাওয়ার সময় তারা সবাই কল-সাইন ব্যবহার করে অন্য হ্যামদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এছাড়াও হ্যাম রেডিও ব্যবহার করে আপদকালীন সময়ে বিভিন্ন রেডক্রসের মত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হয়ে উদ্ধারকাজেও অংশ নিতে পারবেন।

১৯০৮ সালের দিকে কয়েকজন রেডিও অপারেটর যখন সফলভাবে কোনো তার ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সংকেত পাঠাতে সক্ষম হলেন, সেই সময় তারা নিজেদের হ্যাম বলে ঘোষণা দিলেন। তারা নিজেদের কেন্দ্রে বসে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করলেন। একটি ক্লাব বানিয়ে নাম দিলেন হার্ভার্ড রেডিও ক্লাব। এটাই বিশ্বে প্রথম রেডিও ক্লাব।

এ ক্লাবের সদস্য ছিলেন তিনজন—আলবার্ট এস হাইমেন, বব আলমই ও পুগি মারি। প্রথমে তারা ক্লাবটির নাম দিলেন হাইমেন-আলমই-মারি। ১৯১১ সালে আমেরিকা কংগ্রেস তাদের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে ক্লাবটির নাম রাখে হ্যাম। সেই থেকে সব অ্যামেচার রেডিও ব্যবহারকারী ‘হ্যাম’ নামে পরিচিত।

হ্যাম রেডিওর একটি জাতীয় সংগঠন রয়েছে বাংলাদেশেও। নাম ‘বাংলাদেশ অ্যামেচার রেডিও লিগ’। সংগঠনটির সদস্য প্রায় দুই শতাধিক। বাংলাদেশ অ্যামেচার রেডিও লিগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে http://www.barl.org/ এই ঠিকানা থেকে।

নিউজওয়ান২৪.কম

নিউজওয়ান২৪.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: