News One24 logo
Sena Kalyan Sangstha
bangla fonts
৭ আষাঢ় ১৪২৫, বুধবার ২০ জুন ২০১৮, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ খবর
ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তোলা মেয়েটি কে? (ভিডিও) খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না: বিএনপি মেজর কে পিটিয়েছে পুলিশ আসামে এনআরসি’র তালিকায় নেই ৭০ শতাংশ বাঙালি! শেখ হা‌সিনার অধীনে নির্বাচ‌নে বিএন‌পি যাবে না: খালেদা জিয়া

আরব বিশ্বে রোজা

‘চলে যায় ইবলিস, রেখে যায় এমবিসি’


১৭ জুন ২০১৬ শুক্রবার, ১১:১৩  পিএম

তামীম রায়হান


‘চলে যায় ইবলিস, রেখে যায় এমবিসি’

রমজান মাসে উচ্চবিত্ত আরবদের মাত্রাতিরিক্ত টিভিপ্রীতিকে ব্যঙ্গ করে প্রকাশিত আরবীয় পত্রিকার কার্টুন

উচ্চবিত্ত পরিবারের এক আরব দুষ্ট বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, রমজান নিয়ে তোমার অনুভূতি কী? সে বললো, `ভালো, তবে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো প্রতি চার বছরে একবার করে রমজান এলে আরও ভালো হতো`।

আরবীয় সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে রমজানের প্রভাব এখনও অন্য দেশীয়দের চেয়ে বেশি। এ মাসে তাদের চারিত্রিক উদারতা এবং মানবিক গুণাবলীর চর্চা অন্য যে কোনও মাসের চেয়ে বেশি দেখা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রমজান মাসে উচ্চবিত্ত আরবদের মধ্যে টিভিনাটকের প্রভাব বেশ বেড়েছে।

আমাদের বাংলাদেশে যেমন ঈদকে কেন্দ্র করে নাটক্যার ও পরিচালক এবং নির্মাতারা বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান ও নাটকের প্রস্তুতি নেন, এই আরবদেশগুলোতে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমনও অনেক পরিবার আছে, যারা ইফতারের সময় থেকে সেহরি পর্যন্ত এক নাগাড়ে ৮-১০ ঘণ্টা টিভির সামনে বসে থাকে। এসব চ্যানেলের মধ্যে এমবিসি শীর্ষে। দর্শকদের রমজান নষ্ট করতে হেন আয়োজন নেই, যা এমবিসিতে প্রচারিত হয় না। এর পর আছে মিসরীয় টিভি চ্যানেল এবং আরব স্থানীয় টিভিগুলোর নানা আয়োজন। বাংলায় শুনেছি, ‘চলে যায় মানুষ রেখে যায় স্মৃতি’, আর এখানে দেখছি, চলে যায় ইবলিস, রেখে যায় এমবিসি’।

অতি বিলাসী উচ্চবিত্ত আরবদের চেয়ে বরং মধ্যবিত্ত আরবদের অবস্থা এখনও অনেক ভালো। প্রতি ওয়াক্তের নামাজের পর মসজিদে যে অসংখ্য নামাজি দীর্ঘ সময় ধরে কুরআন তেলাওয়াত করেন, তাদের অনেকেই মধ্যবিত্ত আরব। সম্পদের প্রাচুর্য উচ্চবিত্ত আরবদের দান-খয়রাতের সুযোগ করে দিয়েছে, কিন্তু ইবাদতের আবহ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। এর চেয়ে বরং মধ্যবিত্ত আরবরা এখনও অনেক ভালো আছে।

কোনও এক চ্যানেলে রমজানের বিকেলে দর্শকদের অনুরোধের আসর সরাসরি প্রচার করা হচ্ছিল। ইফতারের তখনও প্রায় ঘণ্টা বাকি। এক দর্শক ফোন করার পর উপস্থাপক জানতে চাইলেন, আপনি কী শুনতে চান, বলুন!

রোজা রেখে ক্লান্ত দর্শকের কাতর কণ্ঠে আকুতি ছিল, “আমি মাগরিকের আজান শুনতে চাই!”

লেখক: কাতার প্রবাসী তরুণ সাংবাদিক ও লেখক

নিউজওয়ান২৪.কম/একে

নিউজওয়ান২৪.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: